পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত বিধানসভায় যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবির। উপনির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুট, পুলিং এজেন্টদের বুথে বসতে না দেওয়া, বুথ দখল এবং জোর করে অন্যের ভোট দেওয়ার অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। রেজিনগরে তাকেও পুলিশ আটক করে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন হুমায়ুন কবির। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী যতদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন তিনি বিধানসভায় যাবেন না।
হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি এখনো রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর অধীনে পুলিশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, উপনির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে। রেজিনগরের সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের কোনোভাবে সহায়তা করতে না পারায় তিনি তাদের কাছে ক্ষমাও চান।
হুমায়ুন কবির বলেন, পুলিশের হাতে তাকে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটক থাকতে হয়েছে। তার অভিযোগ, পুলিশ ভোট লুট করেছে এবং সেই ভোটের ভিত্তিতে ৯ অক্টোবর নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জয়ী হওয়ার সনদ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন বিধায়ক হয়েও তিনি এর প্রতিবাদে বিধানসভায় যাবেন না। বিধানসভার কোনো অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তিনি সেখানেও যাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে তবেই বিধানসভায় যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।
নিজেকে আটকের ঘটনাতেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তার দাবি, তিনি বাইরে থাকলে পুলিশ ভোট লুট করতে পারত না। এ কারণেই তাকে আটকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ভোট দেওয়ার পর তিনি দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে তাকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেজিনগরে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়ার বিষয়েও বিজেপির বক্তব্যের সমালোচনা করেন হুমায়ুন কবির। বিজেপির দাবি, ভিনরাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরে এসে ভোট দেওয়ায় এবং পশ্চিমবঙ্গের নারীরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ায় ভোটের হার এত বেশি হয়েছে।
এর জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার প্রশ্ন, নারীরা যদি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো সরকারি সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাহলে নির্বাচনে তাদের অংশ নিতে দেওয়া হলো না কেন? ভোটের দিন পুলিশ কেন সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে হুমায়ুন কবিরের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























