ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবও কি মমতার হাত ছাড়লেন

বিধানসভার পর লোকসভাতেও তাসের ঘর মত ভেঙে পড়ল তৃণমূল। ২৮-এর মধ্যে ২০ বিদ্রোহী সাংসদ  এনডএ-তে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন। এই তালিকায় ঘাটালের সাংসদ দেব ছিলেন কি না, এই নিয়ে জোর জল্পনা চলে। এই জল্পনায় আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে গত সোমবার দেবের দিল্লি যাত্রা। ওই দিন সন্ধ্যেবেলাতেই দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি।

সেখানে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরলেও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি দেব। তার এই রহস্যময় নীরবতা জল্পনার আঁচকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ইতোমধ্যেই নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দেবও কি তাহলে মমতার হাত ছাড়লেন?

দিল্লি থেকে ফিরেই দেব সোজা চলে যান তার নতুন ছবি ‘দেশু৭’র শুটিং ফ্লোরে। সেখান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করেন তারকা-সাংসদ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কাজ করতে করতে ক্লান্ত দেব মনিটরের সামনে মাইক্রোফোন হাতে বসে আছেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন: ‘Back to where I belong #Desu7 Directors life’ মানে আমার জায়গাতেই আমি ফিরে এলাম, পরিচালকের জীবন।

তবে অনেকেরই মতে, এই একটা লাইনেই দেব আসলে সবাইকে বড় বার্তা দিলেন। একদিকে যখন তাঁর বিরুদ্ধে দলকে ‘ধোঁকা’ দেওয়ার কথা উঠছে, তখন দেব বুঝিয়ে দিলেন যে তাঁর আসল ভালোবাসা রাজনীতি নয়, বরং সিনেমা জগৎ।

এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি দাবি ঘিরে। তিনি জানিয়েছেন, দলের ২০ জন সাংসদ মিলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে তারা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গে চলতে চান। ঘাটালের তিনবারের বিজয়ী সাংসদ দেব সেই চিঠিতে সই করেছেন কি না, তা কাকলিদেবী স্পষ্ট করে না বললেও, দেবের নাম জড়িয়ে গুঞ্জন থামছে না।

রাজনীতির ময়দানে পা দেওয়ার পর দেবের মুখে কোনওদিন কাউকে কোনও নেগেটিভ মন্তব্য শোনা যায়নি। তৃণমূলের এই ভরাডুবিতে দেব এবার কী করবেন, সেটা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

এদিকে, দেব বিদ্রোহী হওয়ার জল্পনার মাঝে অভিনেতাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন, ‘দেবের অবস্থান নিয়ে আমাকে অনেকে প্রশ্ন করছেন। আমার বক্তব্য: দেব বাংলা সিনেমার সুপারস্টার। ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর ক্রাউড পুলার। ওর কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমীকরণে রাজনৈতিক অবস্থানগত কারণে আমার আপত্তি ছিল। সেটা আমি স্পষ্ট জানাতাম। অভিনেতা এবং রাজনৈতিক সত্তার মেরুকরণ থেকে সেই জটিলতা ছিল। বাকিটা তৃণমূলনেত্রী ও দল বুঝবেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতাদি ও অভিষেকের পর যদি কেউ সারা বাংলা ঘুরে প্রচার করে থাকে, সে দেব এবং সর্বশেষ, আমি দেবকে ধন্যবাদ দেব, কারণ আমার একটি অনুরোধে ব্যস্ত, ক্লান্তিকর প্রচার ও শ্যুটিংয়ের মধ্যেও সে বেলেঘাটা কেন্দ্রে আমার প্রচার করে দিয়ে গেছিল।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে একটি প্রশাসনিক বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে সেখানে পৌঁছান তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সাংসদ দেব-ও এই বৈঠকে যোগ দিতে কোলাঘাটে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

দেবও কি মমতার হাত ছাড়লেন

আপডেট টাইম : ৪৪ মিনিট আগে

বিধানসভার পর লোকসভাতেও তাসের ঘর মত ভেঙে পড়ল তৃণমূল। ২৮-এর মধ্যে ২০ বিদ্রোহী সাংসদ  এনডএ-তে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন। এই তালিকায় ঘাটালের সাংসদ দেব ছিলেন কি না, এই নিয়ে জোর জল্পনা চলে। এই জল্পনায় আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে গত সোমবার দেবের দিল্লি যাত্রা। ওই দিন সন্ধ্যেবেলাতেই দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি।

সেখানে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরলেও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি দেব। তার এই রহস্যময় নীরবতা জল্পনার আঁচকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ইতোমধ্যেই নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দেবও কি তাহলে মমতার হাত ছাড়লেন?

দিল্লি থেকে ফিরেই দেব সোজা চলে যান তার নতুন ছবি ‘দেশু৭’র শুটিং ফ্লোরে। সেখান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করেন তারকা-সাংসদ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কাজ করতে করতে ক্লান্ত দেব মনিটরের সামনে মাইক্রোফোন হাতে বসে আছেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন: ‘Back to where I belong #Desu7 Directors life’ মানে আমার জায়গাতেই আমি ফিরে এলাম, পরিচালকের জীবন।

তবে অনেকেরই মতে, এই একটা লাইনেই দেব আসলে সবাইকে বড় বার্তা দিলেন। একদিকে যখন তাঁর বিরুদ্ধে দলকে ‘ধোঁকা’ দেওয়ার কথা উঠছে, তখন দেব বুঝিয়ে দিলেন যে তাঁর আসল ভালোবাসা রাজনীতি নয়, বরং সিনেমা জগৎ।

এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি দাবি ঘিরে। তিনি জানিয়েছেন, দলের ২০ জন সাংসদ মিলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে তারা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গে চলতে চান। ঘাটালের তিনবারের বিজয়ী সাংসদ দেব সেই চিঠিতে সই করেছেন কি না, তা কাকলিদেবী স্পষ্ট করে না বললেও, দেবের নাম জড়িয়ে গুঞ্জন থামছে না।

রাজনীতির ময়দানে পা দেওয়ার পর দেবের মুখে কোনওদিন কাউকে কোনও নেগেটিভ মন্তব্য শোনা যায়নি। তৃণমূলের এই ভরাডুবিতে দেব এবার কী করবেন, সেটা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

এদিকে, দেব বিদ্রোহী হওয়ার জল্পনার মাঝে অভিনেতাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন, ‘দেবের অবস্থান নিয়ে আমাকে অনেকে প্রশ্ন করছেন। আমার বক্তব্য: দেব বাংলা সিনেমার সুপারস্টার। ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর ক্রাউড পুলার। ওর কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমীকরণে রাজনৈতিক অবস্থানগত কারণে আমার আপত্তি ছিল। সেটা আমি স্পষ্ট জানাতাম। অভিনেতা এবং রাজনৈতিক সত্তার মেরুকরণ থেকে সেই জটিলতা ছিল। বাকিটা তৃণমূলনেত্রী ও দল বুঝবেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতাদি ও অভিষেকের পর যদি কেউ সারা বাংলা ঘুরে প্রচার করে থাকে, সে দেব এবং সর্বশেষ, আমি দেবকে ধন্যবাদ দেব, কারণ আমার একটি অনুরোধে ব্যস্ত, ক্লান্তিকর প্রচার ও শ্যুটিংয়ের মধ্যেও সে বেলেঘাটা কেন্দ্রে আমার প্রচার করে দিয়ে গেছিল।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে একটি প্রশাসনিক বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে সেখানে পৌঁছান তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সাংসদ দেব-ও এই বৈঠকে যোগ দিতে কোলাঘাটে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন।