জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ।
বংশাল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন গত ৩০ জুন ঢাকা সিএমএম আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন, যা আজ বুধবার জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে অপর দুই আসামিরা হলেন বর্ষার (১৯) প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।
এতে বলা হয়, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী। চার্জশিটে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় এক দিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, ‘চার্জশিটে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























