ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

শপিং মলে আগুন, এখন পর্যন্ত নিহত ৬১

পাকিস্তানের করাচিতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে আরও ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে ওই শপিং কমপ্লেক্সে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬১ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনের বেশি।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদ রাজা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের দোকানটিতে এসব মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৭ জানুয়ারি করাচির অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রথমে প্লাজার বেসমেন্টে আগুন লাগলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়।

১৯৮০ সালে নির্মিত পাঁচতলা গুল প্লাজায় প্রায় ১ হাজার ২০০টিরও বেশি দোকান রয়েছে। এর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। অগ্নিকাণ্ডে এসব দোকানের অধিকাংশই সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, করাচির ইতিহাসে এত বড় অগ্নিকাণ্ড আগে ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই বিপুল প্রাণহানির জন্য শপিং কমপ্লেক্সটির ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি প্রবেশ ও বহির্গমন ফটক থাকলেও ব্যবহারযোগ্য ছিল মাত্র দুটি। বাকি গেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল এবং আগুন লাগার সময় সেগুলো খোলা হয়নি। ফলে অসংখ্য মানুষ ভবনের ভেতর আটকা পড়েন। এছাড়া, প্লাজার অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাগুলোও কার্যকর ছিল না।

পুলিশ জানিয়েছে, চূড়ান্ত তদন্ত শেষে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে করাচির পুলিশ প্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে সিন্ধ প্রাদেশিক সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

শপিং মলে আগুন, এখন পর্যন্ত নিহত ৬১

আপডেট টাইম : ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের করাচিতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে আরও ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে ওই শপিং কমপ্লেক্সে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬১ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনের বেশি।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদ রাজা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের দোকানটিতে এসব মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৭ জানুয়ারি করাচির অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রথমে প্লাজার বেসমেন্টে আগুন লাগলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়।

১৯৮০ সালে নির্মিত পাঁচতলা গুল প্লাজায় প্রায় ১ হাজার ২০০টিরও বেশি দোকান রয়েছে। এর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। অগ্নিকাণ্ডে এসব দোকানের অধিকাংশই সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, করাচির ইতিহাসে এত বড় অগ্নিকাণ্ড আগে ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই বিপুল প্রাণহানির জন্য শপিং কমপ্লেক্সটির ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি প্রবেশ ও বহির্গমন ফটক থাকলেও ব্যবহারযোগ্য ছিল মাত্র দুটি। বাকি গেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল এবং আগুন লাগার সময় সেগুলো খোলা হয়নি। ফলে অসংখ্য মানুষ ভবনের ভেতর আটকা পড়েন। এছাড়া, প্লাজার অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাগুলোও কার্যকর ছিল না।

পুলিশ জানিয়েছে, চূড়ান্ত তদন্ত শেষে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে করাচির পুলিশ প্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে সিন্ধ প্রাদেশিক সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।