ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর বরফের মানচিত্র তৈরি করলেন চীনা বিজ্ঞানীরা

চীনা বিজ্ঞানীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বরফের তাপীয় স্থিতিশীলতা নির্ণয়ে একটি উচ্চ-রেজোলিউশনের মডেল তৈরি করেছেন। এটি ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকা ছাং’এ-৭ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনের জাতীয় মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্রের অধীনে কি ল্যাবরেটরি অব সোলার অ্যাকটিভিটি অ্যান্ড স্পেস ওয়েদার–এর গবেষক দল এই ‘লুনার পোলার ওয়াটার-আইস থার্মাল স্ট্যাবিলিটি মডেল’ তৈরি করেছেন।

গবেষকদের মতে, চাঁদের অতি নিম্ন তাপমাত্রায় মাটির তাপীয় বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করে মডেলটি পৃষ্ঠের বিকিরণ, মাটির তাপমাত্রা এবং কোথায় পানি-বরফ দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকতে পারে—সেসব এলাকার সিমুলেশন করে।

গবেষণার বিস্তারিত সম্প্রতি প্লানেটারি সায়েন্স জার্নাল–এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবস্থিত শ্যাকলটন ক্র্যাটারকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ছাং’এ–৭ মিশনের সম্ভাব্য অবতরণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।

ছাং’এ–৭ মিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে উচ্চ-নির্ভুল রিমোট সেন্সিং এবং সরাসরি স্থলপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পানি-বরফ শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা।পানির বরফের তাপীয় স্থিতিশীলতা বলতে বোঝায় দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক সময়কালে বরফ কতটা সহজে বাষ্পীভূত হয়ে হারিয়ে যায়। এই স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন করলে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বরফের সম্ভাব্য বিস্তার সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

গবেষক দল জানায়, নতুন মডেলটি সম্ভাব্য বরফ সঞ্চয়ের আরও নির্ভুল ও বিস্তারিত মানচিত্র দিতে পারে। এর মাধ্যমে চাঁদের আলো পাওয়া এলাকা, মাটির তাপমাত্রা এবং পানি-বরফের মতো উদ্বায়ী উপাদানের স্থিতিশীল অঞ্চল নির্ণয় করা যায়।

তাদের ভাষ্য, এই মডেল ছাং’এ ৭–এর সম্ভাব্য অবতরণ অঞ্চলে পানি-বরফের তাপীয় স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণে সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে, যা ভবিষ্যতের পানি-বরফ অনুসন্ধান মিশনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।

চায়না মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাং’এ–৭ মিশনের উপপ্রধান ডিজাইনার থাং ইয়ুহুয়া বলেন, চাঁদে পানি-বরফ সফলভাবে খুঁজে পাওয়া গেলে পৃথিবী থেকে পানি বহনের খরচ ও সময় অনেক কমে যাবে। এতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব ঘাঁটি স্থাপন কিংবা মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে ভবিষ্যৎ অভিযানের পথ সুগম হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর বরফের মানচিত্র তৈরি করলেন চীনা বিজ্ঞানীরা

আপডেট টাইম : ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চীনা বিজ্ঞানীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বরফের তাপীয় স্থিতিশীলতা নির্ণয়ে একটি উচ্চ-রেজোলিউশনের মডেল তৈরি করেছেন। এটি ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকা ছাং’এ-৭ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনের জাতীয় মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্রের অধীনে কি ল্যাবরেটরি অব সোলার অ্যাকটিভিটি অ্যান্ড স্পেস ওয়েদার–এর গবেষক দল এই ‘লুনার পোলার ওয়াটার-আইস থার্মাল স্ট্যাবিলিটি মডেল’ তৈরি করেছেন।

গবেষকদের মতে, চাঁদের অতি নিম্ন তাপমাত্রায় মাটির তাপীয় বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করে মডেলটি পৃষ্ঠের বিকিরণ, মাটির তাপমাত্রা এবং কোথায় পানি-বরফ দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকতে পারে—সেসব এলাকার সিমুলেশন করে।

গবেষণার বিস্তারিত সম্প্রতি প্লানেটারি সায়েন্স জার্নাল–এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবস্থিত শ্যাকলটন ক্র্যাটারকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ছাং’এ–৭ মিশনের সম্ভাব্য অবতরণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।

ছাং’এ–৭ মিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে উচ্চ-নির্ভুল রিমোট সেন্সিং এবং সরাসরি স্থলপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পানি-বরফ শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা।পানির বরফের তাপীয় স্থিতিশীলতা বলতে বোঝায় দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক সময়কালে বরফ কতটা সহজে বাষ্পীভূত হয়ে হারিয়ে যায়। এই স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন করলে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বরফের সম্ভাব্য বিস্তার সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

গবেষক দল জানায়, নতুন মডেলটি সম্ভাব্য বরফ সঞ্চয়ের আরও নির্ভুল ও বিস্তারিত মানচিত্র দিতে পারে। এর মাধ্যমে চাঁদের আলো পাওয়া এলাকা, মাটির তাপমাত্রা এবং পানি-বরফের মতো উদ্বায়ী উপাদানের স্থিতিশীল অঞ্চল নির্ণয় করা যায়।

তাদের ভাষ্য, এই মডেল ছাং’এ ৭–এর সম্ভাব্য অবতরণ অঞ্চলে পানি-বরফের তাপীয় স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণে সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে, যা ভবিষ্যতের পানি-বরফ অনুসন্ধান মিশনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।

চায়না মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাং’এ–৭ মিশনের উপপ্রধান ডিজাইনার থাং ইয়ুহুয়া বলেন, চাঁদে পানি-বরফ সফলভাবে খুঁজে পাওয়া গেলে পৃথিবী থেকে পানি বহনের খরচ ও সময় অনেক কমে যাবে। এতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব ঘাঁটি স্থাপন কিংবা মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে ভবিষ্যৎ অভিযানের পথ সুগম হবে।