ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভারতে মুসলিম যুবক হত্যা ও বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের নিন্দা নেজামে ইসলাম পার্টির

ভারতে গরু পাচারের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। এসব ঘটনায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী। মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহারের সঞ্চালনায় সভায় দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গরু পাচারের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াই আইনের শাসনের স্বাভাবিক পদ্ধতি। জনতার হাতে আইন তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কলকাতায় গেরুয়া পতাকাবাহী বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টার ঘটনাতেও নিন্দা জানানো হয়। সভায় বলা হয়, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও কূটনৈতিক মিশন ঘেরাও কিংবা এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দল-মত ও পরিচয় নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। বাজারে কার্যকর নজরদারি, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্য নির্ধারণে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপচয় ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনসম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক সফর, প্রশিক্ষণ, কর্মী সমাবেশ, সদস্য সংগ্রহ, দাওয়াতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রতিবেদন দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দলের আদর্শ, মূলনীতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাংগঠনিক পদ্ধতি ও কর্মনীতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, সৎ ও আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

দখল-হামলা-চাঁদাবাজি: রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকলেও অপরাধ মিলেমিশে

ভারতে মুসলিম যুবক হত্যা ও বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের নিন্দা নেজামে ইসলাম পার্টির

আপডেট টাইম : ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে গরু পাচারের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। এসব ঘটনায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী। মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহারের সঞ্চালনায় সভায় দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গরু পাচারের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াই আইনের শাসনের স্বাভাবিক পদ্ধতি। জনতার হাতে আইন তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কলকাতায় গেরুয়া পতাকাবাহী বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টার ঘটনাতেও নিন্দা জানানো হয়। সভায় বলা হয়, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও কূটনৈতিক মিশন ঘেরাও কিংবা এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দল-মত ও পরিচয় নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। বাজারে কার্যকর নজরদারি, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্য নির্ধারণে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপচয় ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনসম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক সফর, প্রশিক্ষণ, কর্মী সমাবেশ, সদস্য সংগ্রহ, দাওয়াতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রতিবেদন দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দলের আদর্শ, মূলনীতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাংগঠনিক পদ্ধতি ও কর্মনীতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, সৎ ও আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।