ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের বেশ কয়েকজন সেনা কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ বুধবার (১১ মার্চ)। এতে অংশ নিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির লাখ লাখ মানুষ।

শহরে শহরে রোল পড়ে গেছে কান্নার। তারা সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে জায়নবাদী ইসরাইল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।তেহরানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ঘোষণা করেছে।

নিহতের তালিকায় ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানীয় কিছু নাম আছে। নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্তেশ) এবং বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) উভয়ের প্রধান, সেইসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব স্টাফের জন্য একটি যৌথ জানাজা আয়োজন করার বিষয়টি ক্ষয়ক্ষতির বিশাল মাত্রাকেই ফুটিয়ে তোলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশের সামরিক কমান্ড কাঠামোর একটি বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু ও নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি সংস্থা—’ফাউন্ডেশন ফর দ্য প্রিজারভেশন অব ওয়ার্কস অ্যান্ড পাবলিকেশন অব ভ্যালুস অব হোলি ডিফেন্স’ এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ একদল ‘শহীদের‘ লাশ বুধবার বিকেলে এনকেলাব (বিপ্লব) চত্বর থেকে ‘মেরাজ-ই শোহাদা’র (শহীদ মাজার) দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐতিহাসিকভাবে ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শব্দটি ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। বর্তমান এই সংঘাতকে ‘রমজান ইম্পোজড ওয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে শাসকগোষ্ঠী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি মনোবলহীন জনগণকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে; যেখানে বর্তমান সংকটকে পবিত্র রমজান মাসে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র সংগ্রাম হিসেবে ফ্রেমবন্দি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ শিরাজির মৃত্যুটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি সর্বোচ্চ নেতা এবং সমগ্র সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদের পাশাপাশি তার মৃত্যু এটিই নির্দেশ করে যে, ‘বায়েত-ই রেহবারি’ (নেতার কার্যালয় ও বাসভবন) সম্ভবত একটি বিশাল ও সফল ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ হামলার শিকার হয়েছে, যা একটি জরুরি বৈঠকের সময় উচ্চপদস্থ কমান্ডকে আঘাত হেনেছে।

এছাড়া মোহসেন দারেহ-বাঘি, হাসান-আলী তাজিক, দাউদ আসগারি, বাহরাম হোসেইনি মোতলাক, আবুল কাসেম বাবায়ান, রাসূল হেলালি ও গোলামরেজা রেজাইয়ানের নাম যুদ্ধে নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তাদের পদমর্যাদা প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তাসনিম জানায়, ইরানের ল এনফোর্সমেন্ট কমান্ডের (ফারাজা) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান তেহরানে ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক হামলার সময় নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা ও ইরান উইয়ার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল

আপডেট টাইম : ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের বেশ কয়েকজন সেনা কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ বুধবার (১১ মার্চ)। এতে অংশ নিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির লাখ লাখ মানুষ।

শহরে শহরে রোল পড়ে গেছে কান্নার। তারা সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে জায়নবাদী ইসরাইল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।তেহরানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ঘোষণা করেছে।

নিহতের তালিকায় ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানীয় কিছু নাম আছে। নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্তেশ) এবং বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) উভয়ের প্রধান, সেইসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব স্টাফের জন্য একটি যৌথ জানাজা আয়োজন করার বিষয়টি ক্ষয়ক্ষতির বিশাল মাত্রাকেই ফুটিয়ে তোলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশের সামরিক কমান্ড কাঠামোর একটি বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু ও নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি সংস্থা—’ফাউন্ডেশন ফর দ্য প্রিজারভেশন অব ওয়ার্কস অ্যান্ড পাবলিকেশন অব ভ্যালুস অব হোলি ডিফেন্স’ এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ একদল ‘শহীদের‘ লাশ বুধবার বিকেলে এনকেলাব (বিপ্লব) চত্বর থেকে ‘মেরাজ-ই শোহাদা’র (শহীদ মাজার) দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐতিহাসিকভাবে ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শব্দটি ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। বর্তমান এই সংঘাতকে ‘রমজান ইম্পোজড ওয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে শাসকগোষ্ঠী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি মনোবলহীন জনগণকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে; যেখানে বর্তমান সংকটকে পবিত্র রমজান মাসে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র সংগ্রাম হিসেবে ফ্রেমবন্দি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ শিরাজির মৃত্যুটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি সর্বোচ্চ নেতা এবং সমগ্র সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদের পাশাপাশি তার মৃত্যু এটিই নির্দেশ করে যে, ‘বায়েত-ই রেহবারি’ (নেতার কার্যালয় ও বাসভবন) সম্ভবত একটি বিশাল ও সফল ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ হামলার শিকার হয়েছে, যা একটি জরুরি বৈঠকের সময় উচ্চপদস্থ কমান্ডকে আঘাত হেনেছে।

এছাড়া মোহসেন দারেহ-বাঘি, হাসান-আলী তাজিক, দাউদ আসগারি, বাহরাম হোসেইনি মোতলাক, আবুল কাসেম বাবায়ান, রাসূল হেলালি ও গোলামরেজা রেজাইয়ানের নাম যুদ্ধে নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তাদের পদমর্যাদা প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তাসনিম জানায়, ইরানের ল এনফোর্সমেন্ট কমান্ডের (ফারাজা) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান তেহরানে ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক হামলার সময় নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা ও ইরান উইয়ার।