ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিলের ঘাসে লেখা জীবন সংসদ অধিবেশনেও দায়িত্বে সচেতন, পত্রিকায় চোখ প্রধানমন্ত্রীর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেরপুরের গারো পাহাড়ে কফি চাষে নতুন বিপ্লব: ভাগ্য বদলের স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জন্য ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ইতালির আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান: জামায়াত আমির ড. ইউনূসকে বই উপহার দিলেন ছাত্রদল নেতা আবিদ ৩ দিন অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রিসভায় হজের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল ইরান যুদ্ধ থামাতে চীন ও পাকিস্তানের পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জন্য ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি সরকার। ইতালির সিজিলি দ্বীপে অবস্থিত সিগোনেলা (Sigonella) বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো প্রকার সামরিক অভিযান পরিচালনা না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রোম।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রের দাবি, ইতালি সরকার মনে করছে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই মুহূর্তে তাদের মাটি ব্যবহার করে কোনো হামলা বা অভিযান চললে তা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত সিগোনেলা বিমান ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই ঘাঁটিটি লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা নজরদারির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অতীতে বিভিন্ন অভিযানে এই ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতালির এই অস্বীকৃতি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতালির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালির এই অবস্থান ন্যাটোর দুই মিত্র দেশের মধ্যে কিছুটা শীতল সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে, কারণ সাধারণ জনগণ দেশটিকে কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে দেখতে চায় না।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরিবর্তে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে ইতালি তার অবস্থান স্পষ্ট করল এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। ইতালির এই ‘না’ মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বিলের ঘাসে লেখা জীবন

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জন্য ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

আপডেট টাইম : ৩৬ মিনিট আগে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি সরকার। ইতালির সিজিলি দ্বীপে অবস্থিত সিগোনেলা (Sigonella) বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো প্রকার সামরিক অভিযান পরিচালনা না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রোম।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রের দাবি, ইতালি সরকার মনে করছে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই মুহূর্তে তাদের মাটি ব্যবহার করে কোনো হামলা বা অভিযান চললে তা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত সিগোনেলা বিমান ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই ঘাঁটিটি লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা নজরদারির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অতীতে বিভিন্ন অভিযানে এই ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতালির এই অস্বীকৃতি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতালির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালির এই অবস্থান ন্যাটোর দুই মিত্র দেশের মধ্যে কিছুটা শীতল সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে, কারণ সাধারণ জনগণ দেশটিকে কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে দেখতে চায় না।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরিবর্তে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে ইতালি তার অবস্থান স্পষ্ট করল এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। ইতালির এই ‘না’ মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।