শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বাংলাদেশের শ্রম আদালতগুলোতে চলমান মামলাজট দ্রুত নিরসন এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের পরামর্শ সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আরশাদুল আলম। সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান। এ ছাড়া শ্রম আদালতের বিচারকরা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ ও আলোচনায় শ্রম আদালতের মামলাজটের প্রধান কারণসমূহ যেমন বিচারকের সংকট, প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা, ত্রিপক্ষীয় বেঞ্চে প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দুর্বল প্রয়োগ চিহ্নিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারিক সুপারিশমালা তৈরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকরা আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শ্রম আদালতগুলোতে চলমান তীব্র মামলাজট আমাদের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানে উল্লেখিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই জট নিরসন এখন সময়ের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘মামলাজট কমাতে শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও শূন্যপদ পূরণ, সম্পূর্ণ আইটিভিত্তিক ই-কোর্ট পদ্ধতি চালু, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আজকের আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসা পরামর্শসমূহ বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, নিয়োগকর্তাদের স্বার্থের সুরক্ষা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্প সম্পর্ক প্রচারের জন্য একটি কার্যকর শ্রম বিচার ব্যবস্থা অপরিহার্য। মামলা দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকরা যেমন তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হন, তেমনি নিয়োগকর্তারাও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। তাই মামলার জট কমানো কেবল প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, এটি শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।
সভায় বিচারক, আইনজীবী, নীতিনির্ধারক এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা যৌথভাবে শ্রম বিচারব্যবস্থার সংস্কার ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মেলবন্ধন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























