এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সামনে মাথা নত না করার চিরাচরিত ইসলামী নীতি ও ঈমানী দৃঢ়তা বজায় রেখে দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কান্তে’-তে উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণকালে জাপানের পতাকার সামনে মাথা নোয়াননি তিনি। জাপানি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী স্বাগতিক প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্বয়ং বিনয়ের সাথে মাথা নত করে অভিবাদন জানালেও, দেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আত্মমর্যাদা ও ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তা গ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। ইসলামী আকীদা ও তৌহিদী চেতনায় বিশ্বাসী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী নাগরিকরা বিষয়টিকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সামনে মাথা নত না করার অদম্য ঈমানী অবস্থানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, এই দৃশ্য অতীত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কথা, যিনি ইতোপূর্বে জাপান সফরকালে স্বাগতিক নেতাদের ও ভিনদেশের পতাকার সামনে নিচু হয়ে মাথা নত করে রুকু সদৃশ ভঙ্গিতে অভিবাদন জানিয়ে ইসলামী আকিদা ও দেশীয় জাতীয় আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছিলেন। অতীতে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে সরকারপ্রধানদের অতিরিক্ত নতজানু আচরণ জাতিকে হতাশ করলেও, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাথা উঁচু করে দেশের স্বকীয়তা ও অহংকার বজায় রেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই নীতিগত অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সাধারণ নাগরিকরা। নেটিজেনদের একজন লিখেছেন, ‘‘একেই বলে মুসলিম। একজন প্রকৃত মুসলিম এক আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করে না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত।’’
অন্য একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘‘জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তবে সম্মান দেখাতে গিয়ে রুকু বা সিজদার ন্যায় ভঙ্গি করে কোনো সৃষ্টি বা প্রতীকের সামনে মাথা নোয়ানো ইসলামী শরিয়তে স্পষ্ট শিরক ও তাওহীদের পরিপন্থী। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে সঠিক কাজটাই করেছেন।’’
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘‘ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্য কেউ হলে হয়তো বিদেশিদের খুশি করার জন্য খানিকটা হলেও মাথা নত করত। কিন্তু তিনি একজন মুসলমান ও স্বাধীন দেশের প্রতিনিধি হিসেবে মর্যাদার সাথে নিজ অবস্থান ধরে রেখেছেন। আপনাকে পেয়ে বাংলাদেশ আজ গর্বিত।’’
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানে চারদিনের সরকারি সফল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন। একপাক্ষিক নতজানু কূটনীতির বিপরীতে স্বকীয়তা ও ধর্মীয় অনুভূতির সম্মান বজায় রাখার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কারও সামনে মাথা নোয়াবে না, কেবল মহান সৃষ্টিকর্তার সামনেই নত হবে। তোষামোদ বা অতিরিক্ত বিনয়ের নামে আত্মমর্যাদাহীন আচরণ বাদ দিয়ে তাঁর এই মাথা উঁচু করে চলার নীতি দেশবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























