ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

শহীদ জিয়ার দর্শন এবং নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ ও তার দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় বাংলাদেশ। হত্যা, গুম-খুন হয়ে দাঁড়ায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চরম প্রশাসনকি ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে ১৯৭৪ সালে সারা দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং অনাহারে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় এক ক্যু‘র মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। এতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্রের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ওর্ডার নম্বার ৯ জারি করে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্যদিকে সংবিধানের ১০২ ধারা রহিত করে হাইকোর্টের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিঃশেষ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে এক ব্যক্তির শাসন তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মুজিববাদ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শণ, যার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না বা কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই বাকশাল ছিল না।

ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। অতঃপর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক অভুত্থানে খন্দকার মোশতাককে অপসারিত করে প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনগণের যৌথ বিপ্লবে খালেদ মোশাররফ উৎখাত ও নিহত হলে জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান পদে এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর দেশের এই সংকট ও ক্রান্তিকাল উত্তরণের জন্য জাতির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর মাত্র সাড়ে চার বছরের কম সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্রের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন, তা বিস্ময়কর।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ ও তার দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় বাংলাদেশ। হত্যা, গুম-খুন হয়ে দাঁড়ায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চরম প্রশাসনকি ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে ১৯৭৪ সালে সারা দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং অনাহারে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় এক ক্যু‘র মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। এতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্রের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ওর্ডার নম্বার ৯ জারি করে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্যদিকে সংবিধানের ১০২ ধারা রহিত করে হাইকোর্টের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিঃশেষ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে এক ব্যক্তির শাসন তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মুজিববাদ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শণ, যার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না বা কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই বাকশাল ছিল না। ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। অতঃপর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক অভুত্থানে খন্দকার মোশতাককে অপসারিত করে প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনগণের যৌথ বিপ্লবে খালেদ মোশাররফ উৎখাত ও নিহত হলে জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান পদে এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর দেশের এই সংকট ও ক্রান্তিকাল উত্তরণের জন্য জাতির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর মাত্র সাড়ে চার বছরের কম সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্রের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন, তা বিস্ময়কর।

জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সর্বপ্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর আগে ২৫ মার্চ রাতে সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি কর্নেল জানজুয়ারের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ ৯ মাস স্ত্রী-সন্তানদের কথা না ভেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে ‘জেড ফোর্স’ গঠন করে দুর্ধর্ষ এক সেনাদল গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করেন। ১৯৭৫ সালের ২৮ নভেম্বর জেনারেল জিয়া বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশন গঠন করেন, যা বর্তমানে ঢাকার সাভারে অবস্থিত। তিনিই প্রথম রক্ষী বাহিনীকে বিলুপ্ত করে সেনাবাহিনীকে দেশের সার্বভৌম রক্ষার্থে একটা জাতীয় আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৭৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য প্রথম একুশে পদক প্রবর্তন করেন। একই বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে জেনারেল জিয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেট্রোপলিটন পুলিশের সালাম গ্রহণ করেন।

জেনারেল জিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রণিত প্রেসিডেন্টের ৯ নম্বর আদেশ বাতিল করেন। এই আদেশ বলে যেকোনো অফিসারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা যেত। এভাবে তিনি সিভিল অফিসারদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর সরকার ২৪টি মন্ত্রণালয় এবং ২৯টি ডিভিশন গঠন করে এতে ২৪ জন সচিব ও ১১ জন অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

শহীদ জিয়ার দর্শন এবং নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা

আপডেট টাইম : ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ ও তার দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় বাংলাদেশ। হত্যা, গুম-খুন হয়ে দাঁড়ায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চরম প্রশাসনকি ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে ১৯৭৪ সালে সারা দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং অনাহারে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় এক ক্যু‘র মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। এতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্রের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ওর্ডার নম্বার ৯ জারি করে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্যদিকে সংবিধানের ১০২ ধারা রহিত করে হাইকোর্টের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিঃশেষ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে এক ব্যক্তির শাসন তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মুজিববাদ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শণ, যার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না বা কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই বাকশাল ছিল না।

ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। অতঃপর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক অভুত্থানে খন্দকার মোশতাককে অপসারিত করে প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনগণের যৌথ বিপ্লবে খালেদ মোশাররফ উৎখাত ও নিহত হলে জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান পদে এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর দেশের এই সংকট ও ক্রান্তিকাল উত্তরণের জন্য জাতির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর মাত্র সাড়ে চার বছরের কম সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্রের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন, তা বিস্ময়কর।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ ও তার দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় বাংলাদেশ। হত্যা, গুম-খুন হয়ে দাঁড়ায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চরম প্রশাসনকি ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে ১৯৭৪ সালে সারা দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং অনাহারে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় এক ক্যু‘র মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। এতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্রের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ওর্ডার নম্বার ৯ জারি করে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্যদিকে সংবিধানের ১০২ ধারা রহিত করে হাইকোর্টের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিঃশেষ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে এক ব্যক্তির শাসন তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মুজিববাদ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শণ, যার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না বা কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই বাকশাল ছিল না। ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। অতঃপর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক অভুত্থানে খন্দকার মোশতাককে অপসারিত করে প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনগণের যৌথ বিপ্লবে খালেদ মোশাররফ উৎখাত ও নিহত হলে জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান পদে এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর দেশের এই সংকট ও ক্রান্তিকাল উত্তরণের জন্য জাতির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর মাত্র সাড়ে চার বছরের কম সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্রের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন, তা বিস্ময়কর।

জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সর্বপ্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর আগে ২৫ মার্চ রাতে সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি কর্নেল জানজুয়ারের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ ৯ মাস স্ত্রী-সন্তানদের কথা না ভেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে ‘জেড ফোর্স’ গঠন করে দুর্ধর্ষ এক সেনাদল গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করেন। ১৯৭৫ সালের ২৮ নভেম্বর জেনারেল জিয়া বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশন গঠন করেন, যা বর্তমানে ঢাকার সাভারে অবস্থিত। তিনিই প্রথম রক্ষী বাহিনীকে বিলুপ্ত করে সেনাবাহিনীকে দেশের সার্বভৌম রক্ষার্থে একটা জাতীয় আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৭৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য প্রথম একুশে পদক প্রবর্তন করেন। একই বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে জেনারেল জিয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেট্রোপলিটন পুলিশের সালাম গ্রহণ করেন।

জেনারেল জিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রণিত প্রেসিডেন্টের ৯ নম্বর আদেশ বাতিল করেন। এই আদেশ বলে যেকোনো অফিসারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা যেত। এভাবে তিনি সিভিল অফিসারদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর সরকার ২৪টি মন্ত্রণালয় এবং ২৯টি ডিভিশন গঠন করে এতে ২৪ জন সচিব ও ১১ জন অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ দেন।