ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী পেরিম দ্বীপ দখল: সমগ্র বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা এশিয়ান গেমস সবার আগে জাপানের পথে নারী ফুটবল দল সাবেক প্রার্থী বনাম নতুন মুখ: ঢাকার উত্তরে বিএনপির নগরপিতা কে হচ্ছেন নতুন আইফোন আসতেই পুরোনো মডেলের দাম বাড়ালো অ্যাপল চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগে ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে লেনদেন না করার বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ শুক্রবার জাপানের টোকিওতে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেসিলেনস অ্যান্ড রিলায়েভিলিটি’।

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং বাজার অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেবল জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতে নির্ভরযোগ্যতা, বৈচিত্র্যকরণ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নমনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার প্রস্তুতকরণ, শিল্পকারখানা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস একটি অপরিহার্য উপাদান হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে এই বর্ধিত চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি এখন বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে এবং দেশের বার্ষিক এলএনজি চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন (এমটিপিএ)। এই চাহিদা মেটাতে অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি এফএসআরইউ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়িতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-৩০ মেয়াদে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এবং ২০৩১-৪০ মেয়াদে তা ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএ-তে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরবরাহ চেইনের বৈচিত্র্যকরণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র (আরএফকিউ) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার একটি স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ (যা ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উন্মুক্ত রয়েছে)-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো আকর্ষণীয় সুযোগ রাখা হয়েছে।’

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বলে তিনি জানান। টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ শুক্রবার জাপানের টোকিওতে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেসিলেনস অ্যান্ড রিলায়েভিলিটি’।

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং বাজার অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেবল জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতে নির্ভরযোগ্যতা, বৈচিত্র্যকরণ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নমনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার প্রস্তুতকরণ, শিল্পকারখানা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস একটি অপরিহার্য উপাদান হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে এই বর্ধিত চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি এখন বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে এবং দেশের বার্ষিক এলএনজি চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন (এমটিপিএ)। এই চাহিদা মেটাতে অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি এফএসআরইউ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়িতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-৩০ মেয়াদে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এবং ২০৩১-৪০ মেয়াদে তা ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএ-তে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরবরাহ চেইনের বৈচিত্র্যকরণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র (আরএফকিউ) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার একটি স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ (যা ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উন্মুক্ত রয়েছে)-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো আকর্ষণীয় সুযোগ রাখা হয়েছে।’

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বলে তিনি জানান। টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।