ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

রাজনৈতিক পক্ষপাত” নিয়ে বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ

নির্দিষ্টভাবে কতটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আবেদনগুলোর গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, “লাইসেন্স খুব বেশি দেওয়া হবে না। আমরা ধাপে ধাপে এগোব।”

গভর্নর জানান, আগামী আগস্ট মাসে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স আবেদন গ্রহণ শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব প্রতিষ্ঠান এর আগেও আবেদন করেছিল, তারা পুনরায় আবেদন করতে পারবে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত আবেদনগুলো যাচাই করে বাছাই প্রক্রিয়ায় যাব।”

গভর্নর আরও বলেন, সম্ভাব্য ডিজিটাল ব্যাংক অপারেটরদের ২,০০০ থেকে ৩,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “bKash-এর লাভে আসতে ১২ বছর লেগেছে। Nagad-এর ক্ষেত্রেও এক দশক লাগতে পারে। সফল হতে হলে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।”

ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

গভর্নর পরিষ্কার করেছেন, বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রোভাইডাররা সরাসরি ক্ষুদ্র ঋণ (nano loan) বিতরণ করতে পারবে না। এর জন্য তাদের ডিজিটাল ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি খুলতে হবে অথবা নতুন লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে তারা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এ সীমা ১ লাখ, ১.৫ লাখ বা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে, যদি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ আর্থিক শক্তি, বিনিয়োগ সামর্থ্য এবং পরিচালন দক্ষতা প্রমাণ করতে পারে।

পটভূমি ও লাইসেন্স স্থগিত

২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য গাইডলাইন তৈরি করে। এরপর ২১ জুন থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়, যেখানে ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন এবং ২টি ব্যাংককে LOC (লাইসেন্স অব কনসেন্ট) প্রদান করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর, বাংলাদেশ ব্যাংক Nagad Digital Bank-এর লাইসেন্স স্থগিত করে।

নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মঞ্জুর ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ পুনঃমূল্যায়নের ঘোষণা দেন।

কোরি ডিজিটাল লাইসেন্সে অনিশ্চয়তা

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে Letter of Intent (LOI) পাওয়া Kori Digital সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এখনো চূড়ান্ত লাইসেন্স পায়নি। তবে স্পনসর আনিস এ খান জানান, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এক মাস আগেই সকল ডকুমেন্ট ও ফি জমা দিয়েছেন। এখন কেবল ফাইনাল অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন।

আনিস খান আরও জানান, ২০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ৭২ কোটি টাকা আসবে বিদেশি প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে, যার অনুমোদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের সম্ভাবনা চিহ্নিত করেছে। ২০২৩ সালে Nagad এবং Kori Digital-এর লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই উদ্বেগ উঠে আসে।

“Bangladesh: Country Private Sector Diagnostic” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বেসরকারি খাতের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হলো দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নীতিনির্ধারণে অস্পষ্টতা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” এটি তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংকের দুটি প্রতিষ্ঠান – IFC এবং MIGA, এবং তা প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের এপ্রিলের বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক সময় অনির্ধারিতভাবে কিছু আবেদনকারীকে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত লাইসেন্সের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আবার অন্যদের ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং উইন্ডো’ বলে অস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

রাজনৈতিক পক্ষপাত” নিয়ে বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট টাইম : ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

নির্দিষ্টভাবে কতটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আবেদনগুলোর গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, “লাইসেন্স খুব বেশি দেওয়া হবে না। আমরা ধাপে ধাপে এগোব।”

গভর্নর জানান, আগামী আগস্ট মাসে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স আবেদন গ্রহণ শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব প্রতিষ্ঠান এর আগেও আবেদন করেছিল, তারা পুনরায় আবেদন করতে পারবে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত আবেদনগুলো যাচাই করে বাছাই প্রক্রিয়ায় যাব।”

গভর্নর আরও বলেন, সম্ভাব্য ডিজিটাল ব্যাংক অপারেটরদের ২,০০০ থেকে ৩,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “bKash-এর লাভে আসতে ১২ বছর লেগেছে। Nagad-এর ক্ষেত্রেও এক দশক লাগতে পারে। সফল হতে হলে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।”

ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

গভর্নর পরিষ্কার করেছেন, বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রোভাইডাররা সরাসরি ক্ষুদ্র ঋণ (nano loan) বিতরণ করতে পারবে না। এর জন্য তাদের ডিজিটাল ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি খুলতে হবে অথবা নতুন লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে তারা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এ সীমা ১ লাখ, ১.৫ লাখ বা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে, যদি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ আর্থিক শক্তি, বিনিয়োগ সামর্থ্য এবং পরিচালন দক্ষতা প্রমাণ করতে পারে।

পটভূমি ও লাইসেন্স স্থগিত

২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য গাইডলাইন তৈরি করে। এরপর ২১ জুন থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়, যেখানে ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন এবং ২টি ব্যাংককে LOC (লাইসেন্স অব কনসেন্ট) প্রদান করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর, বাংলাদেশ ব্যাংক Nagad Digital Bank-এর লাইসেন্স স্থগিত করে।

নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মঞ্জুর ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ পুনঃমূল্যায়নের ঘোষণা দেন।

কোরি ডিজিটাল লাইসেন্সে অনিশ্চয়তা

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে Letter of Intent (LOI) পাওয়া Kori Digital সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এখনো চূড়ান্ত লাইসেন্স পায়নি। তবে স্পনসর আনিস এ খান জানান, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এক মাস আগেই সকল ডকুমেন্ট ও ফি জমা দিয়েছেন। এখন কেবল ফাইনাল অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন।

আনিস খান আরও জানান, ২০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ৭২ কোটি টাকা আসবে বিদেশি প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে, যার অনুমোদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের সম্ভাবনা চিহ্নিত করেছে। ২০২৩ সালে Nagad এবং Kori Digital-এর লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই উদ্বেগ উঠে আসে।

“Bangladesh: Country Private Sector Diagnostic” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বেসরকারি খাতের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হলো দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নীতিনির্ধারণে অস্পষ্টতা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” এটি তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংকের দুটি প্রতিষ্ঠান – IFC এবং MIGA, এবং তা প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের এপ্রিলের বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক সময় অনির্ধারিতভাবে কিছু আবেদনকারীকে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত লাইসেন্সের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আবার অন্যদের ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং উইন্ডো’ বলে অস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।”