ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন নোবেল ২০২৫ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১১ লাখ বাংলাদেশির সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, কবর খুঁড়তে আধুনিক যন্ত্র

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ শুধু হাসপাতাল নয়, করোনার কারণে চাপ বেড়েছে কবরস্থানেও। কবর খুঁড়ে কুল পাচ্ছেন না কবরস্থানের কর্মীরা। চাপ সামলাতে তাই চলছে মেশিন দিয়ে কবর খোঁড়ার কাজ।

দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানে গোর খোদকের কাজ করা কর্মীরা বলছেন, এমন মৃত্যুর র্দীঘ মিছিল তারা কখনই দেখেননি। রাজধানীর রায়েরবাজারের কবরস্থানে দেখা মেলে এমন চিত্রের। সনাতন পদ্ধতিতে কবর খুঁড়ে আর কুলোচ্ছিলো না গোর খোদকদের। তাই তো আনতে হয়েছে আধুনিক মাটিকাটা যন্ত্র। যা দিয়ে অল্প সময়ে অনেক কবর খুঁড়তে পারছেন তারা।

কবরস্থানে প্রবেশ করলে দেখা যাবে সারি সারি নতুন কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছে। দেখে মনে হবে যেন যুদ্ধবিদ্ধস্ত কোনো দেশের চিত্র। করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছেন বহু মানুষ। গোর খোদকদের কাছে এ যেন নীরব যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে লড়াই করে যাওয়া। যুদ্ধের মাঠে পরাজিত মানুষদের মাটি দেয়াই তাদের কাজ।

রায়ের বাজারের গোর খোদকরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বহুগুণ। প্রতিদিন যে পরিমাণ মরদেহ আসছে, তাতে আর শাবল-কোদাল দিয়ে সনতনী পদ্ধতিতে কবর খুঁড়ে কুল পাচ্ছেন না তারা। তাই আশ্রয় নিতে হচ্ছে এমন মাটিকাটা যন্ত্রের। আগে প্রতিদিন যে কয়টি কবর খুঁড়তে হতো তার চেয়ে এখন ৪০ থেকে ৫০টি কবর বেশি খুঁড়তে হচ্ছে।

এদিকে কবরস্থানে প্রতিদিনই বাড়ছে স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ। কবরের টালি খাতায় স্বজনদের নামের তালিকা বেড়েই চলেছে। অনেকে প্রিয় স্বজনের শেষ বিদায় উপস্থিত না থাকতে পারার অপরাধবোধ আর গোপন কষ্ট প্রকাশ করছেন স্বজনের কবরের কাছে এসে।

সময় পরিক্রমায় হয় তো স্বজনের কবরের পাশে লাগানো নাম ফলকটিও চলে যাবে। একই কবরে ঠাঁই হবে অন্য কোনো মানুষের লাশ। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি থেকে যাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনদের হৃদয়ে। একদিন হয়তো এই মহামারি চলে যাবে। কিন্তু চলে যাওয়া স্বজনদের শূন্যতা কাঁদাবে আজীন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, কবর খুঁড়তে আধুনিক যন্ত্র

আপডেট টাইম : ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ শুধু হাসপাতাল নয়, করোনার কারণে চাপ বেড়েছে কবরস্থানেও। কবর খুঁড়ে কুল পাচ্ছেন না কবরস্থানের কর্মীরা। চাপ সামলাতে তাই চলছে মেশিন দিয়ে কবর খোঁড়ার কাজ।

দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানে গোর খোদকের কাজ করা কর্মীরা বলছেন, এমন মৃত্যুর র্দীঘ মিছিল তারা কখনই দেখেননি। রাজধানীর রায়েরবাজারের কবরস্থানে দেখা মেলে এমন চিত্রের। সনাতন পদ্ধতিতে কবর খুঁড়ে আর কুলোচ্ছিলো না গোর খোদকদের। তাই তো আনতে হয়েছে আধুনিক মাটিকাটা যন্ত্র। যা দিয়ে অল্প সময়ে অনেক কবর খুঁড়তে পারছেন তারা।

কবরস্থানে প্রবেশ করলে দেখা যাবে সারি সারি নতুন কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছে। দেখে মনে হবে যেন যুদ্ধবিদ্ধস্ত কোনো দেশের চিত্র। করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছেন বহু মানুষ। গোর খোদকদের কাছে এ যেন নীরব যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে লড়াই করে যাওয়া। যুদ্ধের মাঠে পরাজিত মানুষদের মাটি দেয়াই তাদের কাজ।

রায়ের বাজারের গোর খোদকরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বহুগুণ। প্রতিদিন যে পরিমাণ মরদেহ আসছে, তাতে আর শাবল-কোদাল দিয়ে সনতনী পদ্ধতিতে কবর খুঁড়ে কুল পাচ্ছেন না তারা। তাই আশ্রয় নিতে হচ্ছে এমন মাটিকাটা যন্ত্রের। আগে প্রতিদিন যে কয়টি কবর খুঁড়তে হতো তার চেয়ে এখন ৪০ থেকে ৫০টি কবর বেশি খুঁড়তে হচ্ছে।

এদিকে কবরস্থানে প্রতিদিনই বাড়ছে স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদ। কবরের টালি খাতায় স্বজনদের নামের তালিকা বেড়েই চলেছে। অনেকে প্রিয় স্বজনের শেষ বিদায় উপস্থিত না থাকতে পারার অপরাধবোধ আর গোপন কষ্ট প্রকাশ করছেন স্বজনের কবরের কাছে এসে।

সময় পরিক্রমায় হয় তো স্বজনের কবরের পাশে লাগানো নাম ফলকটিও চলে যাবে। একই কবরে ঠাঁই হবে অন্য কোনো মানুষের লাশ। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি থেকে যাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনদের হৃদয়ে। একদিন হয়তো এই মহামারি চলে যাবে। কিন্তু চলে যাওয়া স্বজনদের শূন্যতা কাঁদাবে আজীন।