২০২৫ সালে বিদেশে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেছেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।”
তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বিদেশে কর্মী প্রেরণ সহজ করতে এখন পর্যন্ত ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বন্ধ বা সঙ্কুচিত শ্রমবাজার, যেমন: মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন আবার চালু করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
জাপানে কর্মী পাঠাতে বিশেষ উদ্যোগ
মন্ত্রী জানন, জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে, যেখানে অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে না। আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, জাপানের স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার কর্মসূচিতে বাংলাদেশ নবম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়া ও সিশেলসের সঙ্গেও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে চুক্তি হয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়নে জোর
মন্ত্রী বলেন, দেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৬টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে। বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা, আরবি, ইতালিয়ান ও জার্মান ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফেরত আসা কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণের মাধ্যমে আবার বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো জানান, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ লাখ দক্ষ গাড়িচালক তৈরির লক্ষ্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 






















