ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না: ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যদি কোনো দল বা ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান, আমরা এতে গর্ববোধ করি।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন বিগত ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিলো। তারা বাংলাদেশে লুটপাট করেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের জনগণের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে সেখান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ বোকা নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সব সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তারপরে বারে বারে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করে বহু আন্দোলন হয়েছে। আরও আন্দোলন দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষ করবে। কিন্তু ১৯৭১ সাল ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখবে তাহলে আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা চেয়ে চেয়ে দেখবো, সেটা কোনো দিনই হবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, যারা মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে এবং পাক-হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য গ্রামে গ্রামে চষে বেড়িয়েছেন, আজ তাদের দলের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি টকশোতে শামসুজ্জামান দুদুর সঙ্গে মীরপুরের এমপি বাতেন প্রকাশ্যে বলেছেন, পাকিস্তান ভালো। ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। অথচ বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এটাই আমাদের অস্তিত্ব, এটাই আমাদের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র, একটি পতাকা এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। অতত্রব এর সঙ্গে কোনো আপস হবে না।

গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি এবং সকল সমমনা দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। সেই সময় শত শত হত্যাকাণ্ড ও গুম খুনের ঘটনা ঘটেছে। ইলিয়াস আলী চৌধুরীসহ বহু নেতা গুম হয়েছেন। সেটা কি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করার জন্য ও প্রেক্ষাপট রচনা করার জন্য কোনো ভূমিকা রাখে নাই, অবশ্যই রেখেছে। এ আন্দোলনে বাংলাদেশের আপামর জনগণ,কোলের শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি। তবুও বাংলাদেশের জনগণ দমে যায়নি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশকে একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিলো। সেখান থেকে মুক্তির জন্যই ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এ আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই মাস থেকে জাতীয়তাবাদী দল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ করেছে। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্রদলের ১৪৮ জন পদধারী নেতা জীবন দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এটিএম মোশারেফ হোসেনসহ অন্যরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না: ইশরাক হোসেন

আপডেট টাইম : ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যদি কোনো দল বা ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান, আমরা এতে গর্ববোধ করি।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন বিগত ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিলো। তারা বাংলাদেশে লুটপাট করেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের জনগণের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে সেখান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ বোকা নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সব সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তারপরে বারে বারে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করে বহু আন্দোলন হয়েছে। আরও আন্দোলন দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষ করবে। কিন্তু ১৯৭১ সাল ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখবে তাহলে আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা চেয়ে চেয়ে দেখবো, সেটা কোনো দিনই হবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, যারা মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে এবং পাক-হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য গ্রামে গ্রামে চষে বেড়িয়েছেন, আজ তাদের দলের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি টকশোতে শামসুজ্জামান দুদুর সঙ্গে মীরপুরের এমপি বাতেন প্রকাশ্যে বলেছেন, পাকিস্তান ভালো। ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। অথচ বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এটাই আমাদের অস্তিত্ব, এটাই আমাদের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র, একটি পতাকা এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। অতত্রব এর সঙ্গে কোনো আপস হবে না।

গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি এবং সকল সমমনা দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। সেই সময় শত শত হত্যাকাণ্ড ও গুম খুনের ঘটনা ঘটেছে। ইলিয়াস আলী চৌধুরীসহ বহু নেতা গুম হয়েছেন। সেটা কি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করার জন্য ও প্রেক্ষাপট রচনা করার জন্য কোনো ভূমিকা রাখে নাই, অবশ্যই রেখেছে। এ আন্দোলনে বাংলাদেশের আপামর জনগণ,কোলের শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি। তবুও বাংলাদেশের জনগণ দমে যায়নি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশকে একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিলো। সেখান থেকে মুক্তির জন্যই ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এ আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই মাস থেকে জাতীয়তাবাদী দল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ করেছে। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্রদলের ১৪৮ জন পদধারী নেতা জীবন দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এটিএম মোশারেফ হোসেনসহ অন্যরা।