বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রকল্পটি গ্রহণ করার সময় নির্দিষ্ট মেয়াদ ধরা হয়েছিল ৩ বছর; কিন্তু তারপর একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর সাড়ে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬৩ শতাংশ।
তারপরও ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় কিনা, তা দেখার বিষয়। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, তা হল এটি বাংলাদেশ ও ভারতের ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি বাস্তবায়ন করছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশি কোম্পানির কাজের অগ্রগতি ভালো হলেও ভারতের কোম্পানির কাজের অগ্রগতি কম। একই প্রকল্পে ভিন্ন দেশের কোম্পানির কাজের সমস্যা কোথায় তা দেখার বিষয়।
প্রকল্পের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সমস্যা তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক রেলপথ মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পটি বর্ধিত যথাসময়ে শেষ করবে, এটাই প্রত্যাশা।
কেবল উল্লেখিত প্রকল্পেই নয়, দেশে প্রায় সব প্রকল্পেই সময় ও ব্যয় বাড়ানো যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে ঠিকাদারদের গাফিলতি, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরও দায় থাকে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নির্ভর করে যথাসময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ওপর।
গত মার্চে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১৫টি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে আইএমইডি; কিন্তু তারপরই সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা- করোনা মহামারী দেখা দেয় দেশে। এখন করোনার কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসহ ১৬টি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এডিপি বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে হবে।
এক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতাগুলো হল- প্রকল্প গ্রহণে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করা, যথার্থ সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় প্রাক্কলন, বেজলাইন ডাটা সংরক্ষিত না থাকা, প্রকল্প গ্রহণের আগেই সম্ভাব্য অধিগ্রহণের ভূমি চিহ্নিত করা ইত্যাদি।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে এগুলোর সমাধান করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন না হয়ে অনেকটাই সহজ হয়ে যাওয়ার কথা। এ ছাড়া বিদেশি অর্থায়নে চলা প্রকল্পে দাতাদের শর্ত, পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেয়াসহ সব বিষয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পেও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কথা এসেছে। এটিসহ সব প্রকল্পে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ দূর করে যথাসময়ে কাজ শেষ করার ওপর জোর দিতে হবে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























