আপনি কে? মহানবী (সা.) পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার আদি বাড়ি কোথায়, তোমার ধর্ম কী?’ আদদাস জবাব দিল, ‘আমি ইরাকের নিনেভা শহরের এক খ্রিষ্টান।’ নিনেভার নাম শুনে নবীজির রক্তাক্ত মুখেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। তিনি বললেন, ‘তুমি তবে সেই পুণ্যবান নবী ইউনুস ইবনে মাত্তার শহরের লোক!’ আদদাস আরও অবাক, এই মরুভূমির মানুষ ইউনুসের নাম জানার কথা নয়। মহানবী (সা.) বললেন, ‘ইউনুস ছিলেন আমার ভাই। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী, আমিও আল্লাহর নবী।’এই একটি বাক্য জাগিয়ে তুলল আদদাসের ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা বিশ্বাস। সে বুঝে গেল, সামনে বসা মানুষটি মক্কার কোনো সাধারণ নেতা নন। তিনি সেই শেষ নবী, যাঁর কথা তার নিজের কিতাবেও লেখা আছে। সে নবীজির হাতে, পায়ে, কপালে চুমু খেতে লাগল। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখে উতবা-শাইবা আফসোস করে বলল, ‘সর্বনাশ, লোকটা আমাদের দাসকেও নষ্ট করে দিল!’ ফিরে আসার পর তারা আদদাসকে জিজ্ঞেস করল, কেন সে ওভাবে চুমু খাচ্ছিল। আদদাস দৃঢ়ভাবে জবাব দিল, ‘এই পৃথিবীতে এই মানুষটির চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই। তিনি আমাকে এমন এক সত্য বলেছেন, যা একজন নবী ছাড়া কেউ জানতে পারে না।’
এই তাৎক্ষণিক ইসলাম গ্রহণ ছিল তায়েফের সেই অন্ধকার দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক টুকরো সান্ত্বনা। সেই আঙুর বাগানের জায়গাতেই পরে গড়ে ওঠে একটি মসজিদ—মসজিদে আদদাস। বাহ্যিক ব্যর্থতার আড়ালে আসলে সফলতা লুকিয়ে থাকে। পুরো তায়েফ শহর নবীজিকে তাড়িয়ে দেয়, অথচ আল্লাহ ঠিক তখনই একজন সাধারণ দাসের অন্তর খুলে দেন। তাই আজও তায়েফে যারা বেড়াতে যান, তারা মসজিদ আদদাসের শান্ত পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হন, অস্থির হৃদয়ে সান্ত্বনা লাভ করেন। বুঝতে পারেন, যখন দুনিয়ার সব মানুষ বিপক্ষে চলে যায়, চারপাশ তাড়িয়ে দেয়, তখনও আল্লাহর রহমতের একটা আঙুরের থোকা আর একজন বিশ্বস্ত আদদাস কোথাও না কোথাও অপেক্ষা করে থাকে।
তথ্যসূত্র : (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খণ্ড ৩, পৃ. ১৩২, সীরাতে ইবনে হিশাম, সিরাতুন নবাবিয়্যাহ, ২/৭১, ইবনুল আসির, আল-কামিল ফিত-তারিখ, খণ্ড ১, পৃ. ৬৬০)