ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, দায় অস্বীকার হুতিদের

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুতিরা এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সৌদি জোটের দাবি, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পর তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এতে হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি সৌদি জোটের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন করে এই দাবি তুলেছে।
সৌদি জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা তৈরিও এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে জোটটি।
পবিত্র স্থান ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।
এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে হুতিদের ছোড়া চারটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। একই দিনে খামিস মুশাইত ও জাজানের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তাইজে হুতিদের সঙ্গে তীব্র লড়াই
মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী দাবি করেছে, হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বের আল-আকরুদ এলাকায় হুতিরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে।
সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি, শুধু আল-আকরুদ এলাকাতেই অন্তত ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মাকবানাহ এলাকার হুমাইর ফ্রন্টে ছয়টি বিমান হামলায় হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ তাইজে আশ্রয় নিয়েছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে তাইজে আশ্রয় নিয়েছে ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ। এরপর রয়েছে লাহিজ প্রদেশ, যেখানে ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে।
ইয়েমেন সরকারকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি
তাইজে লড়াইয়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৫৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবির জানিয়েছেন, সরকারি অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, আর্থিক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
এর আগে গত মাসে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের কাছে অবস্থিত।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন পণ্য এবং রাশিয়ার তেল পরিবহনেও বাব আল-মান্দাব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মোখা থেকে হুতিদের আরও অগ্রসর হওয়া ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের সামরিক কর্মকর্তারা মোখা পুনর্দখলের চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, দায় অস্বীকার হুতিদের

আপডেট টাইম : ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুতিরা এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সৌদি জোটের দাবি, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পর তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এতে হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি সৌদি জোটের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন করে এই দাবি তুলেছে।
সৌদি জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা তৈরিও এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে জোটটি।
পবিত্র স্থান ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।
এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে হুতিদের ছোড়া চারটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। একই দিনে খামিস মুশাইত ও জাজানের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তাইজে হুতিদের সঙ্গে তীব্র লড়াই
মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী দাবি করেছে, হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বের আল-আকরুদ এলাকায় হুতিরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে।
সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি, শুধু আল-আকরুদ এলাকাতেই অন্তত ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মাকবানাহ এলাকার হুমাইর ফ্রন্টে ছয়টি বিমান হামলায় হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ তাইজে আশ্রয় নিয়েছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে তাইজে আশ্রয় নিয়েছে ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ। এরপর রয়েছে লাহিজ প্রদেশ, যেখানে ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে।
ইয়েমেন সরকারকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি
তাইজে লড়াইয়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৫৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবির জানিয়েছেন, সরকারি অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, আর্থিক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
এর আগে গত মাসে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের কাছে অবস্থিত।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন পণ্য এবং রাশিয়ার তেল পরিবহনেও বাব আল-মান্দাব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মোখা থেকে হুতিদের আরও অগ্রসর হওয়া ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের সামরিক কর্মকর্তারা মোখা পুনর্দখলের চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন।