ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। রাজধানীর পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয়— সর্বত্রই এখন একটাই কৌতূহল; কারা হচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নগরপিতা?
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গাবতলী, মহাখালী ও আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল অবস্থান করায় এই অঞ্চলকে রাজধানীর প্রধান প্রবেশদ্বার বলা হয়। ফলে এই এলাকার স্থানীয় রাজনীতি ও নগর সংস্থা পরিচালনার গুরুত্ব অনেক বেশি।
উত্তরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই দলীয় ফোরাম ও মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। বিএনপি নেতাদের অনেকেই এবার ভোটের মাঠে নামতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রচারণায় গতি আনতে তারা এখন দলীয় ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় রয়েছেন।
ডিএনসিসি নির্বাচনে দলীয় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বাড্ডা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন মোল্লা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দুঃসময়ে যারা দলের এবং সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়া উচিত।’
অনুরূপ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম শরীফ বাবু বলেন, ‘নগরবাসীর সুখে-দুঃখে যিনি সর্বদা পাশে থাকবেন এবং যার অতীতে দল ও জনগণের জন্য অবদান রয়েছে, তেমন কোনো নিবেদিতপ্রাণ নেতাকেই দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
দলীয় ফোরাম, নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে– ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও তরুণ নেতার নাম জোর আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, নির্বাহী কমিটির অপর সদস্য মামুন হাসান, ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম এবং বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন)।

২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল। এবারও আলোচনার প্রথম সারিতেই রয়েছে তার নাম। প্রার্থিতার বিষয়ে তাবিথ আউয়াল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দেশবাসী খুব ভালো করেই জানেন বিগত নির্বাচনে কীভাবে কারচুপি করে আমাকে বিজয়ী হতে দেওয়া হয়নি। এবার দলীয় হাইকমান্ড যদি আমাকে পুনরায় মনোনীত করে, তবে ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা আমার রয়েছে, মেয়র হয়ে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।’
ঢাকা উত্তরে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মুখে প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আলোচিত আরেক নাম এম এ কাইয়ুম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ তাকেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।

এ বিষয়ে এম এ কাইয়ুম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি, তাই নির্বাচন করার ইচ্ছা তো অবশ্যই থাকে। তবে, শেষ কথা হলো দলীয় সিদ্ধান্ত। দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব।’
আলোচিত প্রার্থীদের তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন)। তিনি এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দল যদি আমাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়, তবে অবশ্যই আমি প্রস্তুত। আর দল থেকে যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আমরা তার বিজয়ের জন্যই কাজ করে যাব।’
এছাড়া, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবের নামও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, প্রতিকূল সময়ে নীরব রাজপথে একজন সক্রিয় সংগঠক ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে দল পরিচালনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত অতীত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক দলটি তাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন অনুসারীরা।
ঢাকা উত্তরের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সার্বিক বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলীয় হাইকমান্ডে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ হয়নি। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকেই যোগ্য বিবেচনা করবেন, তিনিই নির্বাচনে দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























