ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ লাখ টন কম লবণ উৎপাদন

এবার নভেম্বর থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সাড়ে ১৯ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টন কম বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)ল।

বিসিক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বরে কুতুবদিয়ায় প্রথম লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে মৌসুম শুরু হয়। এবার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ৩৬ দিন মাঠে নামতে পারেননি চাষিরা। এ সময়ের মধ্যে ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৬ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪০ হাজার ১৫০ জন চাষি মোট ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে চাষ শুরু করে।

এ মৌসুমে একরপ্রতি ২৮ দশমিক ৭০ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। এবার মে মাসের ২৪-২৫ তারিখে বৃষ্টিপাত শুরু হলে চাষিরা উৎপাদন বন্ধ করেন। এ সময় উৎপাদিত লবণ প্রচলিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে সরঞ্জাম নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। মূলত ২৪ মে কক্সবাজার অঞ্চলে এলাকাভেদে ১০-৩৯ মিলিমিটার এবং ২৫ মে ৭-১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
ফলে চিংড়ি চাষযোগ্য জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চাষিরা বাঁধ কেটে জোয়ারের পানি লবণের মাঠে প্রবেশ করান।বিসিকের লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের (কক্সবাজার) উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘২৫ মে লবণ উৎপাদন মৌসুম শেষ হয়েছে। শুরুতে বিরূপ (কুয়াশা) আবহাওয়ার পাশাপাশি চলতি বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে এবার লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪-২৫ মে কক্সবাজার অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় লবণের মাঠ নষ্ট হয়ে যায়।’

গত বছরের শেষার্ধে দেশে লবণের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় প্রায় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আবেদন না করায় কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। এরপরও ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের আগ্রহ না থাকায় লবণ আমদানির বিষয়টিতে ভাটা পড়ে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম উৎপাদনের কারণে লবণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ঈদুল আজহার আগে মণপ্রতি লবণের দাম ৬০-৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকলে সামনে লবণের বাজার আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।২০২৫ সালের মতো এবারো ঈদুল আজহার সময় এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদ কমিটিগুলোতে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করে বিসিক। বিগত বছর ১৪ হাজার টন লবণ বিতরণ করলেও চলতি বছর দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিমাণ কমে ১১ হাজার টনে নেমে আসে। মূলত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আসা কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথ না হওয়ায় অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে দেশব্যাপী বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বাড়বে বলে আশা করছে বিসিক।

সংস্থাটির লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৬৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড উৎপাদন হয়। জমি ও চাষির সংখ্যা বাড়লেও আবহাওয়াজনিত কারণে লবণের উৎপাদন এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি। এরপরও চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের অসংগতি থাকলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে লবণের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ লাখ টন কম লবণ উৎপাদন

আপডেট টাইম : ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
এবার নভেম্বর থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সাড়ে ১৯ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টন কম বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)ল।

বিসিক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বরে কুতুবদিয়ায় প্রথম লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে মৌসুম শুরু হয়। এবার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ৩৬ দিন মাঠে নামতে পারেননি চাষিরা। এ সময়ের মধ্যে ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৬ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪০ হাজার ১৫০ জন চাষি মোট ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে চাষ শুরু করে।

এ মৌসুমে একরপ্রতি ২৮ দশমিক ৭০ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। এবার মে মাসের ২৪-২৫ তারিখে বৃষ্টিপাত শুরু হলে চাষিরা উৎপাদন বন্ধ করেন। এ সময় উৎপাদিত লবণ প্রচলিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে সরঞ্জাম নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। মূলত ২৪ মে কক্সবাজার অঞ্চলে এলাকাভেদে ১০-৩৯ মিলিমিটার এবং ২৫ মে ৭-১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
ফলে চিংড়ি চাষযোগ্য জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চাষিরা বাঁধ কেটে জোয়ারের পানি লবণের মাঠে প্রবেশ করান।বিসিকের লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের (কক্সবাজার) উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘২৫ মে লবণ উৎপাদন মৌসুম শেষ হয়েছে। শুরুতে বিরূপ (কুয়াশা) আবহাওয়ার পাশাপাশি চলতি বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে এবার লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪-২৫ মে কক্সবাজার অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় লবণের মাঠ নষ্ট হয়ে যায়।’

গত বছরের শেষার্ধে দেশে লবণের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় প্রায় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আবেদন না করায় কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। এরপরও ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের আগ্রহ না থাকায় লবণ আমদানির বিষয়টিতে ভাটা পড়ে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম উৎপাদনের কারণে লবণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ঈদুল আজহার আগে মণপ্রতি লবণের দাম ৬০-৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকলে সামনে লবণের বাজার আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।২০২৫ সালের মতো এবারো ঈদুল আজহার সময় এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদ কমিটিগুলোতে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করে বিসিক। বিগত বছর ১৪ হাজার টন লবণ বিতরণ করলেও চলতি বছর দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিমাণ কমে ১১ হাজার টনে নেমে আসে। মূলত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আসা কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথ না হওয়ায় অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে দেশব্যাপী বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বাড়বে বলে আশা করছে বিসিক।

সংস্থাটির লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৬৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড উৎপাদন হয়। জমি ও চাষির সংখ্যা বাড়লেও আবহাওয়াজনিত কারণে লবণের উৎপাদন এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি। এরপরও চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের অসংগতি থাকলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে লবণের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।