এমপি ও মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) দেশে ফিরছে রাজনৈতিক সরকার। অন্যদিকে বিদায় নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার কপালে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, স্বরাষ্ট্র সচিবকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে প্রজ্ঞাপন এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়ার পদত্যাগের আবেদনের জেরে।
সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন স্থানে রদবদল হয়। এবারও তাই হতে যাচ্ছে। এবার বড় একটা অংশ রয়েছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। দ্রুত তাদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হবে। কেউ কেউ অবশ্য চুক্তির মেয়াদ ধরে রাখতে নতুন সরকারের অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তাদের লবিয়িংয়ে বিব্রত রাজনৈতিক দলের নেতারাও।
জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিবদের মধ্যে রয়েছেন ড. নাসিমুল গণি, এম সিরাজউদ্দিন মিয়া, ড. মো. মোখলেসুর রহমান, এমএ আকমল হোসেন আজাদ, মমতাজ আহমেদ, মো. এহছানুল হক, আখতার আহমেদ, মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, ড. মো. নেয়ামত উল্লাহ ভুঁইয়া, এএসএম সালেহ আহমেদ, সিদ্দিক জোবায়ের, মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ। এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত হিসেবে আছেন পর্তুগালের লিসবনে ড. মো. মাহফুজুল হক, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এজেডএম সালাহউদ্দিন নাগরী, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান প্রমুখ। এসব কর্মকর্তাদের একটা অংশ দুশ্চিন্তায় আছে। তবে এ মুহূর্তে সবার চুক্তি বাতিল হচ্ছে না। কিছু দক্ষ কর্মকর্তার ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে দুটি দলের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে একটি ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে, যাদের অনুসারীদের পরিচয় এবার স্পষ্ট হয়েছে। আগে ছিল অজানা। নতুন সরকারের আগমনে তাদের মধ্যে হতাশার ছাপ রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে বদলি আতঙ্ক। নতুন সরকার স্বাভাবিক কারণেই তাদের কাজের গতি বাড়াতে প্রশাসন সাজাবেন। সেক্ষেত্রে রদবদল হতে পারে। কিন্তু যারা নিজের মতো সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছিলেন তাদের মধ্যে কষ্ট আর আফসোস থাকছে। সচিব থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এসি (ল্যান্ড) প্রত্যেকেই ভাবছেনÑ নতুন সরকার হলে কী হবে। কেউ কেউ এখন থেকেই দলীয় সরকারের লেজুড়বৃত্তির চিন্তা করছেন। স্বাধীনতার এতদিনেও দেশের আমলাতন্ত্র বিতর্কমুক্ত হয়নি। রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে আমলারা দুর্নীতি করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা পার পেয়ে যান। শাস্তির আওতায় আনার প্রবণতা কম থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব দেখা যায়।
এদিকে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)। তাদের জায়গায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা অতীতে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পদোন্নতি দিয়ে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তারা আরও দাবি করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যেসব আমলা অবস্থান নিয়ে পতিত সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছেন এবং এর মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা হয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের দাবির বিষয়টি সরকারের শীর্ষমহলকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিজয়ী বিএনপির সরকার এবার প্রশাসন সাজাতে মনোযোগ দেবে। গত দেড় বছরের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদেরও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























