ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

বিলুপ্তির পথে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ দিন বদলের সাথে সাথে মাটির তৈরী সামগ্রীর স্থান দখল করেছে সিলভার, এ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্র। এসবের ভীরে ক্রমেই হাড়িয়ে যাচ্ছে দেশের মৃৎ শিল্প।

প্রাচীনকাল থেকেই মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈজস পত্র, খেলনা, মাটির তৈরী ব্যাংকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ব্যাপক হারে ব্যাবহার করত মানুষ। যুগের পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সাথে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরী দ্রব্যাদি আজ মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। সেই বাজার দখল করে নিয়েছে এ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্র। সেই সাথে মানুষ আজ ভুলতে বসেছে মাটির তৈরী জিনিস পত্রের ব্যবহার।

অথচ কিছুদিন আগেও মাটির তৈরী তৈজসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষজন কুমারবাড়ী আসত জিনিসপত্র কিনতে। শল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে রংতুলির কাজ করে দ্রব্যগুলোকে আকর্ষনীয় করে তুলত। কিন্তু আজ কুমাররা ভরসা হারিয়ে ফেলছেন তাদের পূর্বপুরুষদের এ পেশায়। জীবিকার তাগিদেই মৃৎ শিল্পীরা অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের পৈর্তৃক পেশা।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার তেঘর গ্রামের নারায়ন জানান, মৃৎ শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ এঁটেল মাটি, লাল মাটি, জ্বালানি খড়ি ইত্যাদির দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে মাটি সংগ্রহ করতে কুমারদের কোন টাকা লাগত না। সহজেই মাটি পাওয়া যেত। এখন টাকা দিয়েও ভাল মাটি পাওয়া যায় না।

এ সম্পর্কে জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগরের রতণ পাল জানান, আমরা পূর্ব পুরুষের সূত্র ধরে এ পেশার সাথে জড়িত ছিলাম। এক সময় মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু আজ এগুলো নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ালেও কেউ নিতে চায় না। এয়াড়াও বর্তমানে বাজারে উৎপাদিত পন্যের মূল্য ও প্রয়োজনীয় উপকরনের মূল্যের মধ্য রয়েছে বিশাল ব্যবধান। এ কারনেও অনেকেই দীর্ঘ দিনের পৈতৃক এ পেশার উপর আস্থা হারাচ্ছেন। মৃৎ শিল্পিদের অভিযোগ তাদেও প্রতি কেউ নজর রাখে না। যদি সরকারী বা বেসরকারী সংস্থা তাদেও সহজ শর্তে ঋন দিত ও তাদেও উৎপাদিত দ্রব্যাদি ব্যবহারের ব্যাপারে সাধারন মানুষকে উৎসাহিত করত তাহলে তাদের পেশার প্রসার ঘটত।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মনোজ পাল সাংবাদিককে জানান “অনেক এনজিও গেরামে আসে কিস্তি দেওয়ার কথা বলে ছবি লিয়ে যায় কিন্তু পরে আর খোঁজ লেয় না”। আগে কাজ করতে মূলধনের প্রয়োজন হত না কিন্তু বর্তমানে মূলধনেরপ্রয়োজন। যদি সহজ শর্তে ঋনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে মৃৎ শিল্পীরা তাদের পূর্ব পুরুষের পেশায় টিকে থেকে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করতে পারত বলে মনে করেন জয়পুরহাটের কুমার সম্প্রদায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

বিলুপ্তির পথে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প

আপডেট টাইম : ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ দিন বদলের সাথে সাথে মাটির তৈরী সামগ্রীর স্থান দখল করেছে সিলভার, এ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্র। এসবের ভীরে ক্রমেই হাড়িয়ে যাচ্ছে দেশের মৃৎ শিল্প।

প্রাচীনকাল থেকেই মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈজস পত্র, খেলনা, মাটির তৈরী ব্যাংকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ব্যাপক হারে ব্যাবহার করত মানুষ। যুগের পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সাথে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরী দ্রব্যাদি আজ মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। সেই বাজার দখল করে নিয়েছে এ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্র। সেই সাথে মানুষ আজ ভুলতে বসেছে মাটির তৈরী জিনিস পত্রের ব্যবহার।

অথচ কিছুদিন আগেও মাটির তৈরী তৈজসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষজন কুমারবাড়ী আসত জিনিসপত্র কিনতে। শল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে রংতুলির কাজ করে দ্রব্যগুলোকে আকর্ষনীয় করে তুলত। কিন্তু আজ কুমাররা ভরসা হারিয়ে ফেলছেন তাদের পূর্বপুরুষদের এ পেশায়। জীবিকার তাগিদেই মৃৎ শিল্পীরা অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের পৈর্তৃক পেশা।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার তেঘর গ্রামের নারায়ন জানান, মৃৎ শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ এঁটেল মাটি, লাল মাটি, জ্বালানি খড়ি ইত্যাদির দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে মাটি সংগ্রহ করতে কুমারদের কোন টাকা লাগত না। সহজেই মাটি পাওয়া যেত। এখন টাকা দিয়েও ভাল মাটি পাওয়া যায় না।

এ সম্পর্কে জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগরের রতণ পাল জানান, আমরা পূর্ব পুরুষের সূত্র ধরে এ পেশার সাথে জড়িত ছিলাম। এক সময় মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু আজ এগুলো নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ালেও কেউ নিতে চায় না। এয়াড়াও বর্তমানে বাজারে উৎপাদিত পন্যের মূল্য ও প্রয়োজনীয় উপকরনের মূল্যের মধ্য রয়েছে বিশাল ব্যবধান। এ কারনেও অনেকেই দীর্ঘ দিনের পৈতৃক এ পেশার উপর আস্থা হারাচ্ছেন। মৃৎ শিল্পিদের অভিযোগ তাদেও প্রতি কেউ নজর রাখে না। যদি সরকারী বা বেসরকারী সংস্থা তাদেও সহজ শর্তে ঋন দিত ও তাদেও উৎপাদিত দ্রব্যাদি ব্যবহারের ব্যাপারে সাধারন মানুষকে উৎসাহিত করত তাহলে তাদের পেশার প্রসার ঘটত।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মনোজ পাল সাংবাদিককে জানান “অনেক এনজিও গেরামে আসে কিস্তি দেওয়ার কথা বলে ছবি লিয়ে যায় কিন্তু পরে আর খোঁজ লেয় না”। আগে কাজ করতে মূলধনের প্রয়োজন হত না কিন্তু বর্তমানে মূলধনেরপ্রয়োজন। যদি সহজ শর্তে ঋনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে মৃৎ শিল্পীরা তাদের পূর্ব পুরুষের পেশায় টিকে থেকে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করতে পারত বলে মনে করেন জয়পুরহাটের কুমার সম্প্রদায়।