ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় ভারতীয় গণমাধ্যম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে মঈন খানকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন মির্জা আব্বাস সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ইমাম সমাজ সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারা রুমিকে গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর সরাইলের ঘটনায় মামলা হলে আমাকেই যেন প্রধান আসামি করা হয় ১১ জেলের কাছ থেকে উদ্ধার ৬০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ

মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান, ফিফার শাস্তির মুখে স্পেন

মিসরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেয় স্বাগতিক স্পেনের সমর্থকরা। যা নিয়ে তাদেরকে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সতর্কও করেছে। ওই ঘটনায় এবার রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ফিফা। এক্ষেত্রে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আর্থিক জরিমানা, দর্শকশূন্য মাঠে খেলা কিংবা ওই স্টেডিয়ামকে সাময়িক সময়ের নিষিদ্ধ করার মতো শাস্তি হতে পারে।

গত ৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফিফা উইন্ডোতে মুখোমুখি হয় স্পেন-মিসর। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। যদিও ৮৪ মিনিটে মিশরীয় মিডফিল্ডার হামদি ফাতহি লাল কার্ড দেখায় তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল। তবুও সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেডলক ভাঙতে পারেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উল্টো স্বদেশি সমর্থকদের আচরণে তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। প্রথমার্ধে মুসলিম বিরোধী শোরগোল তুলতে শোনা যায় স্প্যানিশ সমর্থকদের।

একাধিকবার বিতর্কিত ওই ঘটনার পর খেলার বিরতিতে দর্শকদের সতর্ক করে জায়ান্ট স্ক্রিনে বার্তা দেয় এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিস বাজানোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই বার্তা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, যেকোনো বিদ্বেষী আচরণ ও গান গাওয়া থেকে দর্শকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে– ‘ফুটবলে সকল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আরএফইএফ। একইসঙ্গে স্টেডিয়ামে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের নিন্দা জানাচ্ছে।’

এর আগে মিসরের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচ চলাকালে বেশ কয়েকবার দর্শকদের একাংশ গাইতে থাকে– ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম।’ এ ছাড়া বিরতির সময় মিসরীয় ফুটবলাররা হাঁটু গেড়ে বসা ও মাঠে চুমু দেওয়ার সময় তাদের উদ্দেশে শিস বাজায় কেউ কেউ। স্পেনের প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের হেয় করাই যে এর উদ্দেশ্য তা বিস্তারিত বলা বাহুল্য। খেলা শেষে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের সমাজচ্যুত করার দাবি তুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ওই ঘটনায় স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন বলছে, বিশ্ব ফুটবল গভর্নিং বডি ফিফা ওই ম্যাচের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ এবং রেফারি, ম্যাচ পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের মাধ্যমে তা পর্যালোচনা করেছে। যার ভিত্তিতে আরএফইএফ–এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা, যার সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় জরিমানা এবং স্টেডিয়াম নিষিদ্ধ করে দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে।

Spain’s FA condemns Islamophobic chants during game with Egypt

ফিফার এক মুখপাত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছেন, ‘মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সংঘটিত ঘটনায় ফিফা আরএফইএফ–এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’ এ ছাড়া স্পেন-মিসর ম্যাচ চলাকালে হওয়া ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবিদ্বেষী স্লোগান’ নিয়ে তদন্ত করছে বার্সেলোনার স্থানীয় পুলিশের শাখা মোসোস। এর আগে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল এক বার্তায় বলেন, ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদের পরিচয় বহন করে। আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় ভারতীয় গণমাধ্যম

মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান, ফিফার শাস্তির মুখে স্পেন

আপডেট টাইম : ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মিসরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেয় স্বাগতিক স্পেনের সমর্থকরা। যা নিয়ে তাদেরকে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সতর্কও করেছে। ওই ঘটনায় এবার রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ফিফা। এক্ষেত্রে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আর্থিক জরিমানা, দর্শকশূন্য মাঠে খেলা কিংবা ওই স্টেডিয়ামকে সাময়িক সময়ের নিষিদ্ধ করার মতো শাস্তি হতে পারে।

গত ৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফিফা উইন্ডোতে মুখোমুখি হয় স্পেন-মিসর। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। যদিও ৮৪ মিনিটে মিশরীয় মিডফিল্ডার হামদি ফাতহি লাল কার্ড দেখায় তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল। তবুও সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেডলক ভাঙতে পারেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উল্টো স্বদেশি সমর্থকদের আচরণে তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। প্রথমার্ধে মুসলিম বিরোধী শোরগোল তুলতে শোনা যায় স্প্যানিশ সমর্থকদের।

একাধিকবার বিতর্কিত ওই ঘটনার পর খেলার বিরতিতে দর্শকদের সতর্ক করে জায়ান্ট স্ক্রিনে বার্তা দেয় এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিস বাজানোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই বার্তা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, যেকোনো বিদ্বেষী আচরণ ও গান গাওয়া থেকে দর্শকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে– ‘ফুটবলে সকল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আরএফইএফ। একইসঙ্গে স্টেডিয়ামে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের নিন্দা জানাচ্ছে।’

এর আগে মিসরের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচ চলাকালে বেশ কয়েকবার দর্শকদের একাংশ গাইতে থাকে– ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম।’ এ ছাড়া বিরতির সময় মিসরীয় ফুটবলাররা হাঁটু গেড়ে বসা ও মাঠে চুমু দেওয়ার সময় তাদের উদ্দেশে শিস বাজায় কেউ কেউ। স্পেনের প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের হেয় করাই যে এর উদ্দেশ্য তা বিস্তারিত বলা বাহুল্য। খেলা শেষে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের সমাজচ্যুত করার দাবি তুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ওই ঘটনায় স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন বলছে, বিশ্ব ফুটবল গভর্নিং বডি ফিফা ওই ম্যাচের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ এবং রেফারি, ম্যাচ পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের মাধ্যমে তা পর্যালোচনা করেছে। যার ভিত্তিতে আরএফইএফ–এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা, যার সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় জরিমানা এবং স্টেডিয়াম নিষিদ্ধ করে দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে।

Spain’s FA condemns Islamophobic chants during game with Egypt

ফিফার এক মুখপাত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছেন, ‘মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সংঘটিত ঘটনায় ফিফা আরএফইএফ–এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’ এ ছাড়া স্পেন-মিসর ম্যাচ চলাকালে হওয়া ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবিদ্বেষী স্লোগান’ নিয়ে তদন্ত করছে বার্সেলোনার স্থানীয় পুলিশের শাখা মোসোস। এর আগে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল এক বার্তায় বলেন, ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদের পরিচয় বহন করে। আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।