ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

জুলাই জাদুঘরে ‘লাল টেলিফোনে’ কী শোনা যায়

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক গণভবন এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। এই জাদুঘরে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন নিদর্শনসহ আওয়ামী লীগ শাসনামলের বিভিন্ন নথিপত্রসহ অন্যান্য ঘটনা সংবলিত জিনিসপত্র। এসবের মধ্যে দর্শকের আকর্ষণে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত ‘লাল টেলিফোন’। এই টেলিফোন থেকে নির্দিষ্ট নম্বরে কল করলে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির অডিও কথোপকথন শুনতে পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সেসব কথোপকথনের বেশিরভাগই জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের। এই টেলিফোন ঘিরে দেখা যায় দর্শনার্থীদের তুমুল আগ্রহ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সরেজমিন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সাবেক গণভবনের নিচতলায় শেখ হাসিনার অফিস রুমে তিনটি আলাদা টেবিলে রাখা রয়েছে ছয়টি লাল টেলিফোন। আর এই তিনটি টেবিলে রয়েছে তিনটি তালিকা। সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নামের তালিকা ও নম্বর রয়েছে।

ছয়টি টেলিফোনে প্রায় শতাধিক কল রেকর্ড রয়েছে। নির্দিষ্ট নম্বরে ডায়াল করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথোপকথন শুনতে পান দর্শনার্থীরা। অনেক দর্শনার্থীকে দেখা যায়, শেখ হাসিনার অফিস রুমের চেয়ারে বসে টেলিফোনে শুনছেন সেসব কথোপকথন।

টেলিফোনগুলোর একটিতে ৭০৮ নম্বরে কল দিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নুর তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে জানানো হয়, তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার পাঁচটি কথোপকথন রয়েছে।

অপরদিকে আরেকটি লাল টেলিফোনে ৭১১ নম্বরে কল করলে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনানো হয়। টেবিলের সামনে প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে।

লাল টেলিফোনের সামনে ফোন হাতে মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, আপাকে একটাই কথা বলি, ভারতে থেকে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

তেজগাঁও থেকে এসেছেন আরেক দর্শনার্থী শহীদুল ইসলাম। সঙ্গে এসেছেন তার বন্ধুরাও। এসময় তাকে অনেকক্ষণ লাল ফোনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের রেকর্ড শুনতে দেখা যায়।

কী শুনেছেন টেলিফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭৭০৮ নম্বরে দেখতে পাচ্ছি যে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। সাদ্দাম হোসেন লাইভ বেশ কয়েকবার, প্রায় ৯ বার ভয়েস কল করেছেন। অনেক কথা বলছেন। কী করা যায়, কী করতে পারি আপা। উনি (শেখ হাসিনা) অনেকভাবে নির্দেশ-নির্দেশনা দিয়েছেন।

আরেক দর্শনার্থী কাওসার হোসেন বলেন, জুলাই জাদুঘরে অনেক কিছু দেখলাম। এর মধ্যে লাল টেলিফোনের ব্যাপারটি ইন্টারেস্টিং লেগেছে। একেকটা নম্বরে কল দিলে একেকজনের কনভারসেশন শোনা যায়।

জাদুঘরের এই অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। অডিও কথোপকথন শুনতে দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীদের। তবে এই কক্ষে শুধু টেলিফোনের কথোপকথনই নয়, আওয়ামী লীগের সময় গুম হওয়া অনেক ব্যক্তির ছবি কাঠে খোদাই করে প্রদর্শন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতি, শহীদদের অমলিন আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস ধরে রাখতে রাজধানীর সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনে কেবল জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের ঢোকার সুযোগ ছিল। আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল।

প্রবেশ মূল্য ও টিকিট পাওয়ার নিয়ম

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক (স্লট) টিকিট ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়েছে।

অনলাইন টিকিট: দর্শনার্থীদের অবশ্যই আগে থেকে নির্ধারিত ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে ভিজিট করে নিবন্ধন এবং সময় নির্বাচন করতে হবে।

টিকিট মূল্য: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনার্থীরা অফলাইন বা অনলাইনে সংগৃহীত টিকিট প্রদর্শন করে গণভবন ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

জুলাই জাদুঘরে ‘লাল টেলিফোনে’ কী শোনা যায়

আপডেট টাইম : ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক গণভবন এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। এই জাদুঘরে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন নিদর্শনসহ আওয়ামী লীগ শাসনামলের বিভিন্ন নথিপত্রসহ অন্যান্য ঘটনা সংবলিত জিনিসপত্র। এসবের মধ্যে দর্শকের আকর্ষণে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত ‘লাল টেলিফোন’। এই টেলিফোন থেকে নির্দিষ্ট নম্বরে কল করলে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির অডিও কথোপকথন শুনতে পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সেসব কথোপকথনের বেশিরভাগই জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের। এই টেলিফোন ঘিরে দেখা যায় দর্শনার্থীদের তুমুল আগ্রহ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সরেজমিন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সাবেক গণভবনের নিচতলায় শেখ হাসিনার অফিস রুমে তিনটি আলাদা টেবিলে রাখা রয়েছে ছয়টি লাল টেলিফোন। আর এই তিনটি টেবিলে রয়েছে তিনটি তালিকা। সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নামের তালিকা ও নম্বর রয়েছে।

ছয়টি টেলিফোনে প্রায় শতাধিক কল রেকর্ড রয়েছে। নির্দিষ্ট নম্বরে ডায়াল করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথোপকথন শুনতে পান দর্শনার্থীরা। অনেক দর্শনার্থীকে দেখা যায়, শেখ হাসিনার অফিস রুমের চেয়ারে বসে টেলিফোনে শুনছেন সেসব কথোপকথন।

টেলিফোনগুলোর একটিতে ৭০৮ নম্বরে কল দিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নুর তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে জানানো হয়, তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার পাঁচটি কথোপকথন রয়েছে।

অপরদিকে আরেকটি লাল টেলিফোনে ৭১১ নম্বরে কল করলে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনানো হয়। টেবিলের সামনে প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে।

লাল টেলিফোনের সামনে ফোন হাতে মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, আপাকে একটাই কথা বলি, ভারতে থেকে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

তেজগাঁও থেকে এসেছেন আরেক দর্শনার্থী শহীদুল ইসলাম। সঙ্গে এসেছেন তার বন্ধুরাও। এসময় তাকে অনেকক্ষণ লাল ফোনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের রেকর্ড শুনতে দেখা যায়।

কী শুনেছেন টেলিফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭৭০৮ নম্বরে দেখতে পাচ্ছি যে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। সাদ্দাম হোসেন লাইভ বেশ কয়েকবার, প্রায় ৯ বার ভয়েস কল করেছেন। অনেক কথা বলছেন। কী করা যায়, কী করতে পারি আপা। উনি (শেখ হাসিনা) অনেকভাবে নির্দেশ-নির্দেশনা দিয়েছেন।

আরেক দর্শনার্থী কাওসার হোসেন বলেন, জুলাই জাদুঘরে অনেক কিছু দেখলাম। এর মধ্যে লাল টেলিফোনের ব্যাপারটি ইন্টারেস্টিং লেগেছে। একেকটা নম্বরে কল দিলে একেকজনের কনভারসেশন শোনা যায়।

জাদুঘরের এই অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। অডিও কথোপকথন শুনতে দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীদের। তবে এই কক্ষে শুধু টেলিফোনের কথোপকথনই নয়, আওয়ামী লীগের সময় গুম হওয়া অনেক ব্যক্তির ছবি কাঠে খোদাই করে প্রদর্শন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতি, শহীদদের অমলিন আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস ধরে রাখতে রাজধানীর সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনে কেবল জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের ঢোকার সুযোগ ছিল। আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল।

প্রবেশ মূল্য ও টিকিট পাওয়ার নিয়ম

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক (স্লট) টিকিট ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়েছে।

অনলাইন টিকিট: দর্শনার্থীদের অবশ্যই আগে থেকে নির্ধারিত ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে ভিজিট করে নিবন্ধন এবং সময় নির্বাচন করতে হবে।

টিকিট মূল্য: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনার্থীরা অফলাইন বা অনলাইনে সংগৃহীত টিকিট প্রদর্শন করে গণভবন ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।