ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার মানুষকে কথা বলতে দেয়নি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণের ৫ মাসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান সাফল্য রয়েছে: মাহদী আমিন মেসির অভিজ্ঞতা বনাম ইয়ামালের তারুণ্য ফাইনালের মহারণে আর্জেন্টিনা-স্পেন মসজিদুল হারামে নতুন প্রযুক্তি, যেসব সুবিধা পাবেন হাজিরা আগামী মাসে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে : ইরান শ’ ছাড়িয়েছে শসা-কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ১৫ কৃষিবিদ বন্ধুর ৪৫ বিঘার নিরাপদ ফলের বাগান

সিলেট-সুনামগঞ্জে কাটেনি বন্যার শঙ্কা, হবিগঞ্জ মৌলভীবাজারে পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ শুক্রবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা আবার বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ার ফলে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

এ দিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এসব নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর কাছাকাছি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারার পানি বাড়লেও সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে। ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়তে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত

সিলেট-সুনামগঞ্জে কাটেনি বন্যার শঙ্কা, হবিগঞ্জ মৌলভীবাজারে পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

আপডেট টাইম : ০৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ শুক্রবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা আবার বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ার ফলে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

এ দিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এসব নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর কাছাকাছি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারার পানি বাড়লেও সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে। ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়তে পারে।