ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী অধিনায়ক হলে গোল উদযাপন করার সময় পাবেন না হালান্ড সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি ভোটের বৈঠক আহ্বান করলেন সিইসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতার কাছাকাছি—দাবি পাকিস্তানের পানিতে তলিয়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক, নেই স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ‘প্রায় চূড়ান্ত’, নতুন মহাসচিব কে?

দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে উৎসে কর বা টিডিএস কাটার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কাটা কর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকে আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং তা যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছে। এতে পরবর্তী সময়ে কর সমন্বয় ও নিরীক্ষার সময় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত হারে কর না কাটায় সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী সঞ্চয়ী, স্থায়ী, মেয়াদি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের আমানতের সুদ বা মুনাফা থেকে গ্রাহকের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কাটতে হবে।

এ ছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী কোনো গ্রাহক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর দিতে ব্যর্থ হলে স্বাভাবিক হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করতে হবে।

উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে মাসের মধ্যে কোনো মাসে কর কাটা হলে ওই মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কর কাটা হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। আর জুনের ২১ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে পরের দিনই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃক কাটা উৎসে কর কোনোভাবেই জেনারেল লেজার বা অন্য কোনো হিসাবে আটকে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া উৎসে কর কর্তনের সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় বিবরণী প্রস্তুত এবং চালানের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

উৎসে কর কর্তন ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ নির্দেশনা জারি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট টাইম : ০৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে উৎসে কর বা টিডিএস কাটার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কাটা কর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকে আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং তা যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছে। এতে পরবর্তী সময়ে কর সমন্বয় ও নিরীক্ষার সময় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত হারে কর না কাটায় সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী সঞ্চয়ী, স্থায়ী, মেয়াদি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের আমানতের সুদ বা মুনাফা থেকে গ্রাহকের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কাটতে হবে।

এ ছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী কোনো গ্রাহক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর দিতে ব্যর্থ হলে স্বাভাবিক হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করতে হবে।

উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে মাসের মধ্যে কোনো মাসে কর কাটা হলে ওই মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কর কাটা হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। আর জুনের ২১ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে পরের দিনই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃক কাটা উৎসে কর কোনোভাবেই জেনারেল লেজার বা অন্য কোনো হিসাবে আটকে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া উৎসে কর কর্তনের সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় বিবরণী প্রস্তুত এবং চালানের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

উৎসে কর কর্তন ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ নির্দেশনা জারি করেছে।