ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

মেডিক্যাল ভর্তি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত চেয়ারম্যান, চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার ৯

বিভিন্ন সময় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানসহ পাঁচ চিকিৎসক আছেন। সিআইডির দাবি, ইউপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন ফাঁসের গুরুত্বপূর্ণ হোতাদের একজন।

আজ বৃহস্পতিবার সিআইডির মুখপাত্র পুলিশ সুপার আজাদ রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অব্যাহত অভিযানের অংশ হিসেবে গত সোমবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঢাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিটস কোচিংয়ের পরিচালক আবদুল হাফিজ, চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ রাসেল, সোহানুর রহমান সোহান, তৌফিকুল হাসান এবং রায়হানুল ইসলাম সোহান ও বকুল রায়। এই সাতজন ছাড়া ঢাকায় পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চিকিৎসক ফয়সাল হোসেন বাদশা ও ইবরার আলমকে।

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাঁদের কাছে থেকে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অসাধু উপায়ে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নাম পাওয়া গেছে।সিআইডি জানায়, এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নুর গোপন ডায়েরি থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অন্য সদস্যদের বিষয়ে জানতে পারে সিআইডি। গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ ২০১০ সাল থেকে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত। তিনি চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

২০১৭ সালের মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের একটি মামলায় সাজ্জাদ এজাহারনামীয় আসামি। তিনি উত্তরবঙ্গের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উপায়ে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন।আবদুল হাফিজ কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক। সোহানুর রহমান ২০১৩ সালে হাফিজের কাছে থেকে প্রশ্নপত্র পেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে ভর্তি হন। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে পার্বতীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন।

ফয়সাল আহমেদ চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনের মাধ্যমে ২০১০ সালে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। এরপর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সার্ভেইলান্স মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ফয়সাল নিজেও পরে প্রশ্ন ফাঁসের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

তৌফিকুল ইসলাম রংপুর মেডিক্যাল থেকে পাস করেছেন। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চিকিৎক জিল্লুর হাসান রনির তিনি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন। রনিকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। একই মেডিক্যাল থেকে পাস করা ইবরার আলমও সহযোগী ছিলেন রনির। ইবরার ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে রনির মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করেন। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন মেডিক্যালে সুযোগ পেয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি রায়হানুল ইসলাম সোহান ও বকুল রায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা। দুজনই একই স্কুলে পড়ার সুবাদে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রায়হানুল ২০১৫ সালে এক মামার মাধ্যমে মেডিক্যালের ফাঁসকৃত প্রশ্ন পান ও বকুলকে সরবরাহ করেন। বকুল ভর্তীচ্ছু চার ছোট ভাইয়ের কাছে সে প্রশ্নপত্র বিক্রি করেন। ওই চারজনই বিভিন্ন মেডিক্যালে সুযোগ পেয়েছেন।

সাইফুল আলম বাদশা ২০১০ সালে সাজ্জাদ হোসেনের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। এরপর প্রশ্ন ফাঁস ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে তিনি একাধিক শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে মেডিক্যাল ভর্তি করান।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে থেকে আলামত হিসেবে ৯টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জব্দ করেছে সিআইডি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

মেডিক্যাল ভর্তি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত চেয়ারম্যান, চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার ৯

আপডেট টাইম : ০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩
বিভিন্ন সময় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানসহ পাঁচ চিকিৎসক আছেন। সিআইডির দাবি, ইউপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন ফাঁসের গুরুত্বপূর্ণ হোতাদের একজন।

আজ বৃহস্পতিবার সিআইডির মুখপাত্র পুলিশ সুপার আজাদ রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অব্যাহত অভিযানের অংশ হিসেবে গত সোমবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঢাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিটস কোচিংয়ের পরিচালক আবদুল হাফিজ, চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ রাসেল, সোহানুর রহমান সোহান, তৌফিকুল হাসান এবং রায়হানুল ইসলাম সোহান ও বকুল রায়। এই সাতজন ছাড়া ঢাকায় পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চিকিৎসক ফয়সাল হোসেন বাদশা ও ইবরার আলমকে।

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাঁদের কাছে থেকে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অসাধু উপায়ে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নাম পাওয়া গেছে।সিআইডি জানায়, এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নুর গোপন ডায়েরি থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অন্য সদস্যদের বিষয়ে জানতে পারে সিআইডি। গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ ২০১০ সাল থেকে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত। তিনি চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

২০১৭ সালের মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের একটি মামলায় সাজ্জাদ এজাহারনামীয় আসামি। তিনি উত্তরবঙ্গের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উপায়ে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন।আবদুল হাফিজ কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক। সোহানুর রহমান ২০১৩ সালে হাফিজের কাছে থেকে প্রশ্নপত্র পেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে ভর্তি হন। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে পার্বতীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন।

ফয়সাল আহমেদ চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনের মাধ্যমে ২০১০ সালে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। এরপর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সার্ভেইলান্স মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ফয়সাল নিজেও পরে প্রশ্ন ফাঁসের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

তৌফিকুল ইসলাম রংপুর মেডিক্যাল থেকে পাস করেছেন। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চিকিৎক জিল্লুর হাসান রনির তিনি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন। রনিকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। একই মেডিক্যাল থেকে পাস করা ইবরার আলমও সহযোগী ছিলেন রনির। ইবরার ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে রনির মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করেন। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন মেডিক্যালে সুযোগ পেয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি রায়হানুল ইসলাম সোহান ও বকুল রায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা। দুজনই একই স্কুলে পড়ার সুবাদে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রায়হানুল ২০১৫ সালে এক মামার মাধ্যমে মেডিক্যালের ফাঁসকৃত প্রশ্ন পান ও বকুলকে সরবরাহ করেন। বকুল ভর্তীচ্ছু চার ছোট ভাইয়ের কাছে সে প্রশ্নপত্র বিক্রি করেন। ওই চারজনই বিভিন্ন মেডিক্যালে সুযোগ পেয়েছেন।

সাইফুল আলম বাদশা ২০১০ সালে সাজ্জাদ হোসেনের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। এরপর প্রশ্ন ফাঁস ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে তিনি একাধিক শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে মেডিক্যাল ভর্তি করান।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে থেকে আলামত হিসেবে ৯টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জব্দ করেছে সিআইডি।