ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন নোবেল ২০২৫ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১১ লাখ বাংলাদেশির সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলার জনজীবনে যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি বেষ্টিত হাওর। শুষ্ক মৌসুমে শুধু ফসলী জমি আর মেঠোপথ। হাওরবাসীর  মুখের প্রবাদ-‘বর্ষাকালে নাও, শুকনাকালে পাও’।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ জনপদেই জন্মেছেন। তাঁর শৈশব, কৈশোর কাটিয়েছেন এখানে। উপমহাদেশের বাঙালি প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী, আনন্দ মোহন বসু, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের মতো গুণি মানুষের জন্ম এ হাওর অঞ্চলে। এছাড়া এই হাওরের তীরেই জন্ম নিয়েছিলেন উপমহাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় ও তাঁর বাবা ছড়াকার সুকুমার রায়।

বর্ষাকালে নৌকায় চড়লে দু’চোখের দৃষ্টি যতদূর যায়, পুরোটাই অথৈ পানি আর পানি যেন কূলহীন সাগর। কিশোরগঞ্জ হাওরবাসীর সহজ ও দ্রুততর যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো আবদুল হামিদ ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ৩০ কি.মি. অল-ওয়েদার সড়ক নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি গত ২২ জুন ২০১৯ খ্রি. তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৩১ দশমিক দুই-এক হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য পূর্ত কাজের মধ্যে রয়েছে ২৯ কি.মি. ফ্লেক্সিবল সড়ক নির্মাণ, ৬২টি কালভার্ট নির্মাণ, ১১টি আরসিসি সেতু নির্মাণ, ৩টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং ৭ দশমিক ৬ লক্ষ বর্গ মিটার সিসি ব্লক দ্বারা রক্ষাপ্রদ কাজ।

হাওরবাসীর স্বপ্নের হাওরের বুক চিরে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন এই রাস্তার কল্যাণে পর্যটক আকর্ষণের নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। বিশাল জলরাশির মাঝ দিয়ে দিগন্ত জোড়া দৃষ্টিনন্দন সড়ক যেনো মেলে ধরেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা চিত্রকর্ম। এই সড়কে ভ্রমণ বিলাসে মেতেছেন পর্যটকরা। অল ওয়েদার সড়কটি পর্যটকদের কাছে ভ্রমণ বিলাসের উপকরণ মনে হলেও স্থানীয়দের জন্য এটা আশীর্বাদ।

অপার সৌন্দর্যময় এ সড়কের দিক নির্দেশনা স্তম্ভগুলো সড়কের গন্তব্যের সঠিক গতিপথকে নির্দেশ করে দেয়। জলে ভাসা উঁচু পাকা সড়কের সরল পথগুলো এসে তিন সড়কের একমাথায় মিলিত হয়েছে। যার এক দিকে ইটনা, অন্যদিকে মিঠামইন আর অন্য আরেক প্রান্ত কোণ দিয়ে অষ্টগ্রামের রাস্তা বয়ে গেছে।

দুপাশে পানির ছলছল শব্দ, উত্তাল ঢেউ আর এলোমেলো বাতাসে খানিকটা এগুলেই মিলবে নৈসর্গিক তৃপ্তি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর হাওরবাসী। প্রাকৃতিকভাবেই হাওরের সৌন্দর্য নয়নাভিরাম। বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার মানুষ এখন ছ্টুছেন পাকা রাস্তা ধরেই স্বচ্ছলতার গন্তব্যে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার রোডটি কিশোরগঞ্জ হাওর অধ্যুসিত এলাকাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট টাইম : ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলার জনজীবনে যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি বেষ্টিত হাওর। শুষ্ক মৌসুমে শুধু ফসলী জমি আর মেঠোপথ। হাওরবাসীর  মুখের প্রবাদ-‘বর্ষাকালে নাও, শুকনাকালে পাও’।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ জনপদেই জন্মেছেন। তাঁর শৈশব, কৈশোর কাটিয়েছেন এখানে। উপমহাদেশের বাঙালি প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী, আনন্দ মোহন বসু, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের মতো গুণি মানুষের জন্ম এ হাওর অঞ্চলে। এছাড়া এই হাওরের তীরেই জন্ম নিয়েছিলেন উপমহাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় ও তাঁর বাবা ছড়াকার সুকুমার রায়।

বর্ষাকালে নৌকায় চড়লে দু’চোখের দৃষ্টি যতদূর যায়, পুরোটাই অথৈ পানি আর পানি যেন কূলহীন সাগর। কিশোরগঞ্জ হাওরবাসীর সহজ ও দ্রুততর যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো আবদুল হামিদ ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ৩০ কি.মি. অল-ওয়েদার সড়ক নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি গত ২২ জুন ২০১৯ খ্রি. তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৩১ দশমিক দুই-এক হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য পূর্ত কাজের মধ্যে রয়েছে ২৯ কি.মি. ফ্লেক্সিবল সড়ক নির্মাণ, ৬২টি কালভার্ট নির্মাণ, ১১টি আরসিসি সেতু নির্মাণ, ৩টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং ৭ দশমিক ৬ লক্ষ বর্গ মিটার সিসি ব্লক দ্বারা রক্ষাপ্রদ কাজ।

হাওরবাসীর স্বপ্নের হাওরের বুক চিরে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন এই রাস্তার কল্যাণে পর্যটক আকর্ষণের নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। বিশাল জলরাশির মাঝ দিয়ে দিগন্ত জোড়া দৃষ্টিনন্দন সড়ক যেনো মেলে ধরেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা চিত্রকর্ম। এই সড়কে ভ্রমণ বিলাসে মেতেছেন পর্যটকরা। অল ওয়েদার সড়কটি পর্যটকদের কাছে ভ্রমণ বিলাসের উপকরণ মনে হলেও স্থানীয়দের জন্য এটা আশীর্বাদ।

অপার সৌন্দর্যময় এ সড়কের দিক নির্দেশনা স্তম্ভগুলো সড়কের গন্তব্যের সঠিক গতিপথকে নির্দেশ করে দেয়। জলে ভাসা উঁচু পাকা সড়কের সরল পথগুলো এসে তিন সড়কের একমাথায় মিলিত হয়েছে। যার এক দিকে ইটনা, অন্যদিকে মিঠামইন আর অন্য আরেক প্রান্ত কোণ দিয়ে অষ্টগ্রামের রাস্তা বয়ে গেছে।

দুপাশে পানির ছলছল শব্দ, উত্তাল ঢেউ আর এলোমেলো বাতাসে খানিকটা এগুলেই মিলবে নৈসর্গিক তৃপ্তি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর হাওরবাসী। প্রাকৃতিকভাবেই হাওরের সৌন্দর্য নয়নাভিরাম। বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার মানুষ এখন ছ্টুছেন পাকা রাস্তা ধরেই স্বচ্ছলতার গন্তব্যে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার রোডটি কিশোরগঞ্জ হাওর অধ্যুসিত এলাকাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে।