প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই চার্লস স্পেন্সারের নতুন বই প্রকাশের আগেই ব্রিটিশ রাজপরিবারে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ বইটিতে ডায়ানার জীবন, তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার দাম্পত্য এবং মৃত্যুর পরের ঘটনা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ৬২ বছর বয়সী স্পেন্সার।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হতে যাওয়া বইটির কিছু অংশ আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে স্পেন্সার দাবি করেছেন, ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লসকে তিনি ‘অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত’ অবস্থায় দেখেছিলেন। ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঘটনাগুলো তুলে ধরা তার দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে স্পেন্সারের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছে বাকিংহাম প্যালেস। এক বিবৃতিতে রাজপ্রাসাদ বলেছে, ‘বোন হারানোর বেদনা যুক্তিকে আচ্ছন্ন করতে পারে ভাই, বিচারবোধকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে’।
ব্রিটিশ অভিজাত পরিবারে জন্ম স্পেন্সারের। রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন তার গডমাদার। ১৯৮১ সালে ডায়ানা ও তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের বিয়ের সময় স্পেন্সারের বয়স ছিল ১৭ বছর।
ডায়ানা ও চার্লসের দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারি। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের দাম্পত্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর এক বছর পর প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সে নিহত হন ডায়ানা।
ডায়ানার শেষকৃত্যে দেওয়া শোকভাষণে স্পেন্সার বলেছিলেন, তার ‘বিশেষ ধরনের জাদু’ তাকে মানুষের মন থেকে কখনো মুছে যেতে দেবে না। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ২০০ কোটি মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখেছিল।
নতুন বইয়ে স্পেন্সার দাবি করেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস বলেছিলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব।’ একই সঙ্গে ডায়ানার শেষকৃত্যে উইলিয়াম ও হ্যারিকে মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটানো উচিত নয় বলে আপত্তি জানালে চার্লস তার ওপর চিৎকার করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বাকিংহাম প্যালেসের প্রতিক্রিয়াকে ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক এবং নিচু মানের’ বলে মন্তব্য করেছেন স্পেন্সার। ডেইলি মেইলকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মূলত তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে।
অক্সফোর্ডে ইতিহাস পড়ার পর এনবিসি নিউজে প্রায় এক দশক কাজ করেন স্পেন্সার। পরে ইতিহাসভিত্তিক বই লিখে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘অ্যা ভেরি প্রাইভেট স্কুল’ স্মৃতিকথায় শৈশবে বোর্ডিং স্কুলে যৌন নির্যাতন, অবহেলা ও একাকিত্বের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























