ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

বৃষ্টিভেজা সকালে শোলাকিয়ায় ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ-এ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন, যা পুরো ঈদগাহ এলাকাকে এক অনন্য দৃশ্যে রূপ দেয়।

ভোর থেকেই আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ছাতা ও রেইনকোট পরে অনেকেই ঈদগাহে উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় খতিব ও শোলাকিয়া ঈদগাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত আলেম। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নিপীড়নের শিকার মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতে বিশেষভাবে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও সংকটে থাকা মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ মাঠে কিছুটা কাদামাটির সৃষ্টি হলেও মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসন আগেই পুরো মাঠে ত্রিপল, অস্থায়ী ছাউনি ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। ফলে নামাজে অংশ নিতে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবেশপথে তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শতবর্ষী এই ঈদগাহে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন, যা ঈদের দিনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

এবারও বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে ঈদের ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্য কতটা গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং কোরবানির প্রস্তুতিতে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

বৃষ্টিভেজা সকালে শোলাকিয়ায় ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ-এ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন, যা পুরো ঈদগাহ এলাকাকে এক অনন্য দৃশ্যে রূপ দেয়।

ভোর থেকেই আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ছাতা ও রেইনকোট পরে অনেকেই ঈদগাহে উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় খতিব ও শোলাকিয়া ঈদগাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত আলেম। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নিপীড়নের শিকার মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতে বিশেষভাবে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও সংকটে থাকা মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ মাঠে কিছুটা কাদামাটির সৃষ্টি হলেও মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসন আগেই পুরো মাঠে ত্রিপল, অস্থায়ী ছাউনি ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। ফলে নামাজে অংশ নিতে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবেশপথে তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শতবর্ষী এই ঈদগাহে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন, যা ঈদের দিনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

এবারও বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে ঈদের ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্য কতটা গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং কোরবানির প্রস্তুতিতে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।