ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার মানুষকে কথা বলতে দেয়নি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণের ৫ মাসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান সাফল্য রয়েছে: মাহদী আমিন মেসির অভিজ্ঞতা বনাম ইয়ামালের তারুণ্য ফাইনালের মহারণে আর্জেন্টিনা-স্পেন মসজিদুল হারামে নতুন প্রযুক্তি, যেসব সুবিধা পাবেন হাজিরা আগামী মাসে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে : ইরান শ’ ছাড়িয়েছে শসা-কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ১৫ কৃষিবিদ বন্ধুর ৪৫ বিঘার নিরাপদ ফলের বাগান

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: জয়সোয়াল

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আমরা জানতে পেরেছি, শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। তা ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে কি না?

জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটি অনুরোধ পেয়েছি। যেমনটি আমরা আগে বলেছিলাম, অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।’

আরেক সাংবাদিক বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে সেখানে অবস্থান করছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান।

এ বিষয়ে গত ১৪ জুলাই রণধীর জয়সোয়ালের কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন-শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হয়েছে কি না। এর জবাবে সেদিন তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।’

শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের মনোভাবের কোনো বদল ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: জয়সোয়াল

আপডেট টাইম : ০৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আমরা জানতে পেরেছি, শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। তা ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে কি না?

জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটি অনুরোধ পেয়েছি। যেমনটি আমরা আগে বলেছিলাম, অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।’

আরেক সাংবাদিক বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে সেখানে অবস্থান করছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান।

এ বিষয়ে গত ১৪ জুলাই রণধীর জয়সোয়ালের কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন-শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হয়েছে কি না। এর জবাবে সেদিন তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।’

শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের মনোভাবের কোনো বদল ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।