ফজলুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় চেনা যায় না এরা কারা। ড. আসিফ নজরুল বয়সে আমার ছোট। যেদিন আইএসসি পাস করছি, সেদিন উনার জন্ম হয়েছে—১৯৬৬ সালে।
আসিফ নজরুলের প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আসিফ নজরুলের ক্যারেক্টারটা আমার কাছে কিন্তু এই রকম মনে হয়। কাজেই আপনি যাদের খুব শিক্ষিত, ভালো মানুষ মনে করতেছেন, তাদের অন্তরে যে বাংলাদেশ রাখা যাবে না, এই দেশটাকে প্রগতির পথে, মুক্তির পথে রাখা যাবে না—এইটা তারা ১৮ মাসের শাসনে নিজেদের কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে একসময় নিজের ইতিবাচক ধারণার কথাও তুলে ধরেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নোবেল লরিয়েট বাঙালির মুসলমানের সন্তান—কোনো দিন নোবেল পায় নাই, এর চেয়ে গৌরবের আর কিছু হতে পারে না।’
তবে পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। তার অভিযোগ, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও ড. ইউনূস তার প্রতিবাদ করেননি।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘যেদিন থেকে আমি এসব দেখতে শুরু করলাম এবং ফাইনালি যখন দেখলাম জামায়াত এবং ছাত্রশিবির বলা শুরু করল—এই দেশে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ বলে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এই দেশে হয়েছিল একটা গণ্ডগোল। আর সেই গণ্ডগোলটা লাগিয়ে দিয়েছিল আমাদের মহাশত্রু হিন্দুস্তান—এই কারণে এটা কোনো যুদ্ধ হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তখন আমি বলছি, ওই যে কথাটা বলছিলাম—আলবদর, রাজাকারের বাচ্চারা, মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হইছে। আর ইউনূস সাহেবকে বলছিলাম, আপনি যেহেতু এটার প্রতিবাদ করেননি, আপনি হইলেন এটার প্রধান উৎসাহদাতা বা আপনি হলেন এটার প্রধান কারিগর।’
ড. ইউনূসের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে না যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনি এক দিনও শহীদ মিনারে যান নাই। আপনি এক দিনও স্মৃতিস্তম্ভে যান নাই। আপনার পরিবারে একজন লোকও মুক্তিযুদ্ধে যায় নাই।’
এ সময় ড. ইউনূসের পারিবারিক ব্যবসা ও তার পরিচালিত গ্রামীণ ব্যবসা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিবালয়কেন্দ্রিক দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে বসে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা হইছে—ধরে না কেন আমাদের সরকার, আমি বুঝি না। একবার শুধু বলছে পার্লামেন্টে এটার বিচার হবে। আমি জানি না কথা এবং কাজটা এক হবে কিনা।’
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামল নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ইউনূস সাহেব নেতা ছিলেন। যার আমলে এত কিছু হইতে পারে, সে ইউনূস সাহেব যত কথাই আপনি বলেন—আমি মনে করি, ইয়েস, নোবেল লরিয়েট। উনার প্রতি আমার মুরব্বি হিসেবে শ্রদ্ধা রইল। কিন্তু শাসক হিসেবে উনি দুঃশাসক এবং বাংলাদেশের জন্য সর্বনাশ করে রেখে গেছেন।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























