ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরবরাহ নিশ্চিতে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন সেচকাজে ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্প দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী আত্মঘাতী হয়ে উঠছে মানুষ জামায়াতের লং মার্চের দাবি আর সংসদের বক্তব্য দ্বিমুখী : চরমোনাই পীর ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি লেবার নেতা করবিনের ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ব্যালন ডি’অর: সুযোগ থাকলে মেসিকে ১০০ বার ভোট দিতেন জিদান রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় শারীরিক অবস্থার অবনতি, লাইফ সাপোর্টে মেঘমল্লার বসু পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী

প্রয়োজনে কসম বা শপথ করা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা নাজায়েজ, অর্থাৎ জায়েজ নয়।

এটি শিরকের (আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা) সমতুল্য। ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল। (মিশকাত, হাদিস : ৩৪১৯)তবে বর্তমান সময়ে কথায় কথায় মানুষকে কসম কাটতে দেখা যায়। কেউ কেউ তো পান থেকে চুন খসলেও অবলীলায় কসম কাটেন, যা কোনোভাবেই উচিত নয়।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তার অনুসরণ করো না, যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে (বারবার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত : ১০)আবার কোনো কিছুতে বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝাতে অনেককে বাবা-মায়ের কসম কাটতেও দেখা যায়। এ ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উমর ইবনু খাত্তাব (রা.)-কে কোনো বাহনের ওপর আরোহণ অবস্থায় পেলেন।

ওই সময় তিনি তার বাবার নামে কসম করছিলেন। পরে রাসুল (সা.) বললেন, সাবধান! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নতুবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৯১)তবে প্রয়োজনে কসম কাটা জায়েজ থাকলেও কোনোভাবেই মিথ্যা কসম কাটা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আখিরাতে ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত : ৭৭)অন্যদিকে মিথ্যা কসম কাটা কবীরা গুনাহের (বড় গুনাহ বা পাপ) মধ্যে অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার নাফরমানি করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২১৯)

এছাড়াও মিথ্যা কসমকারীর জন্য পরকালে জাহান্নাম অবধারিত। ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো হাকিমের আদালতে বন্দি থাকা অবস্থায় মিথ্যা কসম খায়, সে যেন তার আবাসস্থল জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩২২৭)

মনে রাখতে হবে, ভালো কিছুর জন্য আল্লাহর নামে কসম কাটার পর সেটি পূরণ করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ, কেউ যদি আল্লাহর নামে কসম কেটে কারও কাছে কোনোকিছু দেয়ার ওয়াদা করে কিংবা নিজে কোনোকিছু না করার ওয়াদা করেও তা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে কসমের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত বা ক্ষতিপূরণ) দিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, ভুল করে কিংবা রাগের মাথায় কোনোকিছু থেকে বিরত থাকার কসম করার পর কেউ যদি সেটি করে ফেলে তবে তাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে। কসমের কাফফারা হলো- হয় ১০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে; নয়তো তিন দিন রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ, কেউ কোনো কিছুর কসম করেও তা পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে কাফফারা হিসেবে ১০ জন মিসকিন বা দরিদ্র মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে। অথবা তিনি চাইলে ৩ দিন রোজে রেখেও কসমের কাফফারা বা কসম ভাঙার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরবরাহ নিশ্চিতে এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী

আপডেট টাইম : ০৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রয়োজনে কসম বা শপথ করা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা নাজায়েজ, অর্থাৎ জায়েজ নয়।

এটি শিরকের (আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা) সমতুল্য। ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শিরক করল। (মিশকাত, হাদিস : ৩৪১৯)তবে বর্তমান সময়ে কথায় কথায় মানুষকে কসম কাটতে দেখা যায়। কেউ কেউ তো পান থেকে চুন খসলেও অবলীলায় কসম কাটেন, যা কোনোভাবেই উচিত নয়।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তার অনুসরণ করো না, যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে (বারবার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত : ১০)আবার কোনো কিছুতে বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝাতে অনেককে বাবা-মায়ের কসম কাটতেও দেখা যায়। এ ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উমর ইবনু খাত্তাব (রা.)-কে কোনো বাহনের ওপর আরোহণ অবস্থায় পেলেন।

ওই সময় তিনি তার বাবার নামে কসম করছিলেন। পরে রাসুল (সা.) বললেন, সাবধান! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নতুবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৯১)তবে প্রয়োজনে কসম কাটা জায়েজ থাকলেও কোনোভাবেই মিথ্যা কসম কাটা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আখিরাতে ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত : ৭৭)অন্যদিকে মিথ্যা কসম কাটা কবীরা গুনাহের (বড় গুনাহ বা পাপ) মধ্যে অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার নাফরমানি করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২১৯)

এছাড়াও মিথ্যা কসমকারীর জন্য পরকালে জাহান্নাম অবধারিত। ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো হাকিমের আদালতে বন্দি থাকা অবস্থায় মিথ্যা কসম খায়, সে যেন তার আবাসস্থল জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩২২৭)

মনে রাখতে হবে, ভালো কিছুর জন্য আল্লাহর নামে কসম কাটার পর সেটি পূরণ করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ, কেউ যদি আল্লাহর নামে কসম কেটে কারও কাছে কোনোকিছু দেয়ার ওয়াদা করে কিংবা নিজে কোনোকিছু না করার ওয়াদা করেও তা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে কসমের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত বা ক্ষতিপূরণ) দিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, ভুল করে কিংবা রাগের মাথায় কোনোকিছু থেকে বিরত থাকার কসম করার পর কেউ যদি সেটি করে ফেলে তবে তাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে। কসমের কাফফারা হলো- হয় ১০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে; নয়তো তিন দিন রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ, কেউ কোনো কিছুর কসম করেও তা পূরণে ব্যর্থ হলে তাকে কাফফারা হিসেবে ১০ জন মিসকিন বা দরিদ্র মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে। অথবা তিনি চাইলে ৩ দিন রোজে রেখেও কসমের কাফফারা বা কসম ভাঙার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন।