ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ আগেই বিচ্ছিন্ন এবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ উল্লেখ করে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতায়াতের পথও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর জারি করা নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

দীর্ঘদিন ধরে রেসকোর্স মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন মুসল্লিরা। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় মসজিদটি রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির দাবি, মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই স্থাপনাটি খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের দাবি, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তালিকাতেও মসজিদটির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব নথি বিবেচনায় নিয়ে মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মসজিদটি ঘিরে বিরোধের মধ্যে গত ৭ অক্টোবর এর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায় ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, গত ছয় মাসে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি কার্যকর সহায়তা পাননি। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি বোর্ড।

ইমাম হারুন জানান, বিষয়টি আদালতে নেওয়ার জন্যও তিনি ওয়াক্ফ বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন। নিজে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বোর্ড নিজেও আদালতে যায়নি। ফলে ঐতিহাসিক মসজিদটি রক্ষার বিষয়ে তিনি অসহায় বোধ করছেন।

এদিকে, রেসকোর্স মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির পক্ষে মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এতে মসজিদ ও কবরস্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সেগুলো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মসজিদটির ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং উচ্ছেদের নোটিশ, সব মিলিয়ে স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র: দ্য ওয়্যার, দ্য ট্রিবিউন ও দ্য হিন্দুস্তান গেজেট

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ আগেই বিচ্ছিন্ন এবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ উল্লেখ করে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতায়াতের পথও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর জারি করা নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

দীর্ঘদিন ধরে রেসকোর্স মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন মুসল্লিরা। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় মসজিদটি রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির দাবি, মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই স্থাপনাটি খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের দাবি, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তালিকাতেও মসজিদটির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব নথি বিবেচনায় নিয়ে মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মসজিদটি ঘিরে বিরোধের মধ্যে গত ৭ অক্টোবর এর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায় ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, গত ছয় মাসে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি কার্যকর সহায়তা পাননি। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি বোর্ড।

ইমাম হারুন জানান, বিষয়টি আদালতে নেওয়ার জন্যও তিনি ওয়াক্ফ বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন। নিজে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বোর্ড নিজেও আদালতে যায়নি। ফলে ঐতিহাসিক মসজিদটি রক্ষার বিষয়ে তিনি অসহায় বোধ করছেন।

এদিকে, রেসকোর্স মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির পক্ষে মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এতে মসজিদ ও কবরস্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সেগুলো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মসজিদটির ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং উচ্ছেদের নোটিশ, সব মিলিয়ে স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র: দ্য ওয়্যার, দ্য ট্রিবিউন ও দ্য হিন্দুস্তান গেজেট