ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অকেজো ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পার্ক কার্যকরের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর দিল মুডিস উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এর জন্য জেমিনি অ্যাপ আনল গুগল ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথার চুল ফেলে যা বললেন ক্যনসার আক্রান্ত সামিয়া আফরিন সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে, কৃষক পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ৩ জন

নতুন সরকারের অনেক চ্যালেঞ্জ

নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বয়স এখনো দুই মাস পেরোয়নি। তবে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ভঙ্গুর অর্থনীতিসহ বেশির ভাগ চ্যালেঞ্জ বিগত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া। সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকটসহ কিছু চ্যালেঞ্জ নতুন করে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। তবে সরকার কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দেবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সরকারের এসব চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বাজেট প্রণয়নে কিছু পরামর্র্শ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। সিপিডি বলছে, নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি কৌশল থাকবে। তবে অর্থনীতি চাঙা এবং কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারকে মধ্যমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন সরকারকে তার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সম্পদ সংগ্রহ করা স্বল্পমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ; আগামী বাজেটেও এ চ্যালেঞ্জ থাকবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের চাপ, অন্যদিকে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা রক্ষা করতে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের চাপ থাকবে। কিন্তু এসব করতে গিয়ে যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো মনোযোগ না হারায় সে বিষয়ে সরকারকে সচেতন থাকতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেটি করতে না পারলে সরকার পথ হারাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনটিতে সিপিডি সামষ্টিক অর্থনীতির যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখছে তা হলো : উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন রাজস্ব আয়, বাজেট বাস্তবায়নে ধীরগতি, দেশিবিদেশি ঋণের চাপ, বিনিয়োগ স্থবিরতা, নেতিবাচক কর্মসংস্থান, নিম্নমুখী রপ্তানি এবং এলডিসি উত্তরণের চাপ।

সিপিডির মতে কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ক্রমাগত নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য বাজারব্যবস্থায় স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এটি দেশের লাখ লাখ পরিবারের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। অভ্যন্তরীণ এ চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে। সিপিডি বলছে, ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে যে টেনশন চলছে তা বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে; যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বাজেটে রাজস্ব নীতির সমন্বয় করার সুযোগ রয়েছে সরকারের সামনে, যাতে দেশের নিম্ন আয়ের ঝুঁকিতে পড়া মানুষকে চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির পেছনে চাহিদা এবং সরবরাহ এ দুই দিকেরই প্রভাব রয়েছে। এ কারণে মুদ্রানীতি এবং সুনির্দিষ্ট সরবরাহ খাত-এ দুই দিকেই সরকারকে নজর দিতে হবে। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি সরকারকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি খাতে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ সীমিত করে আর্থিক শৃঙ্খলা আনার দিকে নজর দিতে হবে। ভর্তুকি সুনির্র্দিষ্টকরণ, নিত্যপণ্যের শুল্ককর যৌক্তিকীকরণ, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা ছাড়াও স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নিতে হবে। বাজার তদারকি শক্তিশালী করার পাশাপাশি খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস), কৃষি উৎপাদনে সরকারের সহায়তা বৃদ্ধি, বিশেষ করে শস্য ভর্তুকি, শস্যবিমা, জলবায়ুসহনীয় ফলন, হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎনির্ভর সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগ সরবরাহ স্থিতিশীল এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, মৌসুমভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি চিহ্নিতকরণ, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করা, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসা, রাজস্ব ঘাটতি কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহীকরণের মতো উদ্যোগগুলোও দ্রব্যমূল্য কমানোর পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে সিপিডির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আসন্ন বাজেট প্রণয়নে ১১টি সুপারিশে গুরুত্ব দিতে বলেছে। এগুলো হলো : রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় আনা, বাস্তবসম্মত বাজেটকাঠামো, বাজার সুশাসন নিশ্চিত করা, এলডিসি উত্তরণের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শুল্ককর সাধারণীকরণ, ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগে ওয়ানস্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, বৃহৎ জেনারেটরভিত্তিক বিদ্যুৎ বিশেষ করে জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সরে আসা; জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, কৃষকের বিভিন্ন সুবিধা এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয় জরুরি। এ ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি চাহিদা কমানোর জন্য সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বাজেট ঘাটতি কমাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এ সংকটে একটি বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে, যা সরকারের কাছে বাস্তবায়নযোগ্য হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

