ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

সূর্যমুখী বাগান ঘিরে গ্রামীণ পর্যটন বিকাশের হাতছানি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের সূর্যমুখী বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের মানুষের কাছে বিনোদন ও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ সূর্যমুখী ফুল যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাগানটিতে এসে ভিড় করছেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, সূর্যমুখী চাষ যেমন লাভজনক, তেমনি এটি গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙা হতে পারে।

উপজেলার কায়েতপাড়া গ্রামের ফাতেমা নগর এলাকায় কয়েক বিঘা জমিতে গত বছর প্রথম সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেন কবির হোসেন। সরকারি প্রণোদনায় বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যেই তার এই উদ্যোগের সূচনা। তবে ফুল ফোটার পর বাগানটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি মুহূর্তেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগমন শুরু হয়।

গত বছরের সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় দুই একর জমিতে বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। গত সপ্তাহ থেকে ফুল ফোটা শুরু হলে প্রতিদিনই শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, গফরগাঁও এমনকি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন।

কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বাগানটিতে ব্লগার ও ইউটিউবারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, যান্ত্রিক শহুরে জীবনের ক্লান্তি ভুলে এমন খোলা পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

মাওনা চৌরাস্তা থেকে আসা দর্শনার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবার নিয়ে এসেছি। এখানে শুধু সূর্যমুখী নয়, নানা রকম ফুল দিয়ে পুরো বাগান সাজানো হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন ফুলের এক স্বর্গরাজ্য।

সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা ইউটিউবার আশিক বেপারি বলেন, এমন সুন্দর একটি জায়গা আমাদের অঞ্চলে তৈরি হওয়ায় কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে। এখানে ঘুরতে এসে দর্শনার্থীরা মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছে। দিন দিন এই বাগানে মানুষের সমাগম বাড়ছে।

তবে গত বছর দর্শনার্থীদের অসচেতন চলাচলের কারণে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রবেশ টিকেটের ব্যবস্থা করেছেন উদ্যোক্তা কবির হোসেন। প্রতিজন দর্শনার্থীর জন্য টিকেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

গত শুক্র ও শনিবার মাত্র দুদিনেই প্রায় তিন হাজার দর্শনার্থী বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এই সূর্যমুখী বাগানের প্রদর্শনী চলতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উদ্যোক্তা কবির হোসেন জানান, এবার সূর্যমুখী বাগান করতে তার প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শুধু লাভের কথা ভেবে সূর্যমুখী চাষ করিনি। এত টাকা পুরোটা উঠে আসবে কি না তা নিশ্চিত না। তবে মানুষ এখানে এসে আনন্দ পাচ্ছে এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, কিছু দর্শনার্থীর অসচেতনতার কারণে ফুল ছিঁড়ে ফেলা ও গাছ নষ্ট করার ঘটনাও ঘটছে, যা দুঃখজনক। দর্শনার্থীদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এবার টিউলিপ চাষ করেছেন, সময়মতো প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে মানুষকে উপহার দিতে চান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

সূর্যমুখী বাগান ঘিরে গ্রামীণ পর্যটন বিকাশের হাতছানি

আপডেট টাইম : ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের সূর্যমুখী বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের মানুষের কাছে বিনোদন ও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ সূর্যমুখী ফুল যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাগানটিতে এসে ভিড় করছেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, সূর্যমুখী চাষ যেমন লাভজনক, তেমনি এটি গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙা হতে পারে।

উপজেলার কায়েতপাড়া গ্রামের ফাতেমা নগর এলাকায় কয়েক বিঘা জমিতে গত বছর প্রথম সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেন কবির হোসেন। সরকারি প্রণোদনায় বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যেই তার এই উদ্যোগের সূচনা। তবে ফুল ফোটার পর বাগানটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি মুহূর্তেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগমন শুরু হয়।

গত বছরের সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় দুই একর জমিতে বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। গত সপ্তাহ থেকে ফুল ফোটা শুরু হলে প্রতিদিনই শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, গফরগাঁও এমনকি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন।

কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বাগানটিতে ব্লগার ও ইউটিউবারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, যান্ত্রিক শহুরে জীবনের ক্লান্তি ভুলে এমন খোলা পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

মাওনা চৌরাস্তা থেকে আসা দর্শনার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবার নিয়ে এসেছি। এখানে শুধু সূর্যমুখী নয়, নানা রকম ফুল দিয়ে পুরো বাগান সাজানো হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন ফুলের এক স্বর্গরাজ্য।

সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা ইউটিউবার আশিক বেপারি বলেন, এমন সুন্দর একটি জায়গা আমাদের অঞ্চলে তৈরি হওয়ায় কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে। এখানে ঘুরতে এসে দর্শনার্থীরা মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছে। দিন দিন এই বাগানে মানুষের সমাগম বাড়ছে।

তবে গত বছর দর্শনার্থীদের অসচেতন চলাচলের কারণে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রবেশ টিকেটের ব্যবস্থা করেছেন উদ্যোক্তা কবির হোসেন। প্রতিজন দর্শনার্থীর জন্য টিকেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

গত শুক্র ও শনিবার মাত্র দুদিনেই প্রায় তিন হাজার দর্শনার্থী বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এই সূর্যমুখী বাগানের প্রদর্শনী চলতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উদ্যোক্তা কবির হোসেন জানান, এবার সূর্যমুখী বাগান করতে তার প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শুধু লাভের কথা ভেবে সূর্যমুখী চাষ করিনি। এত টাকা পুরোটা উঠে আসবে কি না তা নিশ্চিত না। তবে মানুষ এখানে এসে আনন্দ পাচ্ছে এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, কিছু দর্শনার্থীর অসচেতনতার কারণে ফুল ছিঁড়ে ফেলা ও গাছ নষ্ট করার ঘটনাও ঘটছে, যা দুঃখজনক। দর্শনার্থীদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এবার টিউলিপ চাষ করেছেন, সময়মতো প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে মানুষকে উপহার দিতে চান।