ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

বিরল দর্শন কালা গলা মানিকজোড়

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বিরল দর্শন পরিযায়ী পাখি। উনিশ শতকের মাঝামাঝিতেও দেশে কম-বেশি নজরে পড়ত। বিশেষ করে সুন্দরবনের আশপাশ অঞ্চলের জলাভূমিতে বিচরণ ছিল। জোড়ায় জোড়ায় কিংবা একাকী দেখা যেত। এ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও দেখা যেত ওই সময়। তবে এরা কখনো ভালো অবস্থানে ছিল না। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বেই এরা বিপদগ্রস্ত। বিশ্বে এ ধরনের ২৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় আট প্রজাতির বিচরণ ছিল এক সময়।

বর্তমানে দুই প্রজাতির (এশিয়ান শামুকখোল ও ছোট মদনটাক) ব্যতিরেকে অন্যসব নজরেই পড়ে না। এরা নিরীহ শান্ত স্বভাবের পাখি। মূলত শিকারিদের দৌরাত্ম্যেই দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে প্রজাতিটি। এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোচীন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি পর্যন্ত।

পাখির বাংলা নাম: ‘কালা গলা মানিকজোড়’, ইংরেজি নাম: ‘ব্ল্যাক নেকেড স্টর্ক’ (Black-necked Stork), বৈজ্ঞানিক নাম: Ephippiorhychus asiaticus। এরা ‘লোহারজঙ্গ’ নামেও পরিচিত।

গড় দৈর্ঘ্য ১২৯-১৫০ সেন্টিমিটার। প্রাপ্তবয়স্কদের মাথা, গলা, ঘাড়, ডানা ও লেজ নীলচে কালোর ওপর বাদামির মিশ্রণ। কাঁধ থেকে পিঠের মাঝ বরাবর এবং দেহতল ধবধবে সাদা। ঠোঁট কালো, নিচের অংশ উপরের দিকে বাঁকানো। লম্বা পা প্রবাল লাল। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম হলেও পুরুষের চোখের তারা বাদামি, স্ত্রী পাখির ক্ষেত্রে চোখের তারা হলুদ।

প্রধান খাবার: মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর, মৃত পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ। বাইম মাছের প্রতি এদের আসক্তি লক্ষ্য করা যায়।
প্রজনন মৌসুম সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর। উঁচু গাছে চিকন ডালপালা ও লতাপাতা দিয়ে অগোছাল বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ফুটতে সময় লাগে ২৭-২৯ দিন।

লেখক: আলম শাইন, 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

বিরল দর্শন কালা গলা মানিকজোড়

আপডেট টাইম : ১০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ এপ্রিল ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বিরল দর্শন পরিযায়ী পাখি। উনিশ শতকের মাঝামাঝিতেও দেশে কম-বেশি নজরে পড়ত। বিশেষ করে সুন্দরবনের আশপাশ অঞ্চলের জলাভূমিতে বিচরণ ছিল। জোড়ায় জোড়ায় কিংবা একাকী দেখা যেত। এ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও দেখা যেত ওই সময়। তবে এরা কখনো ভালো অবস্থানে ছিল না। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বেই এরা বিপদগ্রস্ত। বিশ্বে এ ধরনের ২৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় আট প্রজাতির বিচরণ ছিল এক সময়।

বর্তমানে দুই প্রজাতির (এশিয়ান শামুকখোল ও ছোট মদনটাক) ব্যতিরেকে অন্যসব নজরেই পড়ে না। এরা নিরীহ শান্ত স্বভাবের পাখি। মূলত শিকারিদের দৌরাত্ম্যেই দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে প্রজাতিটি। এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোচীন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি পর্যন্ত।

পাখির বাংলা নাম: ‘কালা গলা মানিকজোড়’, ইংরেজি নাম: ‘ব্ল্যাক নেকেড স্টর্ক’ (Black-necked Stork), বৈজ্ঞানিক নাম: Ephippiorhychus asiaticus। এরা ‘লোহারজঙ্গ’ নামেও পরিচিত।

গড় দৈর্ঘ্য ১২৯-১৫০ সেন্টিমিটার। প্রাপ্তবয়স্কদের মাথা, গলা, ঘাড়, ডানা ও লেজ নীলচে কালোর ওপর বাদামির মিশ্রণ। কাঁধ থেকে পিঠের মাঝ বরাবর এবং দেহতল ধবধবে সাদা। ঠোঁট কালো, নিচের অংশ উপরের দিকে বাঁকানো। লম্বা পা প্রবাল লাল। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম হলেও পুরুষের চোখের তারা বাদামি, স্ত্রী পাখির ক্ষেত্রে চোখের তারা হলুদ।

প্রধান খাবার: মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর, মৃত পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ। বাইম মাছের প্রতি এদের আসক্তি লক্ষ্য করা যায়।
প্রজনন মৌসুম সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর। উঁচু গাছে চিকন ডালপালা ও লতাপাতা দিয়ে অগোছাল বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ফুটতে সময় লাগে ২৭-২৯ দিন।

লেখক: আলম শাইন,