অবশ্য জামাতে ফজর নামাজ আদায় করা খুব সহজ নয়। কারণ তা মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দেয়।
ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি শয়তানের বিরুদ্ধে প্রথম জয়লাভ করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ ঘুমালে শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেক গিঁটে সে এই বলে পড়ে, তোমার সামনে আছে দীর্ঘ রাত; অতএব, তুমি ঘুমাও। অতঃপর সে জেগে উঠে আল্লাহর জিকির করলে তার একটি গিঁট খুলে যায়। তারপর সে অজু করলে তার আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তারপর নামাজ পড়লে সব গিঁট খুলে যায়। অতঃপর উৎফুল্লচিত্তে তার সকাল হয়। নতুবা সে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে সকালে ওঠে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪২; মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৫)
উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)
সুন্নত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিসে এর প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হয়নি। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকাত নামাজ কখনো ত্যাগ কোরো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৫৮)
আল্লাহ সবাইকে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ার সুযোগ দিন। আমিন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























