ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য

চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এভিয়েশন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বিগত সরকার খুব বাজে অবস্থায় রেখে গেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারও কোনো কাজ করেনি। আমরা চেষ্টা করছি এ বছরের মাঝেই থার্ড টার্মিনাল চালু করতে। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা আছে ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল ওপেন করার।

থার্ড টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এটি আগের সরকারের প্রকল্প। তবে বিদ্যমান টার্মিনালের সক্ষমতা কম হওয়ায় টার্মিনালের প্রয়োজন রয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতে দুরবস্থা দেখেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও কোনো ফান্ড বা টাকা ছিল না। তৎকালীন সরকার আমাদের ওই অবস্থায় রেখে গেছে। আমি চেষ্টা করছি সেই দুরবস্থার ইতি ঘটাতে।’

বিমান খাতের উন্নয়নের পরিবর্তে আগের সরকার নিজেদের উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, মন্ত্রণালয়কে ব্যক্তিস্বার্থে ভর্তুকির খাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ সময় দেশের এভিয়েশন খাতে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে এমআরও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বোয়িং, এয়ারবাস, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বোয়িং-এয়ারবাসের সঙ্গে এমআরও ব্যাপারে কথা হয়েছে। আমরা লালমনিরহাটে এটি করতে চেষ্টা করছি। আশা করি খুব শিগগিরই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।

তিনি বলেন, লালমনিরহাটে এমআরও শিল্প গড়ে উঠলে দেশে এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান আফরোজা খানম রিতা।

তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে একটি এভিয়েশন একাডেমি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফ্লাইট একাডেমি করার চেষ্টা করছি, যাতে পাইলট হতে কোটি টাকা খরচ না হয়। গরিব মেধাবীরা ভর্তি হলে আমরাই তাদের পড়াব।

মন্ত্রী জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাইলটসহ এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে তারা চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যয় পরিশোধ করবেন। এতে দেশে পাইলট সংকট কমার পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এভিয়েশন খাতের সমস্যা ও দুর্বলতার পাশাপাশি সম্ভাবনা ও ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমালোচনা অবশ্যই করবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন। সেই সঙ্গে বিমানের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরবেন।’

সাংবাদিকদের পরামর্শ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাংবাদিকতার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য

আপডেট টাইম : ২৭ মিনিট আগে

চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এভিয়েশন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বিগত সরকার খুব বাজে অবস্থায় রেখে গেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারও কোনো কাজ করেনি। আমরা চেষ্টা করছি এ বছরের মাঝেই থার্ড টার্মিনাল চালু করতে। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা আছে ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল ওপেন করার।

থার্ড টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এটি আগের সরকারের প্রকল্প। তবে বিদ্যমান টার্মিনালের সক্ষমতা কম হওয়ায় টার্মিনালের প্রয়োজন রয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতে দুরবস্থা দেখেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও কোনো ফান্ড বা টাকা ছিল না। তৎকালীন সরকার আমাদের ওই অবস্থায় রেখে গেছে। আমি চেষ্টা করছি সেই দুরবস্থার ইতি ঘটাতে।’

বিমান খাতের উন্নয়নের পরিবর্তে আগের সরকার নিজেদের উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, মন্ত্রণালয়কে ব্যক্তিস্বার্থে ভর্তুকির খাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ সময় দেশের এভিয়েশন খাতে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে এমআরও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বোয়িং, এয়ারবাস, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বোয়িং-এয়ারবাসের সঙ্গে এমআরও ব্যাপারে কথা হয়েছে। আমরা লালমনিরহাটে এটি করতে চেষ্টা করছি। আশা করি খুব শিগগিরই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।

তিনি বলেন, লালমনিরহাটে এমআরও শিল্প গড়ে উঠলে দেশে এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান আফরোজা খানম রিতা।

তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে একটি এভিয়েশন একাডেমি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফ্লাইট একাডেমি করার চেষ্টা করছি, যাতে পাইলট হতে কোটি টাকা খরচ না হয়। গরিব মেধাবীরা ভর্তি হলে আমরাই তাদের পড়াব।

মন্ত্রী জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাইলটসহ এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে তারা চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যয় পরিশোধ করবেন। এতে দেশে পাইলট সংকট কমার পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এভিয়েশন খাতের সমস্যা ও দুর্বলতার পাশাপাশি সম্ভাবনা ও ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমালোচনা অবশ্যই করবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন। সেই সঙ্গে বিমানের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরবেন।’

সাংবাদিকদের পরামর্শ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাংবাদিকতার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।