ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অনুসন্ধানে দুদক আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের দেওয়া হচ্ছে সর্বাধুনিক অস্ত্র: ট্রাম্প কাল থেকে কারখানায় চাহিদানুযায়ী মিলবে গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যবসায়ীদের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত রাজধানীর আবাসিক হোটেল নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা ভারতের সঙ্গে মর্যাদার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ: স্পিকার নতুন সরকারের প্রথম সচিব সভা মঙ্গলবার, যা থাকছে আলোচ্যসূচিতে গ্রেট ওয়াল আল্ট্রা-ট্রেইল রেসে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ইমামুর রহমান ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি: জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ৮০ উপজেলায় ভোট শুরু ১২ নভেম্বর

সোহাগ হত্যাকাণ্ড দুইডাই খারাপ আছিল বাবুল হেগো গডফাদার

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের ১ নম্বর গেট রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য সব সময় খোলা থাকে। ৩ নম্বর গেট বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকার কারণে এই গেটের সামনে দুই পাশে ফুটপাতে বেশ কয়েকটি ভাসমান দোকান রয়েছে। গেটের বিপরীত পাশে রাস্তার ওপারে পুরোনো ভবনগুলোতে ফার্মেসি, প্লাস্টিক সামগ্রী ও খাবারের হোটেল রয়েছে। গেটের সামনে মিটফোর্ড রোড ধরে অনুমানিক ২০০ মিটার হেঁটে গেলে হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের দেওয়াল ঘেঁষে বামপাশে একটি গলি। সড়কটির নাম রজনী বোস লেন। এই সড়কে ঢুকে দুটি পুরোনো ভবন পার হলেই তিন তলা একটি ভবনের হোল্ডিংস নম্বর ৪, রজনী বোস লেন। এই ভবনের নিচতলায় একটি দোকানের নাম সোহানা মেটাল। এই সোহানা মেটালের মালিক ছিলেন লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ। যাকে গত ১৬ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ইট ও কংক্রিটের ব্লক দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুরের দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ফুটপাতে কয়েক জন ভাসমান দোকানদারের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। একজন দোকানদার বলেন, ‘ঐ দিন বিকালে গেটের ভেতর দৌড়ঝাঁপ দেখি। কয়েক জন যুবক সোহাগকে ধাওয়া দিচ্ছে আর মাঝেমধ্যেই মারধর করছে। পরে দেখি ওরা সবাই পরিচিত এই এলাকার। এরাই এই এলাকায় নিজেদের মধ্যে চাঁদাবাজি মিলেমিশে নিয়ন্ত্রণ করে।’

মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে একজন ডাব বিক্রেতা বলেন, ‘হ্যারা তো দুই বন্ধু আছিল। এক প্লেটে হ্যারা খাইত। কী থেকে কী হইয়া গেল। শুনছি সোহাগের তারের ব্যবসায় ভাগ বসাইতে চাইছিল মহিন। মহিন নাকি মিটফোর্ড রোডের দোকানের চান্দা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে দুইডাই খারাপ আছিল। হ্যাগো আরেক বড় ভাই আছে। বাবুল তো হেগো আবার গডফাদার।’ বাবুলের নাম পরিচয় জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননি।

মিটফোর্ড, বাবুবাজার, আরমানিটোলা, আলুবাজার, বংশাল, তাঁতীবাজার, শরৎচন্দ্র রোড, কাজী আলাউদ্দিন রোড এলাকায় শত শত ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকান, পাইকারি আড়ত, রেস্টুরেন্ট ও ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় যুবদলের একটি গ্রুপ। প্রতি মাসে কোটি টাকা চাঁদা ওঠে এসব এলাকায়। মহিনের গ্রুপ মাসে ৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে। সোহাগের কাছেও চোরাই তামার তারের ব্যবসার চাঁদা চেয়েছিল মহিনের গ্রুপ। গত ২৩ জুন চাঁদাবাজি নিয়ে মহিন গ্রুপের হাতে সোহাগ গ্রুপের মিশু মারধরের শিকার হয়। এর পর থেকেই সোহাগের সঙ্গে মহিন প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। আর এর জের ধরেই ১৬ জুলাই বিকালে সোহাগকে হত্যা করা হয়।

ব্ল‍্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে: সোহাগ হত্যার

ভিডিও ভাইরাল হলে তার নিথর দেহের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে নৃশংসতা চালানোর দৃশ্য সবাইকে হতভম্ব করে। পাথর নিক্ষেপের পর মরদেহের ওপর লাফিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় খুনিদের। আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে মিটফোর্ড গেটে নিয়ে হত্যা করা হয় সোহাগকে। এরপর মব নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে কিলিং মিশনের কেউ কেউ পুঞ্জীভূত ক্ষোভে হামলে পড়েছিলেন সোহাগের ওপর। যারা বিভিন্ন কারণে অতীতে সোহাগের নির্যাতন অথবা ব্ল‍্যাকমেইলের শিকার হয়েছিলেন। তাদেরই একজন মো. রিজওয়ান উদ্দিন অভি। ভিডিওতে পাথর নিক্ষেপের পরে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

যে কারণে লাশের ওপর তাণ্ডব চালায় মো. রিজওয়ান উদ্দিন অভির বাবার নাম মনোরঞ্জন বসু ও মায়ের নাম বিউটি দেব মিলা। ফেসবুকে সুরভী নামে রাজবাড়ীর এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান অভি। প্রেমের টানে ২০১৭ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে সুরভীকে বিয়ে করেন। এরপর আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটে একটি খাবারের দোকান দেন। ঐ দোকান থেকে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হতো। এরই মধ্যে স্ত্রীর পছন্দমতো কেরানীগঞ্জে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করেন অভি। সেখান থেকে যা ভাড়া আসত আর দোকানের আয় দিয়ে ভালো মতোই চলে যেত তাদের সংসার।

এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগ এক দিন অভির দোকানে গিয়ে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বলেন। কিন্তু অভি চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন সোহাগ। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মোবাইল ফিরিয়ে দেন সোহাগ। কিন্তু অভি ও তার স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেখে দিয়ে ব্ল‍্যাকমেইল করতে থাকেন সোহাগ। ধাপে ধাপে অভির কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকাও নেন। এক পর্যায়ে সোহাগের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৩ সালের শুরুতে মালয়েশিয়া চলে যান অভি। গত বছরের মে মাসে হুট করেই তার স্ত্রী সুরভীর আত্মহত্যার খবরে দেশে ফিরে আসেন।

স্ত্রীর সঙ্গে কখনো ঝগড়া না হওয়ায় এবং সংসারে অভাব না থাকায় কিছুতেই আত্মহত্যার ঘটনা মানতে পারছিল না অভি। স্ত্রীর মোবাইল ঘেঁটে আত্মহত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে লালবাগ এলাকার কেউ সুরভীকে বারবার কল দিত বলে নিশ্চিত হন তিনি। এরপর থেকেই সোহাগকে এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী হিসেবে ভাবতে থাকে অভি। আর অপেক্ষায় থাকে সোহাগকে শিক্ষা দেওয়ার। মিটফোর্ডে যেদিন সোহাগকে হত্যা করা হয় সেদিন লম্বা মনির ফোনে অভিকে জানান, আজ সোহাগকে ধরা হবে। এ খবর পাওয়ার পর অভি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখে সোহাগকে পেটানো হচ্ছে। এ সময় নিজের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে সে পাথর দিয়ে তাণ্ডব চালায়। যদিও বুধবার আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে আসামি অভি বলেছে, শুধু দূর থেকে একটি ছোট্ট পাথর নিক্ষেপ করেছি। আমি আঘাত করিনি।

আসামির তালিকায় তিন জনের নাম বাদ: মামলার বাদী নিহত সোহাগের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি আসামিদের তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তালিকা থেকে তিন জনের নাম বাদ দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘তালিকা থেকে বাদ দেওয়া আসামিরা হলেন-কাইয়ুম মোল্লা (৪৫), রাকেশ (৩৫) ও রহিম (৩৬)। এই তিন জনের নাম বাদ দিয়ে সেখানে হিম্মত আলী (২৪), সাবা করিম লাকী (৪৫) ও রজব আলী পিন্টু (৪৬) এই তিন জনের নাম ঢোকানো হয়েছে। নতুন করে দেওয়া এই তিন জন ঘটনাস্থলে ছিলেন না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

