ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

কওমি মাদ্রাসাবিরোধী একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

দেশের বেসরকারি মাদ্রাসা, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে যাচাইবিহীন ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ।

রোববার (৫ জুলাই) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিষদের নেতারা।

সংগঠনটি বলছে, কোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসেবা ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, অতীতে এমন বহু ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হলেও পরবর্তীতে তদন্তে অনেক অভিযোগ ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ অনেক সময় একই গুরুত্বে প্রচার পায় না।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

গণমাধ্যমের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বানে বলা হয়—সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, একপাক্ষিক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা, নির্দোষ প্রমাণিত হলে তা সমান গুরুত্বে প্রকাশ এবং দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, কোনো অভিযোগ শুনেই আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং যাচাই ছাড়া কোনো গুজব বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

একই সঙ্গে দেশের সব মাদ্রাসার মুহতামিম, পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দের প্রতি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসায় সিসিটিভি স্থাপন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সতর্কতা, শিশু সুরক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশের মাদ্রাসাগুলোর মর্যাদা, সুনাম ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসাগুলোর পরিচালকদের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে।

পরিষদের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষক ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি শায়েখ ক্বারী আবদুল হক, মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়েখ ক্বারী নেসার আহমদ আন-নাসের, মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবারের প্রিন্সিপাল মাওলানা মোশাররফ হোসাইন মাহমুদ, গাজীপুর মাদ্রাসাতুস সাত্তার দারুল উলুমের সদরে মুহতামিম মাওলানা ক্বারী সাইদুল ইসলাম আসাদ, আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, ডেমরা মাদ্রাসাতু আহমদের পরিচালক মাওলানা জোবায়ের আহমদ, জামিয়া আরাবিয়া কামরাঙ্গীরচরের মুহতামিম মাওলানা আব্দুর রহমান মৃধা, মাদ্রাসাতুল কুরআনের প্রিন্সিপাল মাওলানা ক্বারী ইলিয়াস লাহোরী, মাদরাসা নূরুননবী গুলশানের মুহতামিম মাওলানা কাওসার আহমদ রাহমানী, জামিরিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আবু সাঈদ, দারুত তাকওয়া উত্তরখানের প্রিন্সিপাল মাওলানা তাজুল ইসলাম, আশরাফুল মাদারিস উত্তরার প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান রহমান, বায়তুন নূর ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আমির আহমদ রহমানী, আর রহমান ইনস্টিটিউট উত্তরার প্রিন্সিপাল মাওলানা আশরাফ সাফিন, বাইতুল কুরআন মাদ্রাসা শিবচরের প্রিন্সিপাল মাওলানা সুলাইমান নোমান তাফহীম ও মদিনাতুল হুফফাজ মাদ্রাসা চকবাজারের প্রিন্সিপাল মাওলানা সুলাইমান ঢাকুবী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

কওমি মাদ্রাসাবিরোধী একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

আপডেট টাইম : ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

দেশের বেসরকারি মাদ্রাসা, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে যাচাইবিহীন ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ।

রোববার (৫ জুলাই) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিষদের নেতারা।

সংগঠনটি বলছে, কোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসেবা ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, অতীতে এমন বহু ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হলেও পরবর্তীতে তদন্তে অনেক অভিযোগ ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ অনেক সময় একই গুরুত্বে প্রচার পায় না।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

গণমাধ্যমের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বানে বলা হয়—সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, একপাক্ষিক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা, নির্দোষ প্রমাণিত হলে তা সমান গুরুত্বে প্রকাশ এবং দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, কোনো অভিযোগ শুনেই আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং যাচাই ছাড়া কোনো গুজব বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

একই সঙ্গে দেশের সব মাদ্রাসার মুহতামিম, পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দের প্রতি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসায় সিসিটিভি স্থাপন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সতর্কতা, শিশু সুরক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশের মাদ্রাসাগুলোর মর্যাদা, সুনাম ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসাগুলোর পরিচালকদের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে।

পরিষদের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষক ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি শায়েখ ক্বারী আবদুল হক, মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়েখ ক্বারী নেসার আহমদ আন-নাসের, মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবারের প্রিন্সিপাল মাওলানা মোশাররফ হোসাইন মাহমুদ, গাজীপুর মাদ্রাসাতুস সাত্তার দারুল উলুমের সদরে মুহতামিম মাওলানা ক্বারী সাইদুল ইসলাম আসাদ, আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, ডেমরা মাদ্রাসাতু আহমদের পরিচালক মাওলানা জোবায়ের আহমদ, জামিয়া আরাবিয়া কামরাঙ্গীরচরের মুহতামিম মাওলানা আব্দুর রহমান মৃধা, মাদ্রাসাতুল কুরআনের প্রিন্সিপাল মাওলানা ক্বারী ইলিয়াস লাহোরী, মাদরাসা নূরুননবী গুলশানের মুহতামিম মাওলানা কাওসার আহমদ রাহমানী, জামিরিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আবু সাঈদ, দারুত তাকওয়া উত্তরখানের প্রিন্সিপাল মাওলানা তাজুল ইসলাম, আশরাফুল মাদারিস উত্তরার প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান রহমান, বায়তুন নূর ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আমির আহমদ রহমানী, আর রহমান ইনস্টিটিউট উত্তরার প্রিন্সিপাল মাওলানা আশরাফ সাফিন, বাইতুল কুরআন মাদ্রাসা শিবচরের প্রিন্সিপাল মাওলানা সুলাইমান নোমান তাফহীম ও মদিনাতুল হুফফাজ মাদ্রাসা চকবাজারের প্রিন্সিপাল মাওলানা সুলাইমান ঢাকুবী।