অকেজো ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পার্ক কার্যকরের উদ্যোগ

নতুন সরকারের অনেক চ্যালেঞ্জ

আপডেট টাইম : ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বয়স এখনো দুই মাস পেরোয়নি। তবে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ভঙ্গুর অর্থনীতিসহ বেশির ভাগ চ্যালেঞ্জ বিগত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া। সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকটসহ কিছু চ্যালেঞ্জ নতুন করে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। তবে সরকার কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দেবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সরকারের এসব চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বাজেট প্রণয়নে কিছু পরামর্র্শ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। সিপিডি বলছে, নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি কৌশল থাকবে। তবে অর্থনীতি চাঙা এবং কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারকে মধ্যমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন সরকারকে তার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সম্পদ সংগ্রহ করা স্বল্পমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ; আগামী বাজেটেও এ চ্যালেঞ্জ থাকবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের চাপ, অন্যদিকে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা রক্ষা করতে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের চাপ থাকবে। কিন্তু এসব করতে গিয়ে যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো মনোযোগ না হারায় সে বিষয়ে সরকারকে সচেতন থাকতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেটি করতে না পারলে সরকার পথ হারাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনটিতে সিপিডি সামষ্টিক অর্থনীতির যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখছে তা হলো : উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন রাজস্ব আয়, বাজেট বাস্তবায়নে ধীরগতি, দেশিবিদেশি ঋণের চাপ, বিনিয়োগ স্থবিরতা, নেতিবাচক কর্মসংস্থান, নিম্নমুখী রপ্তানি এবং এলডিসি উত্তরণের চাপ।

সিপিডির মতে কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ক্রমাগত নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য বাজারব্যবস্থায় স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এটি দেশের লাখ লাখ পরিবারের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। অভ্যন্তরীণ এ চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে। সিপিডি বলছে, ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে যে টেনশন চলছে তা বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে; যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বাজেটে রাজস্ব নীতির সমন্বয় করার সুযোগ রয়েছে সরকারের সামনে, যাতে দেশের নিম্ন আয়ের ঝুঁকিতে পড়া মানুষকে চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির পেছনে চাহিদা এবং সরবরাহ এ দুই দিকেরই প্রভাব রয়েছে। এ কারণে মুদ্রানীতি এবং সুনির্দিষ্ট সরবরাহ খাত-এ দুই দিকেই সরকারকে নজর দিতে হবে। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি সরকারকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি খাতে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ সীমিত করে আর্থিক শৃঙ্খলা আনার দিকে নজর দিতে হবে। ভর্তুকি সুনির্র্দিষ্টকরণ, নিত্যপণ্যের শুল্ককর যৌক্তিকীকরণ, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা ছাড়াও স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নিতে হবে। বাজার তদারকি শক্তিশালী করার পাশাপাশি খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস), কৃষি উৎপাদনে সরকারের সহায়তা বৃদ্ধি, বিশেষ করে শস্য ভর্তুকি, শস্যবিমা, জলবায়ুসহনীয় ফলন, হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎনির্ভর সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগ সরবরাহ স্থিতিশীল এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, মৌসুমভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি চিহ্নিতকরণ, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করা, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসা, রাজস্ব ঘাটতি কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহীকরণের মতো উদ্যোগগুলোও দ্রব্যমূল্য কমানোর পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে সিপিডির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আসন্ন বাজেট প্রণয়নে ১১টি সুপারিশে গুরুত্ব দিতে বলেছে। এগুলো হলো : রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় আনা, বাস্তবসম্মত বাজেটকাঠামো, বাজার সুশাসন নিশ্চিত করা, এলডিসি উত্তরণের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শুল্ককর সাধারণীকরণ, ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগে ওয়ানস্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, বৃহৎ জেনারেটরভিত্তিক বিদ্যুৎ বিশেষ করে জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সরে আসা; জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, কৃষকের বিভিন্ন সুবিধা এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয় জরুরি। এ ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি চাহিদা কমানোর জন্য সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বাজেট ঘাটতি কমাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এ সংকটে একটি বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে, যা সরকারের কাছে বাস্তবায়নযোগ্য হবে।’