ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী অধিনায়ক হলে গোল উদযাপন করার সময় পাবেন না হালান্ড সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি ভোটের বৈঠক আহ্বান করলেন সিইসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতার কাছাকাছি—দাবি পাকিস্তানের পানিতে তলিয়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক, নেই স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ‘প্রায় চূড়ান্ত’, নতুন মহাসচিব কে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতার কাছাকাছি—দাবি পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পরিস্থিতি আবারও শান্তি বা চুক্তির অনুকূলে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই-তিন দিনের সংকেত বলছে, আমরা কোনো ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি।’

এর আগে মঙ্গলবারই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরানের পৃথক আলোচনা এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমঝোতার সম্ভাবনার খবরে মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি।

ইরান জানিয়েছে, হরমুজে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে তারা চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি। তবে তেহরানের দাবি, শুধু এই চুক্তি হলেই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক হুমকি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণসহ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না; মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নতুন করে ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করায় সমঝোতার পথ আবারও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সন্দেহভাজন হামলায় একটি ছোট কার্গো জাহাজের চার ক্রু নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মিসরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ জাহাজে এই হামলার দায় অবশ্য হুতিরা স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরে একটি কনটেইনার জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরের সময় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।

এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। মার্কিন জনমত জরিপে যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ওয়াশিংটনের ওপর দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতার কাছাকাছি—দাবি পাকিস্তানের

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পরিস্থিতি আবারও শান্তি বা চুক্তির অনুকূলে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই-তিন দিনের সংকেত বলছে, আমরা কোনো ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি।’

এর আগে মঙ্গলবারই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরানের পৃথক আলোচনা এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমঝোতার সম্ভাবনার খবরে মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি।

ইরান জানিয়েছে, হরমুজে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে তারা চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি। তবে তেহরানের দাবি, শুধু এই চুক্তি হলেই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক হুমকি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণসহ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না; মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নতুন করে ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করায় সমঝোতার পথ আবারও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সন্দেহভাজন হামলায় একটি ছোট কার্গো জাহাজের চার ক্রু নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মিসরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ জাহাজে এই হামলার দায় অবশ্য হুতিরা স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরে একটি কনটেইনার জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরের সময় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।

এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। মার্কিন জনমত জরিপে যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ওয়াশিংটনের ওপর দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর চাপ আরও বাড়িয়েছে।