ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

অনিয়মের অভিযোগে ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিরাপত্তা ঘাটতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ‘বিনিময়’-কে বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি চালু করতে তাদের উপর চাপে ফেলা হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ না মেলায় ও একাধিক অনিয়মের কারণে শেষ পর্যন্ত এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মধ্যে অর্থ লেনদেন সহজ করতে ‘বিনিময়’ চালু করা হয়।

তৎকালীন সরকারের আমলে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ একাডেমি (আইডিইএ) প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি তৈরি করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘চুক্তির শর্ত বিশ্লেষণের সুযোগ না দিয়েই আমাদের সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল।’

তার ভাষ্য, ‘আমাদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই পুরো ডকুমেন্টেশন তৈরি করা হয়েছিল। কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্ল্যাটফর্মটি চালানো সম্ভব ছিল না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নির্ধারিত ফি দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করা হয়নি। ফলে আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী তারা সেবাটি স্থগিত করেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের এক চুক্তির আওতায় ‘বিনিময়’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুঝতে পারে, এতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অনেক অসংগতি রয়েছে।

গত সাত-আট মাসে কোন অর্থও পরিশোধ করা হয়নি।এর আগে সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউসিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকসহ আটটি ব্যাংক প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছিল। এমএফএস সেবাদাতাদের মধ্যে ছিল বিকাশ, রকেট ও এমক্যাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ইউপিআই মডেলের আদলে তৈরি হলেও ‘বিনিময়’ জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ব্যবহারবান্ধব ফিচারের অভাব, পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকা এবং ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহই এর মূল কারণ।

বে এ খাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ ব্যাংক। গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠান মোজালুপের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন একটি আন্তঃব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরেই এটি চালুর আশা করছে তারা।

আরিফ হোসেন খান জানান, ‘নতুন প্ল্যাটফর্মের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। কিছু তথ্য-উপাত্ত দিতে হচ্ছে, আমরা দ্রুত সব সরবরাহ করছি। আশা করছি শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি হবে।’

বিনিময় বন্ধ হলেও ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর থেমে থাকছে না। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—এখন একটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন গতি আনবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

অনিয়মের অভিযোগে ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট টাইম : ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
নিরাপত্তা ঘাটতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ‘বিনিময়’-কে বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি চালু করতে তাদের উপর চাপে ফেলা হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ না মেলায় ও একাধিক অনিয়মের কারণে শেষ পর্যন্ত এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মধ্যে অর্থ লেনদেন সহজ করতে ‘বিনিময়’ চালু করা হয়।

তৎকালীন সরকারের আমলে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ একাডেমি (আইডিইএ) প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি তৈরি করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘চুক্তির শর্ত বিশ্লেষণের সুযোগ না দিয়েই আমাদের সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল।’

তার ভাষ্য, ‘আমাদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই পুরো ডকুমেন্টেশন তৈরি করা হয়েছিল। কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্ল্যাটফর্মটি চালানো সম্ভব ছিল না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নির্ধারিত ফি দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করা হয়নি। ফলে আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী তারা সেবাটি স্থগিত করেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের এক চুক্তির আওতায় ‘বিনিময়’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুঝতে পারে, এতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অনেক অসংগতি রয়েছে।

গত সাত-আট মাসে কোন অর্থও পরিশোধ করা হয়নি।এর আগে সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউসিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকসহ আটটি ব্যাংক প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছিল। এমএফএস সেবাদাতাদের মধ্যে ছিল বিকাশ, রকেট ও এমক্যাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ইউপিআই মডেলের আদলে তৈরি হলেও ‘বিনিময়’ জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ব্যবহারবান্ধব ফিচারের অভাব, পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকা এবং ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহই এর মূল কারণ।

বে এ খাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ ব্যাংক। গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠান মোজালুপের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন একটি আন্তঃব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরেই এটি চালুর আশা করছে তারা।

আরিফ হোসেন খান জানান, ‘নতুন প্ল্যাটফর্মের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। কিছু তথ্য-উপাত্ত দিতে হচ্ছে, আমরা দ্রুত সব সরবরাহ করছি। আশা করছি শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি হবে।’

বিনিময় বন্ধ হলেও ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর থেমে থাকছে না। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—এখন একটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন গতি আনবে।