ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের ১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ৭৮ দেশের সঙ্গে বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনা সৌদির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের মামলা এমপি নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বললেন বিচারক মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির শ্রমবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহ্দী আমিন

১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা কেন্দ্রীয় মসজিদটি দেশের বৃহৎ মসজিদগুলোর অন্যতম। বিশাল আয়তন, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী ও বিপুল মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সক্ষমতার কারণে মসজিদটি ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি পেয়েছে।

প্রায় ১৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন এখানে। শুধু তা-ই নয়, এটি দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃহত্তম মসজিদ হিসেবেও পরিচিত।শিক্ষার্থীদের নামাজের সুবিধার্থে নির্মিত এই মসজিদটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমা ও ঈদের নামাজেও এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হয়।

কেন্দ্রীয় মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালের দিকে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকার নির্মাণে অর্থায়ন করলেও মসজিদের বৃহৎ প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসার পর বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে বিদেশি অনুদানই মসজিদের নির্মাণকাজের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। তবে পরবর্তী সময়ে মসজিদের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যয়, প্রেরিত অর্থ যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থসহায়তা বন্ধ করে দেয় এবং পূর্বে পাঠানো অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ফলে মসজিদের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়।সরকারি অনুদানের অর্থে মসজিদের প্রায় ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৪ সালে তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসাইন শাহজাহান মসজিদটি উদ্বোধন করেন। এরপর মুসল্লিদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ ১৩ বছর মসজিদের নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ ছিল।

পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য রাশিদ আসকারীর সময়ে দুই ধাপে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে মসজিদটির নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসে।প্রায় ২ দশমিক ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ। চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকার এই স্থাপনার নির্মাণে সিরামিক ও শ্বেতপাথরের ব্যবহার রয়েছে। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় মসজিদের গায়ে তৈরি হয় উজ্জ্বল আভা, যা এর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন প্রায় ৫১ হাজার বর্গফুট। মূল চারতলা অংশে কয়েক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিভিন্ন তলার পাশাপাশি মসজিদের সামনের বিশাল পেডমেন্ট এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদের স্থাপত্যে রয়েছে একাধিক গম্বুজ। সামনের অংশে রয়েছে প্রায় ৯০ ফুট উচ্চতার প্রধান গম্বুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে মসজিদটিতে মোট ১৪টি গম্বুজ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারপাশে চারটি সুউচ্চ মিনার নির্মাণের কথা রয়েছে, প্রতিটির উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট। মসজিদের তিন পাশ দিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথের ওপর রয়েছে গম্বুজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ভবন থেকে মুসল্লিদের সহজে মসজিদে আসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রশস্ত পথ।

মসজিদের বিভিন্ন তলায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। দোতলায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন, তৃতীয় তলায় প্রায় ৮০০ জন এবং চতুর্থ তলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে মসজিদের মূল ভবনে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এর সঙ্গে মসজিদের সামনের বিশাল খোলা অংশ যুক্ত হলে একসঙ্গে প্রায় ১৭ হাজার মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা হয়। এ কারণেই এটি বাংলাদেশের বৃহৎ মসজিদগুলোর অন্যতম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃহত্তম মসজিদ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় মসজিদকে শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, ইসলামী জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদের নিচতলায় ইসলামী গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদকেন্দ্রিক বিভিন্ন সহায়ক স্থাপনা যেমন, ইসলামী ব্যাংক, কর্মচারীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ইত্যাদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মসজিদটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার কার্যক্রমে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। মসজিদের দোতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নামাজ আদায়ের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হলের জন্য আলাদা মসজিদ থাকায় কেন্দ্রীয় মসজিদটি মূলত জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতি শুক্রবার এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও আশপাশের এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজও এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হলে ব্র্যাকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকনেটের অর্থায়নে মসজিদে নতুন অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের স্থাপত্য শুধু ক্যাম্পাসের মানুষকেই নয়, বিদেশিদেরও আকৃষ্ট করেছে। ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে মসজিদটির ছবি প্রকাশ করা হয় এবং এর বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করা হয়। বিশাল প্রাঙ্গণ, শ্বেতপাথর ও সিরামিকের সমন্বিত নির্মাণ, সুউচ্চ গম্বুজ ও মিনারের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে মসজিদটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

কেন্দ্রীয় মসজিদে একজন ইমাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আ স ম শোয়াইব আহমদ এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হলে বর্তমানে আশরাফ উদ্দিন খান মসজিদের খতিব ও ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ

আপডেট টাইম : ৪৭ মিনিট আগে
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা কেন্দ্রীয় মসজিদটি দেশের বৃহৎ মসজিদগুলোর অন্যতম। বিশাল আয়তন, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী ও বিপুল মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সক্ষমতার কারণে মসজিদটি ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি পেয়েছে।

প্রায় ১৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন এখানে। শুধু তা-ই নয়, এটি দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃহত্তম মসজিদ হিসেবেও পরিচিত।শিক্ষার্থীদের নামাজের সুবিধার্থে নির্মিত এই মসজিদটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমা ও ঈদের নামাজেও এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হয়।

কেন্দ্রীয় মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালের দিকে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকার নির্মাণে অর্থায়ন করলেও মসজিদের বৃহৎ প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসার পর বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে বিদেশি অনুদানই মসজিদের নির্মাণকাজের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। তবে পরবর্তী সময়ে মসজিদের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যয়, প্রেরিত অর্থ যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থসহায়তা বন্ধ করে দেয় এবং পূর্বে পাঠানো অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ফলে মসজিদের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়।সরকারি অনুদানের অর্থে মসজিদের প্রায় ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৪ সালে তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসাইন শাহজাহান মসজিদটি উদ্বোধন করেন। এরপর মুসল্লিদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ ১৩ বছর মসজিদের নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ ছিল।

পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য রাশিদ আসকারীর সময়ে দুই ধাপে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে মসজিদটির নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসে।প্রায় ২ দশমিক ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ। চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকার এই স্থাপনার নির্মাণে সিরামিক ও শ্বেতপাথরের ব্যবহার রয়েছে। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় মসজিদের গায়ে তৈরি হয় উজ্জ্বল আভা, যা এর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন প্রায় ৫১ হাজার বর্গফুট। মূল চারতলা অংশে কয়েক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিভিন্ন তলার পাশাপাশি মসজিদের সামনের বিশাল পেডমেন্ট এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদের স্থাপত্যে রয়েছে একাধিক গম্বুজ। সামনের অংশে রয়েছে প্রায় ৯০ ফুট উচ্চতার প্রধান গম্বুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে মসজিদটিতে মোট ১৪টি গম্বুজ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারপাশে চারটি সুউচ্চ মিনার নির্মাণের কথা রয়েছে, প্রতিটির উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট। মসজিদের তিন পাশ দিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথের ওপর রয়েছে গম্বুজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ভবন থেকে মুসল্লিদের সহজে মসজিদে আসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রশস্ত পথ।

মসজিদের বিভিন্ন তলায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। দোতলায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন, তৃতীয় তলায় প্রায় ৮০০ জন এবং চতুর্থ তলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে মসজিদের মূল ভবনে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এর সঙ্গে মসজিদের সামনের বিশাল খোলা অংশ যুক্ত হলে একসঙ্গে প্রায় ১৭ হাজার মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা হয়। এ কারণেই এটি বাংলাদেশের বৃহৎ মসজিদগুলোর অন্যতম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃহত্তম মসজিদ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় মসজিদকে শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, ইসলামী জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদের নিচতলায় ইসলামী গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদকেন্দ্রিক বিভিন্ন সহায়ক স্থাপনা যেমন, ইসলামী ব্যাংক, কর্মচারীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ইত্যাদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মসজিদটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার কার্যক্রমে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। মসজিদের দোতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নামাজ আদায়ের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হলের জন্য আলাদা মসজিদ থাকায় কেন্দ্রীয় মসজিদটি মূলত জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতি শুক্রবার এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও আশপাশের এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজও এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হলে ব্র্যাকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকনেটের অর্থায়নে মসজিদে নতুন অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের স্থাপত্য শুধু ক্যাম্পাসের মানুষকেই নয়, বিদেশিদেরও আকৃষ্ট করেছে। ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে মসজিদটির ছবি প্রকাশ করা হয় এবং এর বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করা হয়। বিশাল প্রাঙ্গণ, শ্বেতপাথর ও সিরামিকের সমন্বিত নির্মাণ, সুউচ্চ গম্বুজ ও মিনারের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে মসজিদটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

কেন্দ্রীয় মসজিদে একজন ইমাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আ স ম শোয়াইব আহমদ এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হলে বর্তমানে আশরাফ উদ্দিন খান মসজিদের খতিব ও ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।