ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে : ড. মঈন খান গাজার যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা

প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে আতিকের পথচলা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  সচেতনতার অভাবে আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীদের এখনো অনেকে বোঝা মনে করেন, অনেকে আবার অজ্ঞতায় ভাবে প্রতিবন্ধীরা অভিশাপ। তাদের দিয়ে হয়তো ভালো কিছু করাও সম্ভব না। কিংবা সমাজের জন্য ভালো কিছু করার মতো তেমন কোনো সামর্থ্যও নেই তাদের। আমাদের ঘুনে ধরা সমাজটাতে এসব ধারণা নেহাতই কল্পনা নয়, বরং খুবই বাস্তব।

আমরা যখন আনাদরে বাহ্যিক দৃষ্টিতে না দেখে অন্তরদৃষ্টিতে একজন প্রতিবন্ধীকে দেখার চেষ্টা করি তখন বুঝতে পারি একজন প্রতিভাবান যোগ্য মানুষকে এত দিন আমরা চোখের সামনে রেখেও দেখতে পাইনি। আর এ রকমই একজন মানুষ আতিকুল ইসলাম আতিক। প্রতিবন্ধীরা যে সুযোগ আর একটু সহযোগিতা পেলেই মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ আতিক।

সমাজের অন্যান্য সব মানুষের মতো হয়তো সম্পূর্ণ না আতিক, কিন্তু অসম্পূর্ণ হওয়ার দুর্ভাগ্যও তাকে থামাতে পারেনি। মনোবল আর সাহস যার সঙ্গী, তাকে ঠেকায় কার সাধ্য! বরং আতিকের কাছেই পরাস্ত হয়েছে সকল বাধা, সকল বিপত্তি।

একসময়ে অজপাড়া গাঁয়ে সকলের কাছে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়া আতিক আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববদ্যিালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এর গ্র্যাজুয়েট। ছোটবেলায় গ্রামের লোকাজন তাকে অবহেলা করত, তাচ্ছিল্য করত অথবা করত করুণা। কিন্তু সেদিনের সেই আতিক প্রমাণ করে দিয়েছেন অবহেলা আর ঠাট্টার জবাব মুখে নয়, দিতে হয় নিজের কাজ দিয়ে। নিজের মেধায়, নিজের যোগ্যতায় আতিক নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন।

বাবা-মায়ের উৎসাহ আর নিজের আগ্রহে ২০০৮ সালে কাটাখালী হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন আতিক। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মেধা তালিকায় ৩৬ তম হয়ে ভর্তি হয়ছিলেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগে।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যখন তার আগমন সকলইে ভাবত তাকে দিয়ে হয়তো এ জীবনে কিছুই হবে না। কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বিবিএ বিভাগে প্রথম শ্রেণি নিয়ে স্নাতক শেষ করেছেন তিনি। এখন পড়ছেন এমবিএতে।

মেধা নয় শুধু, মনন আর গুণপনায় কম যায় না আতিক পড়ালেখার পাশাপাশি বিতর্ক, আবৃত্তি, গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। সৎসঙ্গ নামে একটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছেন আতিক যেখানে প্রায় ২০০ ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করে।

শুধু বাচ্চাদের স্কুলই নয় আতিক ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো সংগঠন নেই বলে তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। আতিক তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করতে চান।

সবশেষে বললেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। বললেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করব। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই আমি। বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এডমিন ক্যাডারে চাকরি করার ইচ্ছে আমার। সেই পথেই দিন-রাত হাঁটছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে : ড. মঈন খান

প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে আতিকের পথচলা

আপডেট টাইম : ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  সচেতনতার অভাবে আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীদের এখনো অনেকে বোঝা মনে করেন, অনেকে আবার অজ্ঞতায় ভাবে প্রতিবন্ধীরা অভিশাপ। তাদের দিয়ে হয়তো ভালো কিছু করাও সম্ভব না। কিংবা সমাজের জন্য ভালো কিছু করার মতো তেমন কোনো সামর্থ্যও নেই তাদের। আমাদের ঘুনে ধরা সমাজটাতে এসব ধারণা নেহাতই কল্পনা নয়, বরং খুবই বাস্তব।

আমরা যখন আনাদরে বাহ্যিক দৃষ্টিতে না দেখে অন্তরদৃষ্টিতে একজন প্রতিবন্ধীকে দেখার চেষ্টা করি তখন বুঝতে পারি একজন প্রতিভাবান যোগ্য মানুষকে এত দিন আমরা চোখের সামনে রেখেও দেখতে পাইনি। আর এ রকমই একজন মানুষ আতিকুল ইসলাম আতিক। প্রতিবন্ধীরা যে সুযোগ আর একটু সহযোগিতা পেলেই মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ আতিক।

সমাজের অন্যান্য সব মানুষের মতো হয়তো সম্পূর্ণ না আতিক, কিন্তু অসম্পূর্ণ হওয়ার দুর্ভাগ্যও তাকে থামাতে পারেনি। মনোবল আর সাহস যার সঙ্গী, তাকে ঠেকায় কার সাধ্য! বরং আতিকের কাছেই পরাস্ত হয়েছে সকল বাধা, সকল বিপত্তি।

একসময়ে অজপাড়া গাঁয়ে সকলের কাছে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়া আতিক আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববদ্যিালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এর গ্র্যাজুয়েট। ছোটবেলায় গ্রামের লোকাজন তাকে অবহেলা করত, তাচ্ছিল্য করত অথবা করত করুণা। কিন্তু সেদিনের সেই আতিক প্রমাণ করে দিয়েছেন অবহেলা আর ঠাট্টার জবাব মুখে নয়, দিতে হয় নিজের কাজ দিয়ে। নিজের মেধায়, নিজের যোগ্যতায় আতিক নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন।

বাবা-মায়ের উৎসাহ আর নিজের আগ্রহে ২০০৮ সালে কাটাখালী হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন আতিক। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মেধা তালিকায় ৩৬ তম হয়ে ভর্তি হয়ছিলেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগে।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যখন তার আগমন সকলইে ভাবত তাকে দিয়ে হয়তো এ জীবনে কিছুই হবে না। কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বিবিএ বিভাগে প্রথম শ্রেণি নিয়ে স্নাতক শেষ করেছেন তিনি। এখন পড়ছেন এমবিএতে।

মেধা নয় শুধু, মনন আর গুণপনায় কম যায় না আতিক পড়ালেখার পাশাপাশি বিতর্ক, আবৃত্তি, গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। সৎসঙ্গ নামে একটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছেন আতিক যেখানে প্রায় ২০০ ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করে।

শুধু বাচ্চাদের স্কুলই নয় আতিক ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো সংগঠন নেই বলে তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। আতিক তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করতে চান।

সবশেষে বললেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। বললেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করব। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই আমি। বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এডমিন ক্যাডারে চাকরি করার ইচ্ছে আমার। সেই পথেই দিন-রাত হাঁটছি।