ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

নির্ভীক পদচারণার ৫০ বছর

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বছর ঘুরে মার্চ মাস এলেই বাঙালির মনে এক ধরনের মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়। একদিকে স্বাধীনতা অর্জনের সুখকর অনুভূতি, অন্যদিকে এ অর্জনের পেছনে থাকা আত্মত্যাগের ইতিহাস। তবে স্বাধীনতা অর্জনের গৌরবময় অনুভূতিটিই যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। ১৯৭১ থেকে ২০২১, আমরা পেরিয়ে এসেছি বাঙালি জাতির নির্ভীক পদচারণার ৫০টি বছর। এই ৫০ বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাঙালিকে দিতে হয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার পরীক্ষা। এভাবে নির্ভীক পদচারণায় বাঙালি সুপরিচিতি লাভ করেছে বিশ্বের দরবারে।

স্বভাবগতভাবেই মানুষ স্বাধীনচেতা। তাই কেউ যদি সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, তাহলে চেতনা রক্ষা এবং আত্মপরিচয় তুলে ধরার তাগিদে হলেও মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে, ছিনিয়ে আনে নিজের অধিকার। ঠিক তেমনি আজ থেকে ৫০ বছর আগে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার সংগ্রামে। লাখ লাখ মানুষের জীবন এবং মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছে একটি নতুন দেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমাদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছরকে ঘিরে আমাদের পরিকল্পনার শেষ ছিল না; কিন্তু করোনাভাইরাসের আক্রমণে অনেক পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হয়েছে। আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠার বদলে অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলায় এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে মানুষকে। তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে বাঙালির মনের ক্যানভাসে যে চিত্র আঁকা রয়েছে, তা মুছে যায়নি। এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হয়তো কিছুটা স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হবে; তবে সব বাঙালির হৃদয়ে থাকবে দিনটির তাৎপর্য।

স্বাধীনতা সবসময় জীবনের একটি বড় অংশজুড়ে অবস্থান করে; আর সেই স্বাধীনতা যদি হয় নিজের দেশের, তাহলে সেটি আরও গৌরবের বিষয়। তবে বরাবরের মতোই আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কঠিন। কারণ প্রতিনিয়ত মানুষকে প্রমাণ করতে হবে যে শুধু বছরের একটি দিন নয়, বাকি দিনগুলোতেও সমুন্নত থাকবে এদেশের মানচিত্র ও গৌরবগাথা। বস্তুত স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা আরও বেশি সাহসিকতার কাজ। সব ধরনের সংকট অতিক্রম করে বাঙালি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, স্বাধীনতার মাসে এটিই কাম্য।

নাজিয়া আফরিন : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

নির্ভীক পদচারণার ৫০ বছর

আপডেট টাইম : ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বছর ঘুরে মার্চ মাস এলেই বাঙালির মনে এক ধরনের মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়। একদিকে স্বাধীনতা অর্জনের সুখকর অনুভূতি, অন্যদিকে এ অর্জনের পেছনে থাকা আত্মত্যাগের ইতিহাস। তবে স্বাধীনতা অর্জনের গৌরবময় অনুভূতিটিই যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। ১৯৭১ থেকে ২০২১, আমরা পেরিয়ে এসেছি বাঙালি জাতির নির্ভীক পদচারণার ৫০টি বছর। এই ৫০ বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাঙালিকে দিতে হয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার পরীক্ষা। এভাবে নির্ভীক পদচারণায় বাঙালি সুপরিচিতি লাভ করেছে বিশ্বের দরবারে।

স্বভাবগতভাবেই মানুষ স্বাধীনচেতা। তাই কেউ যদি সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, তাহলে চেতনা রক্ষা এবং আত্মপরিচয় তুলে ধরার তাগিদে হলেও মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে, ছিনিয়ে আনে নিজের অধিকার। ঠিক তেমনি আজ থেকে ৫০ বছর আগে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার সংগ্রামে। লাখ লাখ মানুষের জীবন এবং মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছে একটি নতুন দেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমাদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছরকে ঘিরে আমাদের পরিকল্পনার শেষ ছিল না; কিন্তু করোনাভাইরাসের আক্রমণে অনেক পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হয়েছে। আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠার বদলে অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলায় এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে মানুষকে। তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে বাঙালির মনের ক্যানভাসে যে চিত্র আঁকা রয়েছে, তা মুছে যায়নি। এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হয়তো কিছুটা স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হবে; তবে সব বাঙালির হৃদয়ে থাকবে দিনটির তাৎপর্য।

স্বাধীনতা সবসময় জীবনের একটি বড় অংশজুড়ে অবস্থান করে; আর সেই স্বাধীনতা যদি হয় নিজের দেশের, তাহলে সেটি আরও গৌরবের বিষয়। তবে বরাবরের মতোই আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কঠিন। কারণ প্রতিনিয়ত মানুষকে প্রমাণ করতে হবে যে শুধু বছরের একটি দিন নয়, বাকি দিনগুলোতেও সমুন্নত থাকবে এদেশের মানচিত্র ও গৌরবগাথা। বস্তুত স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা আরও বেশি সাহসিকতার কাজ। সব ধরনের সংকট অতিক্রম করে বাঙালি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, স্বাধীনতার মাসে এটিই কাম্য।

নাজিয়া আফরিন : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়