ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের ১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ৭৮ দেশের সঙ্গে বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনা সৌদির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের মামলা এমপি নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বললেন বিচারক মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির শ্রমবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহ্দী আমিন

শ্রমবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহ্দী আমিন

বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের অগ্রাধিকার। শ্রমিকদের অধিকার ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আজ বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার জন্য আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা।

বর্তমান সরকার শ্রমিকের অধিকার সুসংহত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওই-র মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে একসাথে এগিয়ে যেতে চায় সরকার।

সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো শ্রমিকের সার্বিক অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

সফররত প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথনকশা অনুধাবনে বিশেষ সহায় হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্বভার গ্রহণের পরপরই নবনির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যুগোপযোগী করে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে। একই সঙ্গে শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং ১৮৯ অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি শ্রম প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকারকে শ্রমজীবীদের জীবনের বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর নিশ্চিত করা।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দুটি বিষয়ই পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে। শিল্পভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং কার্যকর সামাজিক অংশীদারত্বের কোনো বিকল্প নেই।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন আইটিইউসি-এর জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওই-এর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার জেস ভোগট এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুন প্রমুখ।

বৈঠকে আইটিইউসি এবং আইওই -র প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম খাতে গৃহীত সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শ্রমবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহ্দী আমিন

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে

বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের অগ্রাধিকার। শ্রমিকদের অধিকার ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আজ বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার জন্য আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা।

বর্তমান সরকার শ্রমিকের অধিকার সুসংহত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওই-র মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে একসাথে এগিয়ে যেতে চায় সরকার।

সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো শ্রমিকের সার্বিক অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

সফররত প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথনকশা অনুধাবনে বিশেষ সহায় হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্বভার গ্রহণের পরপরই নবনির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যুগোপযোগী করে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে। একই সঙ্গে শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং ১৮৯ অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি শ্রম প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকারকে শ্রমজীবীদের জীবনের বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর নিশ্চিত করা।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দুটি বিষয়ই পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে। শিল্পভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং কার্যকর সামাজিক অংশীদারত্বের কোনো বিকল্প নেই।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন আইটিইউসি-এর জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওই-এর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার জেস ভোগট এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুন প্রমুখ।

বৈঠকে আইটিইউসি এবং আইওই -র প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম খাতে গৃহীত সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ প্রমুখ।