ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলা কিউআরে যুক্ত হলো নতুন সেবা খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার: আইনমন্ত্রী ফল বিপর্যয়ের দায় কার মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চ্যাটজিপিটি কি ধীরে ধীরে ভুলিয়ে দিচ্ছে মানুষের স্মৃতি ‘এশিয়া কাপ জেতার আশা, আসল টার্গেট বিশ্বকাপ’ সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী সমাজ ও দেশের প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত : রাষ্ট্রপতি পরিকল্পিতভাবে পোশাকশিল্পকে অশান্তের চেষ্টা ভুলে যাচ্ছেন ছোটখাটো বিষয়? স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০ কৌশল

পাকিস্তানে ‘জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে’ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৪

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রবিবার (২ আগস্ট) এক জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২২ জন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরে একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজন। সোয়াত জেলার পুলিশপ্রধান ওমর খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র বিলাল ফাইজী বলেন, জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষের ওপর আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। জেলা পুলিশপ্রধান ওমর খান জানান, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

একসময় সোয়াত উপত্যকা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা সেখানে শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা অনুসারে শাসন চালু করেছিল। তবে ২০০৭ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের বিতাড়িত করে এবং ওই অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর পাকিস্তানি তালেবান, অর্থাৎ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর দিকে যাচ্ছে। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে পৃথক হলেও তাদের মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপির অনেক নেতা ও যোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে কাবুল সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বাংলা কিউআরে যুক্ত হলো নতুন সেবা

পাকিস্তানে ‘জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে’ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৪

আপডেট টাইম : ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রবিবার (২ আগস্ট) এক জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২২ জন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরে একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজন। সোয়াত জেলার পুলিশপ্রধান ওমর খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র বিলাল ফাইজী বলেন, জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষের ওপর আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। জেলা পুলিশপ্রধান ওমর খান জানান, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

একসময় সোয়াত উপত্যকা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা সেখানে শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা অনুসারে শাসন চালু করেছিল। তবে ২০০৭ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের বিতাড়িত করে এবং ওই অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর পাকিস্তানি তালেবান, অর্থাৎ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর দিকে যাচ্ছে। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে পৃথক হলেও তাদের মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপির অনেক নেতা ও যোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে কাবুল সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।