ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো সরকার

কঠোর সমালোচনার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

এটি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার নীতির পরিপন্থী হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে কঠোর সমালোচিত হচ্ছিলো।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষার ব্যয়ভার কমাতে বদ্ধপরিকর। অর্থের বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, যা এখন বাতিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত অবহিত করবেন।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল (স্কুলে খাবার) কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীবান্ধব আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তারই অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পরীক্ষা নিতেই হবে, আর এর জন্য টাকা দরকার। কিন্তু এখন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি নেওয়া হবে না। ফি নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব।

প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক উল্লেখ করে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনেকে বলেছেন, পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবৈতনিক শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো সরকার

আপডেট টাইম : ১৬ ঘন্টা আগে

কঠোর সমালোচনার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

এটি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার নীতির পরিপন্থী হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে কঠোর সমালোচিত হচ্ছিলো।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষার ব্যয়ভার কমাতে বদ্ধপরিকর। অর্থের বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, যা এখন বাতিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত অবহিত করবেন।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল (স্কুলে খাবার) কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীবান্ধব আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তারই অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পরীক্ষা নিতেই হবে, আর এর জন্য টাকা দরকার। কিন্তু এখন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি নেওয়া হবে না। ফি নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব।

প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক উল্লেখ করে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনেকে বলেছেন, পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবৈতনিক শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।