অনুসন্ধানে দুদক আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

সোহাগ হত্যাকাণ্ড দুইডাই খারাপ আছিল বাবুল হেগো গডফাদার

আপডেট টাইম : ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের ১ নম্বর গেট রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য সব সময় খোলা থাকে। ৩ নম্বর গেট বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকার কারণে এই গেটের সামনে দুই পাশে ফুটপাতে বেশ কয়েকটি ভাসমান দোকান রয়েছে। গেটের বিপরীত পাশে রাস্তার ওপারে পুরোনো ভবনগুলোতে ফার্মেসি, প্লাস্টিক সামগ্রী ও খাবারের হোটেল রয়েছে। গেটের সামনে মিটফোর্ড রোড ধরে অনুমানিক ২০০ মিটার হেঁটে গেলে হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের দেওয়াল ঘেঁষে বামপাশে একটি গলি। সড়কটির নাম রজনী বোস লেন। এই সড়কে ঢুকে দুটি পুরোনো ভবন পার হলেই তিন তলা একটি ভবনের হোল্ডিংস নম্বর ৪, রজনী বোস লেন। এই ভবনের নিচতলায় একটি দোকানের নাম সোহানা মেটাল। এই সোহানা মেটালের মালিক ছিলেন লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ। যাকে গত ১৬ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ইট ও কংক্রিটের ব্লক দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুরের দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ফুটপাতে কয়েক জন ভাসমান দোকানদারের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। একজন দোকানদার বলেন, ‘ঐ দিন বিকালে গেটের ভেতর দৌড়ঝাঁপ দেখি। কয়েক জন যুবক সোহাগকে ধাওয়া দিচ্ছে আর মাঝেমধ্যেই মারধর করছে। পরে দেখি ওরা সবাই পরিচিত এই এলাকার। এরাই এই এলাকায় নিজেদের মধ্যে চাঁদাবাজি মিলেমিশে নিয়ন্ত্রণ করে।’

মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে একজন ডাব বিক্রেতা বলেন, ‘হ্যারা তো দুই বন্ধু আছিল। এক প্লেটে হ্যারা খাইত। কী থেকে কী হইয়া গেল। শুনছি সোহাগের তারের ব্যবসায় ভাগ বসাইতে চাইছিল মহিন। মহিন নাকি মিটফোর্ড রোডের দোকানের চান্দা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে দুইডাই খারাপ আছিল। হ্যাগো আরেক বড় ভাই আছে। বাবুল তো হেগো আবার গডফাদার।’ বাবুলের নাম পরিচয় জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননি।

মিটফোর্ড, বাবুবাজার, আরমানিটোলা, আলুবাজার, বংশাল, তাঁতীবাজার, শরৎচন্দ্র রোড, কাজী আলাউদ্দিন রোড এলাকায় শত শত ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকান, পাইকারি আড়ত, রেস্টুরেন্ট ও ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় যুবদলের একটি গ্রুপ। প্রতি মাসে কোটি টাকা চাঁদা ওঠে এসব এলাকায়। মহিনের গ্রুপ মাসে ৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে। সোহাগের কাছেও চোরাই তামার তারের ব্যবসার চাঁদা চেয়েছিল মহিনের গ্রুপ। গত ২৩ জুন চাঁদাবাজি নিয়ে মহিন গ্রুপের হাতে সোহাগ গ্রুপের মিশু মারধরের শিকার হয়। এর পর থেকেই সোহাগের সঙ্গে মহিন প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। আর এর জের ধরেই ১৬ জুলাই বিকালে সোহাগকে হত্যা করা হয়।

ব্ল‍্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে: সোহাগ হত্যার

ভিডিও ভাইরাল হলে তার নিথর দেহের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে নৃশংসতা চালানোর দৃশ্য সবাইকে হতভম্ব করে। পাথর নিক্ষেপের পর মরদেহের ওপর লাফিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় খুনিদের। আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে মিটফোর্ড গেটে নিয়ে হত্যা করা হয় সোহাগকে। এরপর মব নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে কিলিং মিশনের কেউ কেউ পুঞ্জীভূত ক্ষোভে হামলে পড়েছিলেন সোহাগের ওপর। যারা বিভিন্ন কারণে অতীতে সোহাগের নির্যাতন অথবা ব্ল‍্যাকমেইলের শিকার হয়েছিলেন। তাদেরই একজন মো. রিজওয়ান উদ্দিন অভি। ভিডিওতে পাথর নিক্ষেপের পরে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

যে কারণে লাশের ওপর তাণ্ডব চালায় মো. রিজওয়ান উদ্দিন অভির বাবার নাম মনোরঞ্জন বসু ও মায়ের নাম বিউটি দেব মিলা। ফেসবুকে সুরভী নামে রাজবাড়ীর এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান অভি। প্রেমের টানে ২০১৭ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে সুরভীকে বিয়ে করেন। এরপর আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটে একটি খাবারের দোকান দেন। ঐ দোকান থেকে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হতো। এরই মধ্যে স্ত্রীর পছন্দমতো কেরানীগঞ্জে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করেন অভি। সেখান থেকে যা ভাড়া আসত আর দোকানের আয় দিয়ে ভালো মতোই চলে যেত তাদের সংসার।

এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগ এক দিন অভির দোকানে গিয়ে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বলেন। কিন্তু অভি চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন সোহাগ। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মোবাইল ফিরিয়ে দেন সোহাগ। কিন্তু অভি ও তার স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেখে দিয়ে ব্ল‍্যাকমেইল করতে থাকেন সোহাগ। ধাপে ধাপে অভির কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকাও নেন। এক পর্যায়ে সোহাগের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৩ সালের শুরুতে মালয়েশিয়া চলে যান অভি। গত বছরের মে মাসে হুট করেই তার স্ত্রী সুরভীর আত্মহত্যার খবরে দেশে ফিরে আসেন।

স্ত্রীর সঙ্গে কখনো ঝগড়া না হওয়ায় এবং সংসারে অভাব না থাকায় কিছুতেই আত্মহত্যার ঘটনা মানতে পারছিল না অভি। স্ত্রীর মোবাইল ঘেঁটে আত্মহত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে লালবাগ এলাকার কেউ সুরভীকে বারবার কল দিত বলে নিশ্চিত হন তিনি। এরপর থেকেই সোহাগকে এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী হিসেবে ভাবতে থাকে অভি। আর অপেক্ষায় থাকে সোহাগকে শিক্ষা দেওয়ার। মিটফোর্ডে যেদিন সোহাগকে হত্যা করা হয় সেদিন লম্বা মনির ফোনে অভিকে জানান, আজ সোহাগকে ধরা হবে। এ খবর পাওয়ার পর অভি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখে সোহাগকে পেটানো হচ্ছে। এ সময় নিজের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে সে পাথর দিয়ে তাণ্ডব চালায়। যদিও বুধবার আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে আসামি অভি বলেছে, শুধু দূর থেকে একটি ছোট্ট পাথর নিক্ষেপ করেছি। আমি আঘাত করিনি।

আসামির তালিকায় তিন জনের নাম বাদ: মামলার বাদী নিহত সোহাগের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি আসামিদের তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তালিকা থেকে তিন জনের নাম বাদ দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘তালিকা থেকে বাদ দেওয়া আসামিরা হলেন-কাইয়ুম মোল্লা (৪৫), রাকেশ (৩৫) ও রহিম (৩৬)। এই তিন জনের নাম বাদ দিয়ে সেখানে হিম্মত আলী (২৪), সাবা করিম লাকী (৪৫) ও রজব আলী পিন্টু (৪৬) এই তিন জনের নাম ঢোকানো হয়েছে। নতুন করে দেওয়া এই তিন জন ঘটনাস্থলে ছিলেন না।’